এসএসসি-বাংলা প্রথম পল্লিসাহিত্য
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ [১৮৮৫–১৯৬৯]
লেখক সম্পর্কিত তথ্য
মৃত্যু : ১৩ই জুলাই, ১৯৬৯ সালে, ঢাকায়।
শিক্ষাজীবন : ১৯১০ সালে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে বিএ অনার্স পাস করেন। তিনি ১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন এবং প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা এবং ডি.লিট. ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন : অধ্যক্ষ ও রিডার, প্রভোস্ট অধ্যাপক, আইনজীবী, সম্পাদক, ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগ ইত্যাদি।
সাহিত্য জীবন : সাধারণ পরিচয় ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে। এ ছাড়া তিনি অভিধান বিশেষজ্ঞ ও লোকসাহিত্য গবেষক।
উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ : সিদ্ধা কানুপার গীত ও দোহা, বৌদ্ধ মর্মবাদীর গান, বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা সাহিত্যের কথা (দুই খণ্ড), বাংলা ব্যাকরণ।
শিশুতোষ গ্রন্থ : শেষ নবীর সন্ধানে, ছোটদের রসুলুল্লাহ, সেকালের রূপকথা।
অনুবাদগ্রন্থ : দীওয়ানে হাফিজ, অমিয় শতক, রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম, বিদ্যাপতি শতক।
সংকলন ও সম্পাদনা : আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, আঙুর (শিশু পত্রিকা)।
পুরস্কার ও সম্মাননা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইমেরিটাস প্রফেসর পদ লাভ। পাকিস্তান সরকারের প্রাইড অব পারফরম্যান্স, ফরাসি সরকার কর্তৃক নাইট অব দি অর্ডারস অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স পদক লাভ।
প্রবন্ধ সম্পর্কিত তথ্য
উৎস ও পরিচিতি: ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি একটি অভিভাষণ। ১৯৩৮ সালে পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র অধিবেশনে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সভাপতির বক্তব্যে এ ভাষণটি দেন। তারই পুনর্লিখিত রূপ ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি। পরে রচনাটি ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়।
মূলবক্তব্য: শহরের মতো আমাদের পল্লিগ্রামেও সাহিত্যের অভাব নেই। ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ বা ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ই সে সাক্ষ্য বহন করে। আমাদের গল্প-উপকথা, প্রবাদবাক্য, ছড়া, বুলি, ঘুমপাড়ানি গান, জারি-সারি-ভাটিয়ালি-রাখালি-মারফতি গান প্রভৃতি অমূল্য সম্পদ। অনাদরে-অবহেলায় এগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। উপযুক্ত গবেষক ও আগ্রহী সাহিত্যিকের উদ্যোগে এগুলো সংগৃহীত হওয়া প্রয়োজন।
রূপশ্রেণি: ‘পল্লিসাহিত্য’ রচনাটি একটি প্রবন্ধ। এটি লেখকের একটি অভিভাষণের পরিমার্জিত রূপ।
গদ্যরীতি: রচনাটিতে চলিত গদ্যরীতি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ভাষা প্রাঞ্জল ও সাবলীল।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন–১. পল্লিগ্রামের চারিদিকে কোন কোন পাখির কলগান শোনা যায়?
উত্তর: পল্লিগ্রামের চারিদিকে কোকিল, দোয়েল, পাপিয়া প্রভৃতি পাখির কলগান শোনা যায়।
প্রশ্ন–২. পল্লির কোথায় কোথায় সাহিত্য ছড়িয়ে আছে?
উত্তর: পল্লির ঘাটে-মাঠে পল্লির আলো-বাতাসে পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে।
প্রশ্ন–৩. ‘মৈমনসিংহ গীতিকা‘ কে সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর: মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেছেন চন্দ্র কুমার দে।
প্রশ্ন–৪. কে ময়মনসিংহের মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন?
উত্তর: সুদূর পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোঁমা রোঁলা ময়মনসিংহের মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন।
প্রশ্ন–৫. ‘আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ‘ কী?
উত্তর: ‘আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ একটি আরব্য উপন্যাস।
প্রশ্ন–৬. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে কী হারিয়ে যাচ্ছে?
উত্তর: আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে পল্লির উপকথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন-৭. এখনকার শিক্ষিত জননী সন্তানকে কোন গল্পের অনুবাদ শোনান বলে লেখক বলেছেন?
উত্তর: এখনকার শিক্ষিত জননী সন্তানকে গল্পের ‘Lamb’s Tales from Shakespeare’ অনুবাদ শোনান বলে লেখক বলেছেন।
প্রশ্ন–৮. আমেরিকার বড় বড় বিদ্বানদের সভাকে কী বলা হয়?
উত্তর: আমেরিকার বড় বড় বিদ্বানদের সভাকে ‘Folklore Society’ বলা হয়।
প্রশ্ন–৯. কোথায় কত যুগের ভূয়োদর্শনের পরিপক্ক ফল সঞ্চিত আছে?
উত্তর: প্রবাদ বাক্য এবং ডাক ও খনার বচনে কত যুগের ভূয়োদর্শনের পরিপক্ক ফল সঞ্চিত আছে।
প্রশ্ন–১০. ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর‘ প্রবাদ বাক্যটি কোন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়?
উত্তর: ‘পিড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদ বাক্যটি সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যখন পান্ডূয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল।
প্রশ্ন–১১. ফুটবল, ব্যাটবলের আগে কোন খেলার খুব ধুম ছিল?
উত্তর: ফুটবল, ব্যাটবলের আগে কপাটি খেলার খুব ধুম ছিল?
প্রশ্ন–১২. কোন গানগুলো এখন বর্বর চাষার গান বলে ভদ্র সমাজে আর বিকায় না?
উত্তর: পল্লিগানগুলো এখন বর্বর চাষার গান বলে ভদ্র সমাজে আর বিকায় না।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন–১. পল্লিসাহিত্যকে গবেষণাধর্মী বিষয় বলা হয় কেন?
উত্তর: পল্লিসাহিত্য শুধু পল্লির রূপকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেটি সমগ্র বাঙালি জাতির প্রকৃত পরিচয় বহন করে বলে একে গবেষণাধর্মী বলা হয়।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক পল্লিসাহিত্য নিয়ে সবাইকে গবেষণা করার জন্য আগ্রহী করে তোলার প্রয়াস চালিয়েছেন। পল্লিসাহিত্যের মধ্যে পল্লির মানুষের জীবনাচরণের সাথে সাথে রয়েছে বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়। এজন্য পল্লিসাহিত্যকে গবেষণাধর্মী বলা হয়।
প্রশ্ন–২. প্রবাদ আমাদের জীবনে কীভাবে জড়িয়ে আছে?
উত্তর: প্রবাদ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রবাদ পল্লিসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যুগ যুগ ধরে মানুষ প্রাত্যহিক জীবনের কথাবার্তায় প্রবাদ ব্যবহার করে আসছে। প্রবাদ আমাদের বাকপটুতা ও চিঙ্কর্ষের দীপ্তিকে প্রকাশ করে। শুধু কথার মধ্যেই প্রবাদের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কথাসাহিত্যের শৈল্পিক উপস্থাপনায় প্রবাদ-প্রবচন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সংলাপ ও সুভাষিত বাক্য বিন্যাসে প্রবাদের যুক্তিপূর্ণ ব্যবহার সাহিত্যের শিল্পগুণ বৃদ্ধি করে, রচনাকে পাঠকপ্রিয় করে তোলে। এজন্য আমাদের প্রাত্যহিক জীবন এবং শিল্পমণ্ডিত সাহিত্যচর্চার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে প্রবাদ আমাদের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
প্রশ্ন–৩. পল্পির উপকথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে কেন?
উত্তর: আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতের ফলে পল্লির উপকথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এখনকার শিক্ষিত জননীরা সন্তানদের পল্লিগ্রামের রাখালের পিঠার কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা এখন আর শোনান না। তাদেরকে শোনান আরব্য উপন্যাসের গল্প বা Lamb’s Tales from Shakespeare-এর গল্পের অনুবাদ। আধুনিক শিক্ষার ফলে এসব পল্লি উপকথাগুলো চাষা ভোষার গল্প বিবেচনায় হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন–৪. Folklore Society-এর কাজগুলো বর্ণনা করো।
উত্তর: Folklore Society-এর কাজ হচ্ছে উপকথাগুলো সংগ্রহ করে অন্য সভ্য দেশের উপকথার সঙ্গে সাদৃশ্য বিচার করা। ইউরোপ ও আমেরিকায় বড় বড় বিদ্বানদের সভার নাম হলো Folklore Society। এই সংগঠনের কাজ হলো লোকমুখে প্রচলিত সব উপকথাগুলো সংগ্রহ করা। তারপর অন্য সভ্য দেশের উপকথার সাথে এসব উপকথার সাদৃশ্য আছে কি না তা বিচার করা।
প্রশ্ন–৫. পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে পল্পিগানগুলোকে ‘অমূল্য রত্ন’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: পল্লিগানগুলোকে পল্লিসাহিত্যের অমূল্য রত্ন বলার কারণ হলো এসব গানের জড়িয়ে আছে কত প্রেম, কত আনন্দ, কত সৌন্দর্য এবং কত তত্ত্বজ্ঞান। পল্লির এ গানগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে গ্রামের সহজসরল মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না। জারি গান, ভাটিয়ালি গান, রাখালি গান, মারফতি গানের অফুরন্ত ভাণ্ডার পল্লির মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে আছে। এজন্য এগুলোকে পল্লিসাহিত্যের সম্পদ আখ্যায়িত করে ‘অমূল্য রত্ন’ বলা হয়েছে।
প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর খুঁটিনাটি
• ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধ অনুসারে শহরের নানা আকর্ষণীয় বস্তুর যে অভাব গ্রামীণ জীবনে অনুভূত হয় তার অভাব পূরণ করে পাখির গান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর শব্দ, শ্যামল-শস্য প্রভৃতি।
• দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহের মাধ্যমে দেখিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য খনি যা পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে আছে।
• এখনকার শিক্ষিত জননী সন্তানকে আর শোনান না-রাখালের পিঠা গাছের কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা।
• ইউরোপ, আমেরিকার বড় বড় বিদ্বানদের সভাকে বলা হয়- Folklore Society.
• বিশ্বকোষের মতো কয়েক বালামে সংকুলান হতো না— বাংলাদেশের সমস্ত উপকথা এক জায়গায় জড় করলে।
• প্রবাদবাক্য এবং ডাক ও খনার বচনে খুঁজে পাওয়া যায় জাতির পুরনো ইতিহাসের অনেক গোপন কথা ।
• ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদটি এমন এক সময়ের কথা মনে করি দেয়— যখন পাণ্ডূয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল।
তথ্যকণিকা
১. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন—১০ই জুলাই, ১৮৮৫ সালে।
২. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মস্থান—পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রাম।
৩. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সংস্কৃতে বিএ অনার্স পাস করেন—১৯১০ সালে।
৪. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এমএ ডিগ্রি লাভ করেন—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
৫. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা এবং ডি.লিট ডিগ্রি অর্জন করেন—প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
৬. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে তিনি নিয়োজিত ছিলেন—সুদীর্ঘ ৩০ বছর।
৭. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন—সুপণ্ডিত এবং ভাষাবিদ।
৮. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কালজয়ী সম্পাদনা গ্রন্থ হলো—বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
৯. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় প্রকাশিত শিশু পত্রিকার নাম— আঙুর।
১০. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন—১৩ জুলাই, ১৯৬৯ সালে।
১১. পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে—সাহিত্য।
১২. ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা’সম্পাদনা করেন—ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন।
১৩. সাহিত্যরসিক রোঁমা রোঁলা মুগ্ধ হয়েছিলেন—ময়মনসিংহ গীতিকার নায়িকা মদিনা বিবির সৌন্দর্যে ।
১৪. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে—প্রাচীন উপকথাগুলো।
১৫. ইউরোপ, আমেরিকায় বিদ্বানদের সভাকে বলা হয়—Folklore Society.
১৬. “ঠাকুরমার ঝুলি’ বা ঠাকুরদার থলে’র রচয়িতা—দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
১৭. পিড়েয় বসে পেঁড়োয় খবর হলো—একটি প্রবাদবাক্য।
১৮. আধুনিক ফুটবল, ব্যাটবলের আবির্ভাবের পূর্বে—গ্রাম বাংলায় কপাটি খেলার ধুম ছিল।
১৯. বাংলা সাহিত্যে শহুরে সাহিত্যের অবদান হলো—পনেরো আনা।
২০. ‘এবার ফিরাও মোরে’ চরণটির রচয়িতা—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২১. ‘কলগান’ শব্দের অর্থ— শ্রুতিমধুর ধ্বনি।
২২. ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ প্রকাশিত হয়—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
২৩. রোঁমা রোঁলা (Roman Rolland) ছিলেন—ফরাসি দেশের সাহিত্যিক ও দার্শনিক।
২৪. রোঁমা রোঁলা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান—১৯১৫ সালে।
২৫, “দেওয়ানা’—মদিনার লোকগাঁথার প্রখ্যাত কবি মনসুর বয়াতি।
২৬. ‘আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ গল্পটির ঘটনাস্থল হলো— চীন দেশ।
২৭. ‘ফোকলোর’ কথাটির উদ্ভাবক হলেন— উইলিয়াম থমস।
২৮. দীর্ঘদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাসযোগ্য কথা বা জনশ্রুতিকে বলা হয়—প্রবাদবাক্য।
২৯. প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত মহিলা জ্যোতিষীর নাম—খনা।
৩০. অত্যাচারিত শ্রমজীবী দুঃখী মানুষের সাহিত্যকে বলে—Proletariat সাহিত্য।
৩১. ১৮৪৮ সালে সর্বপ্রথম লন্ডনে গঠিত হয়—Folklore Society।
৩২. Folklore Society নিয়োজিত—লোকসাহিত্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে।
৩৩. দেওয়ানা-মদিনার লোকগাঁথার প্রখ্যাত কবি—মনসুর বয়াতি।
৩৪. খনার বচনে প্রাধান্য লক্ষ করা যায়—কৃষি ও জলবায়ুর।
৩৫. ‘বালাম’ শব্দের অর্থ— বইয়ের খণ্ড ।
৩৬. খনার বচনগুলোর রচনাকাল আনুমানিক অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।
৩৭. পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধটির রচয়িতা—মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
৩৮. ১৯৩৮ সালে ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’ অনুষ্ঠিত হয়—কিশোরগঞ্জ জেলায়।
৩৯. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব ময়মনসিংহ’ সাহিত্য সম্মিলনী’র—একাদশ অধিবেশন।
৪০. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি হলো— ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রদত্ত একটি অভিভাষণের পুনর্লিখিত রূপ।
৪১. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে—পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক।
৪২. বাংলাদেশ এক সময় সমৃদ্ধ ছিল— অমূল্য পল্লিসাহিত্যে।
৪৩. পল্লিসাহিত্যে সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন—উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগ।
৪৪. ‘পল্লিসাহিত্য’ রচনায় মুখ্য হয়ে উঠেছে— লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রসারের ভাষা।
৪৫. পল্লিসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ আহরণ করা প্রয়োজন—বিশেষ যত্নের সাথে।
৪৬. ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ এটি একটি প্রবাদ বাক্য।
৪৭. অনেক শহরের কাছে অজানা রাজ্য—পাড়াগাঁয়ের জীবন।
৪৮. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস হলো—ঘুমপাড়ানী গান।
৪৯. বাংলার লোকগাথা ও রূপকথার রূপকার হলেন—দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
৫০. পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে অমূল্য রত্ন— গানগুলি।
৫১. আজকাল বাংলা সাহিত্যে পনেরো আনা হচ্ছে—শহুরে সাহিত্য।
৫২. ইউরোপ, আমেরিকায় আজ আদরের আসন পাচ্ছে— Poletariat সাহিত্য।
৫৩. ১৮৪৮ সালে সর্বপ্রথম লন্ডনে গঠিত হয়— Folklore Society।
৫৪. ফোকলোর কথাটির উদ্ভাবক—উইলিয়াম থমস।
৫৫. Folklore Society নিয়োজিত—লোকসাহিত্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে।
৫৬. প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত মহিলা জ্যোতিষীর নাম—খনা ।
৫৭. খনার বচনগুলো—কৃষি বিষয়ে উপদেশমূলক।
৫৮. খনার বচনগুলোর রচনাকাল আনুমানিক—অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।
গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর:
১. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতের অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কী?
ক. উপকথা খ. প্রবাদ
গ. ছড়া ঘ. পল্লিগান
উত্তর: ক. উপকথা
২. ‘কিন্তু হায়! এ কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল কই?’- মুহম্মদ শহীদুল্লাহর এ হতাশা দূর হতে পারে কীভাবে?
ক. স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে
খ. সভা-সমিতিতে যথাযথ উপস্থাপন করে
গ. ফোকলোর সোসাইটি স্থাপন করে
ঘ. জনসাধারণকে সচেতন করে
উত্তর: গ. ফোকলোর সোসাইটি স্থাপন করে
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও:
ষোল চাষে মুলা
তার অর্ধেক তুলা
তার অর্ধেক ধান।
বিনা চাষে পান।
৩. উদ্দীপকটির ধরন হলো—
গ. ডাকের কথা ঘ. লোকগাথা
উত্তর: খ. খনার বচন
৪. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কবে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই জুলাই
খ. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুলাই
গ. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই
ঘ. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জুলাই
উত্তর: খ. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুলাই
৫. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
ক. মুর্শিদাবাদ খ. চব্বিশ পরগণা
গ. উত্তর দিনাজপুর ঘ. পশ্চিম মেদিনীপুর
উত্তর: গ. উত্তর দিনাজপুর
৬. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রামের নাম কী?
ক. পেয়ারা খ. বনগাঁ
গ. কল্যাণী ঘ. কালনা
উত্তর: ক. পেয়ারা
৭. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন কলেজ থেকে বিএ অনার্স পাস করেন?
ক. কলকাতা সিটি কলেজ
খ. কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ
গ. কলকাতা বঙ্গবাসী কলেজ
ঘ. কলকাতা সংস্কৃত কলেজ
উত্তর: ক. কলকাতা সিটি কলেজ
৮. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্বে।
এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
ক. যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
খ. বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়
গ. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ঘ. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: ঘ. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
৯. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্যারিসের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা ও ডি.লিট ডিগ্রি অর্জন করেন?
ক. নানসেট বিশ্ববিদ্যালয় খ. সোরবন বিশ্ববিদ্যালয়
গ. বুর্গোইন বিশ্ববিদ্যালয় ঘ. দেকার্ত বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: খ. সোরবন বিশ্ববিদ্যালয়
১০. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন?
ক. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য খ. ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য।
গ. ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ঘ. ইসলামের ইতিহাস
উত্তর: ক. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
১১. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কোন বিষয়ে অসামান্য পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন?
ক. প্রাচীন শিল্পকলা খ. প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য
গ. প্রাচীন নৃত্যকলা ও সংগীত ঘ. প্রাচীন নৃতত্ত্ব ও লোকসাহিত্য
উত্তর: খ. প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য
১২. ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান‘ গ্রন্থটি কে সম্পাদনা করেন?
ক. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ খ. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
গ. হুমায়ুন আজাদ ঘ. সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর: ক. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
১৩. নিচের কোন পত্রিকাটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় বের হতো?
ক. আঙুর খ. কবিতা
গ. প্রগতি ঘ. সমকাল
উত্তর: ক. আঙুর
১৪. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কবে মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ১৯৬৯ সালের ১০ই জুলাই
খ. ১৯৬৯ সালের ১১ই জুলাই
গ. ১৯৬৯ সালের ১২ই জুলাই
ঘ. ১৯৬৯ সালের ১৩ই জুলাই
উত্তর: ঘ. ১৯৬৯ সালের ১৩ই জুলাই
১৫. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ঢাকা খ. রাজশাহী
গ. দিনাজপুর ঘ. বরিশাল
উত্তর: ক. ঢাকা
১৬. কোনটি নষ্ট হয়ে অতীতের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ লোপ করে দিচ্ছে?
ক. পল্লিগান খ. প্রবাদ প্রবচন
গ. ছড়াগান ঘ. রূপকথা
উত্তর: ঘ. রূপকথা
১৭. ‘Proletariat সাহিত্য বলতে লেখক কোন ধরনের সাহিত্যকে বোঝাতে চেয়েছেন?
ক. এক ধরনের রম্যরচনা
খ. অবস্থাপন্ন পল্লিবাসীর জীবনকথা
গ. নির্যাতিত শ্রমজীবীদের সাহিত্য
ঘ. বিদেশি বিপ্লবী সাহিত্য
উত্তর: গ. নির্যাতিত শ্রমজীবীদের সাহিত্য
১৮. ‘এ কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল কই‘- এ বাক্যে প্রকাশিত লেখকের হতাশার কারণ–
ক. পল্লিসাহিত্য অনাদৃত হচ্ছে বলে
খ. পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাচ্ছে বলে
গ. ফোকলোর সোসাইটি গঠিত হচ্ছে না বলে
ঘ. লোকসাহিত্যর প্রাচুর্য নেই বলে
উত্তর: খ. পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাচ্ছে বলে
১৯. প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত মহিলা জ্যোতিষী কে?
ক. মদিনা বিবি খ. রোঁমা রোঁলা
গ. বিসমার্ক ঘ. খনা
উত্তর: ঘ. খনা
২০. ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা‘- এটি কী?
ক. প্রবাদবাক্য খ. ডাক
গ.গৎ ঘ. খনার বচন
উত্তর: ক. প্রবাদবাক্য
২১. ‘আজ দরকার হয়েছে শহুরে সাহিত্যের বালাখানার পাশে গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়বাংলা ঘর তুলতে‘- এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে লেখক কোনটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন?
ক. বিদেশি সাহিত্য খ. পল্লিসাহিত্য
গ. শহুর সাহিত্য ঘ. পল্লি ও শহুরে উভয় সাহিত্য
উত্তর: খ. পল্লিসাহিত্য
২২. ফোকলোর সোসাইটি সর্বপ্রথম কত সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. ১৮৮৪ সালে খ. ১৮৮৫ সালে
গ. ১৮৬৪ সালে ঘ. ১৮৪৮ সালে
উত্তর: ঘ. ১৮৪৮ সালে
২৩. ফোকলোর সোসাইটি প্রথম কোথায় গঠিত হয়েছিল?
ক. ফ্রান্সে খ. জার্মানিতে
গ. আমেরিকায় ঘ. লন্ডনে
উত্তর: ঘ. লন্ডনে
২৪. ‘রোঁমা রোঁলা’ কার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন?
ক. কাজল রেখার খ. মহুয়ার
গ. মদিনা বিবির ঘ. বেহুলার
উত্তর: গ. মদিনা বিবির
২৫. ‘জ্যাঁ ক্ৰিস্তফ’ গ্রন্থের রচয়িতার নাম কী?
ক. রোঁমা রোঁলা খ. শেক্সপিয়ার
গ. বায়রন ঘ. মিল্টন
উত্তর: ক. রোঁমা রোঁলা
২৬. খনার বচনে প্রাধান্য লক্ষ করা যায় কোনটির?
ক. পাপ পুণ্যের খ. আয়-ব্যয়ের
গ. চরিত্রের ঘ. কৃষি ও জলবায়ুর
উত্তর: ঘ. কৃষি ও জলবায়ুর
২৭. বড় বড় বিদ্বানদের সভা আছে, যাকে বলা হয় ‘Folklore Society- কোন দেশে Folklore Society আছে?
ক. ইউরোপ, আমেরিকা খ. জাপান, ফ্রান্স
গ. চীন, এশিয়া ঘ. আমেরিকা, জাপান
উত্তর: ক. ইউরোপ, আমেরিকা
২৮. কোন কাহিনি নিয়ে রূপকথা গড়ে ওঠে?
ক. রাজা বাদশার কাহিনি খ. ভূতের কাহিনি
গ. কল্পিত অবিশ্বাস্য কাহিনি ঘ. রাক্ষস খোক্ষসের কাহিনি
উত্তর: গ. কল্পিত অবিশ্বাস্য কাহিনি
২৯. পল্লিসাহিত্যের কোন ধারাকে অমূল্য রত্নবিশেষ বলা হয়?
ক. পল্লিগীতি খ. প্রবাদ-প্রবচন
গ. মৈমনসিংহ গীতিকা ঘ. খনার বচন
উত্তর: ক. পল্লিগীতি
৩০. ‘কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার’- কোনটি?
ক. সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা
খ. লোকাসাহিত্য বিষয়ক আলোচনা
গ. লোকসাহিত্যের পরিচিতি
ঘ. লোকসাহিত্যের মূল্যায়ন
উত্তর: খ. লোকাসাহিত্য বিষয়ক আলোচনা
৩১. ‘Proletariat’ সাহিত্য বর্তমানে কোথায় আদৃত হচ্ছে?
ক. আমেরিকা খ. আফ্রিকা
গ. এশিয়া ঘ. এন্টার্কটিকা
উত্তর: ক. আমেরিকা
৩২. ‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।‘ – এটি কীসের উদাহরণ?
ক. প্রবাদবাক্য খ. খনার বচন
গ. ছড়া ঘ. বাধা বুলি
উত্তর: খ. খনার বচন
৩৩. বাংলার লোকগাথা ও রূপকথার রূপকার কে?
ক. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার খ. মনসুর বয়াতি
গ. দীনেশচন্দ্র সেন ঘ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর: ক. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
৩৪. ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’- এটা কী?
ক. প্রবাদবাক্য খ. খনার বচন
গ. পল্লিগানের কলি ঘ. উপকথা
উত্তর: ক. প্রবাদবাক্য
৩৫. ‘পল্লিসাহিত্য‘ প্রবন্ধে নিম্নলিখিত কোন স্থান ও দেশের নাম পাওয়া যায়?
ক. সিংহল, সুমাত্রা, কম্বোডিয়া
খ. লিথোয়ানিয়া, সুমাত্রা, জাভা
গ. সুমাত্রা, ওয়েলস, জাভা
ঘ. সুমাত্রা, ভারত, বার্মা
উত্তর: ক. সিংহল, সুমাত্রা, কম্বোডিয়া
৩৬. শেক্সপিয়ার বিশ্ববিখ্যাত কী হিসেবে?
ক. ঔপন্যাসিক খ. গায়ক
গ. প্রবন্ধকার ঘ. কবি ও নাট্যকার
উত্তর: ঘ. কবি ও নাট্যকার
৩৭. ‘আরব্য উপন্যাস‘ কী ধরনের সাহিত্য?
গ. উপন্যাস ঘ. গল্প
উত্তর: ঘ. গল্প
৩৮. ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’— এটি কী?
ক. প্রবাদ বাক্যে খ. ছড়া ও কবিতায়
গ. ডাক ও খনার বচনে ঘ. রূপকথায়
উত্তর: ক. প্রবাদ বাক্যে
৩৯. ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’— কোন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়?
ক. যখন গৌড় বঙ্গের রাজধানী ছিল
খ. যখন পাণ্ডূয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল
গ. যখন মুর্শিদাবাদ বঙ্গের রাজধানী ছিল
ঘ. যখন গজনী পাণ্ডূয়ার রাজধানী ছিল
উত্তর: খ. যখন পাণ্ডূয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল
৪০. ‘এক হাত বোল্লা বার হাত শিং
উড়ে যায় বোল্লা ধা তিং তিং’- এটি কী ধরনের লোকসাহিত্য?
ক. প্রবাদ-প্রবচন খ. খনার বচন
গ. বাঁধা বুলি ঘ. ছড়া
উত্তর: গ. বাঁধা বুলি
৪১. ‘পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে আছে সাহিত্যের অমূল্য খনি’– এ পথ কে দেখিয়েছেন?
ক. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ খ. মনসুর বয়াতি
গ. দীনেশচন্দ্র সেন ঘ. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর: গ. দীনেশচন্দ্র সেন
৪২. ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ নিচের কোনটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক. এক হাত বোল্লা বারহাত শিং
খ. কলারুয়ে না কেটোপাতা
গ. আপনি বাঁচলে বাপের নাম
ঘ. মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে
উত্তর: গ. আপনি বাঁচলে বাপের নাম
৪৩. নিচের কোনটি প্রবচন?
ক. তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
খ. কান্দে হাছন রাজার মন মইনারে
গ. যদি বর্ষে পৌষে, কড়ি বিকোয় তুষে
ঘ. রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পায়
উত্তর: ঘ. রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পায়
৪৪. কোনটি খনার বচন?
ক. ভরার থেকে উনো ভাল যদি ভরতে যায়
খ. নাই মামার চেয়ে কানামামা ভালো
গ. যে যায় লঙ্কা সে-ই হয় রাবণ
ঘ. গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না
উত্তর: ক. ভরার থেকে উনো ভাল যদি ভরতে যায়
৪৫. ধরি মাছ না ছুঁই পানি এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনটি?
ক. সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না
খ. আপনি বাঁচলে বাপের নাম
গ. দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই
ঘ. শক্তের ভক্ত, নরমের ঘম
উত্তর: ক. সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না
৪৬. বরের ঘরের মাসী আর কনের ঘরের পিসী’- ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধানুসারে এটিকে কী বলা হয়?
ক. খনার বচন খ. ডাকের বচন
গ. প্রবাদ-প্রবচন ঘ. সরস প্রাণের উৎস
উত্তর: গ. প্রবাদ-প্রবচন
৪৭. ঘুম পাড়ানী মাসি পিসী মোদের বাড়ি এস, খাট নেই পালং নেই চোখ পেতে বস। পাঠ্য প্রবন্ধানুসারে এটা কী?
ক. ছড়াগান খ. ঘুমপাড়ানী গান
গ. খনার বচন ঘ. ভূয়োদর্শন
উত্তর: খ. ঘুমপাড়ানী গান
৪৮. ‘পল্লিসাহিত্য‘ প্রবন্ধে ঘুম পাড়ানি গান ও ছড়া সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য ‘এগুলো সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস। কারণ এগুলো-
i. ভাষা ও ছন্দে প্রাণবন্ত
ii. অর্থ তাৎপর্যপূর্ণ
iii. বিষয়বস্তু বৈচিত্র্যপূর্ণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: খ. i ও iii
৪৯. ‘পল্লিসাহিত্য‘ প্রবন্ধে উল্লেখিত পাখির নাম–
i. দোয়েল, কোকিল
ii. কোকিল, পাপিয়া
iii. ময়না, টিয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ক. i ও ii
৫০. পল্লিসাহিত্য চর্চা ও সংরক্ষণ জরুরি। কারণ এটি –
i. আত্মপরিচয় বিধৃত করে
ii. নৃতাত্ত্বিক উপাদানে সমৃদ্ধ
iii. শতকরা সিংহ ভাগ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii
৫১. পল্লিসাহিত্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজন–
i. পল্লিসাহিত্য ব্যবহারের উপর বের করা
ii. ফোকলোর সোসাইটি গঠন করা
iii. শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ক. i ও ii
৫২. নাগরিক সাহিত্যে নেই –
i. কৃষকের কথা, জেলেদের কথা
ii. বাবুদের কথা, সাহেবদের কথা
iii. মুটে-মুজরের কথা, মাঝিদের কথা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: খ. i ও iii
৫৩. ‘কিন্তু হায়! এ কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল কই‘- পল্লিসাহিত্য সংগ্রহের কাজে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর এ হতাশা দূর হতে পারে –
i. পল্লিসাহিত্য সভার আয়োজন করে
ii. ফোকলোর সোসাইটি স্থাপন করে
iii. জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: গ. ii ও iii
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৫৪ ও ৫৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
কৃষকেরা জমি চাষের অপেক্ষায় বসে আছে। কিন্তু বৃষ্টির কোনো দেখা নাই । তারা একত্রিত হয়ে আল্লাহর কাছে মেঘ চেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘোরার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু চৈত্র মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও তারা জমি চাষ করেনি।
৫৪. উদ্দীপকটি কোন প্রবন্ধকে অনুসরণ করেছে?
ক পল্লিসাহিত্য খ. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
গ. বইপড়া ঘ. নিরীহ বাঙালি
উত্তর: ক পল্লিসাহিত্য
৫৫. উদ্দীপকের আলোকে কারা পল্লিসাহিত্যের কদর করে?
ক. স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা
খ. নেহাত সেকেলে পাড়াগাঁয়ের লোক
গ. পাড়াগাঁয়ে বেড়ে ওঠা সন্তানেরা
ঘ. পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহকরা
উত্তর: খ. নেহাত সেকেলে পাড়াগাঁয়ের লোক
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৫৬ ও ৫৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
আজকাল তরুণ প্রজন্ম বিদেশি গান ও তার আদলে গাওয়া ব্যান্ডের গানের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে। দেশজ সংস্কৃতিকে তারা ভুলতে বসেছে। বিদেশি বিভিন্ন অপসংস্কৃতি বাংলায় প্রবেশ করেছে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায়। এতে আমরা শেকড়বিহীন পরগাছায় পরিণত হচ্ছি।
৫৬. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য‘ প্রবন্ধে উল্লেখিত লোকসংস্কৃতির প্রতি কী প্রকাশ পেয়েছে?
ক. গভীর শ্রদ্ধাবোধ খ. মর্যাদাবোধ
গ. গুরুত্বারোপ ঘ. শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা
উত্তর: গ. গুরুত্বারোপ
৫৭. ‘আমরা শেকড়বিহীন পরগাছায় পরিণত হচ্ছি ’-এ উক্তিটিতে উক্ত প্রবন্ধের যে দিক ফুটে উঠেছে তা হলো—
i. ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ii. নৃতাত্ত্বিক গুরুত্ব
iii. শৈল্পিক মর্যাদা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ক. i ও ii
৫৮. ‘কলগান‘ শব্দের অর্থ কী?
ক. পাখির গুঞ্জন খ. সমবেত কণ্ঠস্বর
গ. শ্রুতিমধুর ধ্বনি ঘ. সংগীতের সুর
উত্তর: গ. শ্রুতিমধুর ধ্বনি
৫৯. ‘পরতে পরতে‘ শব্দগুচ্ছের অর্থ কী?
ক. স্তরে স্তরে খ. থোকা থোকা
গ. ঝোপা ঝোপা ঘ. সারি সারি
উত্তর: ক. স্তরে স্তরে
৬০. নিচের কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক ছিলেন?
ক. প্রমথ চৌধুরী খ. হায়াৎ মামুদ
গ. কবীল চৌধুরী ঘ. দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর: ঘ. দীনেশচন্দ্র সেন
৬১. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
ক. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ খ. চন্দ্রকুমার দে
গ. দীনেশচন্দ্র সেন ঘ. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর: ঘ. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
৬২. দক্ষিণারঞ্জন মজুমদার কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১২৮২ খ. ১২৮৪
গ. ১২৮৬ ঘ. ১২৮৮
উত্তর: খ. ১২৮৪
৬৩. ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৮৬৩ খ. ১৮৬৪
গ. ১৮৬৬ ঘ. ১৮৬৭
উত্তর: গ. ১৮৬৬
৬৪. ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ ও ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ রচনাগুলো কে সংগ্রহ করেন?
ক. চন্দ্রকুমার দে খ. চন্দ্রকুমার সিংহ
গ. চন্দ্রকুমার দাশ ঘ. চন্দ্রকুমার বৈরাগি
উত্তর: ক. চন্দ্রকুমার দে
৬৫. নিচের কোন গ্রহ্নটি দীনেশচন্দ্র সেনের মৌলিক রচনা?
ক. বীরবাহু খ. বেহুলা
গ. ছায়াময়ী ঘ. অন্নদামঙ্গল
উত্তর: খ. বেহুলা
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৬৬ ও ৬৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
‘দক্ষিণ দুয়ারি ঘরের রাজা, পূর্ব দুয়ারি তাহার প্রজা। উত্তর দুয়ারির অন্ন নাই, পশ্চিম দুয়ারির মুখে ছাই।’
৬৬. ‘পল্লিসাহিত্য‘ প্রবন্ধের আলোকে ওপরের স্তবককে কোন শ্রেণিভুক্ত করা যায়?
ক. ডাক ও খনার বচন খ. ছড়া
গ. প্রবাদ ঘ. উপকথা
উত্তর: ক. ডাক ও খনার বচন
৬৭. উক্ত শ্রেণিভুক্তির কারণ –
ক. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস খ. আনন্দ ও সৌন্দর্যের প্রকাশ
গ. হাজার বছরের ভূয়োদর্শন ঘ. শ্রমজীবী মানুষের কাহিনি
উত্তর: গ. হাজার বছরের ভূয়োদর্শন
গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন–১ : এ লেভেল পরীক্ষা শেষে মিতু মা–বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসে। গ্রামে তখন পৌষ মেলা বসেছে। মেলায় মিতু বয়াতির কণ্ঠে একটা ছিল সোনার কইন্যা, মেঘবরণ কেশ, ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কইন্যার দেশ’ গানটি শুনে বিমোহিত হয়। সে তার–মা‘কে জিজ্ঞাসা করে মা এতদিন কেন আমি এ গানগুলো শুনিনি। এ গানগুলোই তো বড় আপু খুঁজছে তার থিসিসের জন্য। আমি এবার আপুর জন্য গানগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাব।
ক. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস কোনটি?
খ. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. মিতুর এ গানগুলো না শোনার কারণটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের মিতুই যেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়া ‘পল্লি জননীর মনোযোগী সন্তান’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মায়ের ঘুমপাড়ানী গান ও খোকা-খুকির ছড়া হচ্ছে সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস।
খ. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত বলতে লেখক মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ পল্লিগ্রামের সাহিত্যকে উপক্ষো করে আধুনিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসারকে বুঝিয়েছেন। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন একসময় গ্রামের খোকা-খুকিরা বুড়োবুড়ির মুখে কতনা চমৎকার লোককথা, রূপকথা শুনে ঘুমিয়ে পড়তো। আধুনিক শিক্ষার নামে আরব্য উপন্যাস ও ইংরেজি গল্পের অনুবাদের ফলে এখন আর শিক্ষিত মায়েরা সন্তানকে রাখালের পিঠা গাছের কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা শোনান না। এজন্য আধুনিক শিক্ষার এমন স্রোতকে লেখক কর্মনাশা স্রোত বলে অভিহিত করেছেন।
গ. মিতুর এ গানগুলো না শোনার কারণ ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে উল্লিখিত আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত ও লোকগীতির যথাযথ সংগ্রহ-সংরক্ষণের অভাব।
পাঠ্য প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলার পল্লিগ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য সাহিত্যের উপকরণ। লোকগাঁথা, লোকসংগীত, রূপকথা, প্রবাদপ্রবচন, ছড়া ইত্যাদি নানারকম সাহিত্যের উপকরণ গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু সঠিক যত্ন ও গুরুত্বের অভাবে বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা এসব জানতে পারছেনা।
উদ্দীপকের মিতু ইংলিশ মিডিয়ামে এ লেভেলে পড়ছে। তার পাঠ্যসূচীতে পল্লিগ্রামের মানুষের কথা স্থান পায় না। সেখান শুধু আধুনিক বিভিন্ন গল্প, কবিতা, নাটক পড়ানো হয়ে থাকে। অথচ গ্রামের ভাটি অঞ্চলের গানের হৃদয়কাড়া আবেদন সেসব আধুনিক গানের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। গ্রামে না আসলে মিতু হয়তো ‘একটা ছিল সোনার কন্যা, মেঘ বরণ কেশ, ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কন্যার দেশ’ গানটি সম্পর্কে অজ্ঞতাই থেকে যেত।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে মিতুর মতো আগের অনেক শিক্ষার্থীর এসব গান না শোনার কারণ বর্ণিত হয়েছে। চাষা বা নিচু শ্রেণির গান হিসেবে এগুলোকে অবজ্ঞা এবং তদস্থলে আধুনিক বিভিন্ন সাহিত্যকে স্থান দেওয়াই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘ. পল্লিগানের প্রতি সচেতন মনোভাব প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের মিতুই যেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়া পল্লিজননীর মনোযোগী সন্তান। পল্লিসাহিত্যগুলো আমাদের অমূল্য সম্পদ। গ্রামবাংলার যেখানে এসব পাওয়া যাবে সেখান থেকেই এগুলো সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রে পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণে সচেতন মনোভাব পোষণ করলে এগুলো সংগ্রহের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
উদ্দীপকের মিতু পল্লিজননীর মনোযোগী সন্তান। যার ফলশ্রুতিতে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে বয়াতির কণ্ঠে ‘একটা ছিল সোনার কন্যা, মেঘ বরণ কেশ’ গানটি তাকে আকৃষ্ট করেছে। তার মাঝে আক্ষেপ তৈরি হয়েছে এতোদিন গানগুলো না শুনার। সেই সাথে বড় বোনের থিসিসের জন্য গানগুলো সংগ্রহ করবে বলেও সে মনস্থির করে ।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মিতুর মতো এমন মনোযোগী পল্লিসন্তানের প্রত্যাশা করেছে। যারা শুধু আধুনিক শিক্ষার স্রোতে গা না ভাসিয়ে পল্লিগ্রামের হারানো এসব সম্পদকে খুঁজে বের করবে। রূপকথা, ডাক ও খনার বচন, ছড়া গান, পল্লিগাঁথা, পল্লিগান ইত্যাদি যেখানেই তারা পাবে সেগুলোকে সংগ্রহ করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করবে। কারণ এসব সাহিত্যের প্রসার ও চর্চা না ঘটলে গ্রাম বাংলার মানুষের জীবনাচার ও ঐতিহ্য অগোচরেই থেকে যাবে। শুধু শহুরে জীবন সাহিত্যের উপজীব্য হয়ে উঠলে পল্লিগ্রামের অবদান লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে যাবে। তাই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উদ্দীপকের মিতুর মতো পল্লিজননীর মনোযোগী সন্তানকে চেয়েছেন।
প্রশ্ন–২ : মাঝিরটেক গ্রামে একসময় বিশাল মেলা বসত। শীত এলেই হাডুডু, নৌকাবাইচ, রশি টানাটানি, হাঁস ধরা, দৌড় প্রতিযোগিতা ইত্যাদি খেলা হতো মেলাকে ঘিরে। কিন্তু এখন সেসব কেবলই স্মৃতি। এখন সকলের হাতে হাতে ক্রিকেটের ব্যাট। রাত হলেই ব্যাডমিন্টনের আসর। আগের মতো সেই মেলা, দূরদূরান্ত থেকে লোকের আগমন এখন আর ঘটে না। সবকিছু কেমন যেন একঘেয়ে হয়ে গেছে।
ক. কোন খেলার সঙ্গে ছেলেরা বাঁধা বুলি ব্যবহার করত?
খ. ‘আজ দুঃখে-দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই’- কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের যে প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. পল্লিগ্রামে বিদেশি খেলার কী প্রভাব পড়ছে তা উদ্দীপক ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো ।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. কপাটি খেলার সঙ্গে ছেলেরা বাঁধা বুলি ব্যবহার করত।
খ. গ্রামীণ জীবনের দুর্দশা ও অবক্ষয়ে আজ সেখানে দুঃখে-দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই। শহরের যান্ত্রিকতায় মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গ্রাম ভুলে গেছে। গ্রামে আগের মতো সুখ নেই, শান্তি নেই। যেভাবে শহরের মানুষের উন্নতি হচ্ছে সেভাবে পল্লিগ্রামের উন্নতি না হওয়ায় সেখানে অভাব-অনটন ও দুঃখ-দুর্দশা লেগেই আছে। তাই আজ গ্রামীণ জীবনে প্রাণে সুখ নেই বলে এখন আর মায়েরা সন্তানদের ঘুমপাড়ানী গান শোনায় না।
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের বিদেশি খেলার প্রচলনে দেশীয় খেলার বিলুপ্তির প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে দেশের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। বিদেশি খেলার প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়ার ফলে আমার দেশীয় খেলার আজ দুর্দশা। সেসব খেলার সাথে কতরকম ছড়া কাটা হতো তা এখন স্মৃতি হতে বসেছে।
উদ্দীপকে শীতকালে গ্রামীণ মেলার ঐতিহ্যের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সে মেলায় নানারকম খেলাধুলার সুযোগ থাকত। হাডুডু, নৌকাবাইচ, রশি টানাটানি, হাঁস ধরা, দৌড় প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন রকম খেলা লোকদের আনন্দের উপকরণ ছিল। গ্রামের প্রচলিত এসব খেলা এখন খুব কমই দেখা যায়। এখন সবার হাতে ক্রিকেটের ব্যাট, ব্যাডমিন্টন, র্যাকেট বেশি শোভা পায়।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের বিদেশি খেলা উদ্দীপকের গ্রামেও প্রবেশ করেছে। ফলে গ্রামীণ খেলাগুলো হারিয়ে বিদেশি খেলার প্রচলন দেখা যাচ্ছে।
ঘ. পল্লিগ্রামে বিদেশি খেলার প্রচলনে দেশীয় খেলা বিলুপ্তির প্রভাব পড়েছে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে আমাদের দেশে বিদেশি খেলার নেতিবাচক প্রভাব প্রসঙ্গায়িত করা হয়েছে। আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলা এখন আর নেই। বিদেশি খেলার প্রভাবে সেগুলো এখন হারাতে বসেছে। উদ্দীপকেও বিদেশি খেলার প্রভাব লক্ষণীয়। সেখানকার গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মেলা হতো। সে মেলায় হাডুডু, নৌকাবাইচ, রশি টানাটানি, হাঁস ধরাসহ নানা ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু এখন এ খেলাগুলো কেবলই স্মৃতি। বিদেশি ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলা সেই গ্রামেও এখন জনপ্রিয় হয়ে পড়েছে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক আমাদের দেশের খেলাধুলায় বিদেশি প্রভাবের কুফল তুলে ধরেছেন। লেখক বলেছেন, এক সময় খেলাধুলার কত বাধা বুলি ছিল। যখন ফুটবল, ব্যাটবলের নামও কারো জানা ছিল না। তখন কপাটি খেলার বেশ ধুম ছিল। সে খেলার সঙ্গে ছেলেরা বাঁধা বুলি ব্যবহার করত- ‘এক হাত বোল্লা বার হাত শিং উড়ে যায় বোল্লা ধা তিং তিং।‘ কিন্তু এসব এখন আর চোখে পড়ে না। কারণ বিদেশি খেলার প্রচলনে এগুলো লোপ পেতে শুরু করেছে।
উদ্দীপকেও বিদেশি খেলার প্রভাবে গ্রামের চিরাচরিত খেলাগুলো হারানোর চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন–৩ : লুধুয়া বাজারের পাশেই বিশাল মেঘনা নদী। নদীর বুকে ছোট বড় অসংখ্য নৌকা মাছ ধরে যাচ্ছে। মাছ ধরা শেষে রুপালি ইলিশ নিয়ে সারি সারি নৌকাগুলো গায়ের ছোট খালে ঢুকে। নৌকার মাঝিদের কণ্ঠে থাকে আনন্দের গান আর নানারকম খুশি–হর্ষের ধ্বনি। ঘাটে এসে মাছগুলো নামাতেই গ্রামে খুশির জোয়ার আসে। সে এক অন্যরকম উৎসব।
ক. পাড়াগাঁয়ে কীসের উপকরণ ছড়িয়ে আছে?
খ. পল্লিগ্রামে শহরের গায়ক, বাদক, নর্তকের অভাব কীভাবে পূরণ হয়?
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি কীভাবে সাহিত্যে স্থান দেওয়া যায়? ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. পাড়াগাঁয়ে সাহিত্য ও সাহিত্যের উপকরণ ছড়িয়ে আছে।
খ. পল্লিগ্রামে শহরের গায়ক, বাদক, নর্তকের অভাব পূরণ হয় প্রকৃতির নির্মল বিনোদনের মাধ্যমে। পল্লিগ্রামে শহরের মতো গায়ক, বাদক ও নর্তক নেই। তবে সেখানে প্রকৃতির যে বিনোদন রয়েছে তা শহরে নেই। সেখানে চারিদিকে কোকিল, দোয়েল পাপিয়া প্রভৃতি পাখির কলতান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর শব্দ, শ্যামল শস্যের বাগময় হেলাদুলা প্রচুর পরিমাণে পরিলক্ষিত হয় । প্রকৃতির এসব উপকরণ পল্লিগ্রামে শহরের গায়ক, বাদক, নর্তকের অভাব পূরণ করে দেয়।
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের পল্লির মাঝিদের খুশির গানের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লিগানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। গ্রামের জেলেরা পল্লির ঘাটে ঘাটে আনন্দচিত্তে নানা রকম গান ধরে। সে গানগুলোও পল্লিসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। উদ্দীপকের জেলেরা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে তারা নদীতে রুপালি ইলিশ ধরে। মাছধরা সে নৌকাগুলো সারিবদ্ধ হয়ে গ্রামে প্রবেশ করে। তখন জেলেদের কণ্ঠে থাকে নানা রকম খুশির গান। যে গানগুলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে উদ্দীপকের এই গানগুলোকে অমূল্য রত্ন বলা হয়েছে। পল্লির পথেপ্রান্তরে এমন জারি, সারি, ভাটিয়ালি গান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এসব গানগুলো সংরক্ষণের কথা আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পল্লির জেলেদের মাছধরা ও খুশির গানের বিষয়টি আমাদের গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হিসেবে সাহিত্যে স্থান দেওয়া যায়।
প্রাবন্ধিক পল্লিগ্রামকে সাহিত্যের বড় উপকরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানকার মানুষের জীবনচিত্র সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে পারে বলে সেগুলো সাহিত্যে স্থান দেওয়ার উপযোগিতা তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের বিষয়টি বাংলার গ্রামীণ জেলেদের অকৃত্রিম জীবনচিত্রের প্রতিচ্ছবি। যে জেলেরা নদীতে রুপালি ইলিশ ধরে সারি সারি নৌকা নিয়ে। মাছ ধরা শেষে তারা যখন ঘাটে ফেরে তখন তাদের কণ্ঠে থাকে নানা রকম খুশির গান। এসব গানগুলো আমাদের গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্যের পরিচায়ক। জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্যও পল্লির সংস্কৃতিরই অংশ।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের মূলকথা হলো গ্রামীণ জীবনকে সাহিত্যে স্থান দেওয়া। প্রাবন্ধিক মনে করেন গ্রামে সাহিত্যের অনেক উপকরণ রয়েছে। শহরের যান্ত্রিক জীবন জটিল ও ব্যস্ত হওয়ায় গ্রামের খবর খুব কমই জানা হয়ে থাকে। অথচ পল্লির পথে ঘাটে অবহেলায় পড়ে রয়েছে আমাদের সংস্কৃতির অনেক মূল্যবান সম্পদ। সে সম্পদকে সংগ্রহ, সংরক্ষণ করতে পারলে শহরের মানুষেরাও তা থেকে ঐতিহ্য সচেতন হতে পারবে।
উদ্দীপকের জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ও খুশির গান আমাদের শহরের নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। অথচ এই জেলেদের কল্যাণেই আমরা রুপালি ইলিশ পাই। কিন্তু অজানাই রয়ে যায় এর পেছনের রোমাঞ্চকর চিত্র।
তাই উদ্দীপকের বিষয়টি পল্লিসাহিত্যে স্থান দিয়ে আমাদের সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করা যায়।
প্রশ্ন–৪ : লোক–সাহিত্য লোক–সংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায় । তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয় কলরব‘ বলে আখ্যায়িত করেছেন। লোক–সাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনি, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধাঁ ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়। সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে। এগুলো সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
ক. Proletariat সাহিত্য কী?
খ. আধুনিক শিক্ষার স্রোত পল্পি সাহিত্য বিস্তৃতির অতলগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে কেন?
গ. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর সঙ্গে উদ্দীপকের বক্তব্যের তুলনা করো।
ঘ. ‘পল্পি সাহিত্য আমাদের সাহিত্যের অমূল্যসম্পদ।’- ‘পল্লি সাহিত্য’ প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের আলোকে বিচার করো।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. Proletariat সাহিত্যে হলো অত্যাচারিত শ্রমজীবী দুঃখী মানুষের সাহিত্য।
খ. আধুনিক শিক্ষার প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং পল্পি সাহিত্যের প্রতি অবহেলার কারণে পল্লিসাহিত্য বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় পরিবারের গুরুজনেরা শিশুদের পল্লিসাহিত্যের নানা লোককাহিনি, ছড়া, গান ইত্যাদি শোনাতেন। কিন্তু আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক সময়ে বিদেশি সাহিত্যের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে। পল্লিসাহিত্যের সেই উপকরণগুলো এখনকার শিশুদের ততটা শেখানো হয় না। এভাবেই আধুনিক শিক্ষার সর্বনাশা স্রোতে পল্লিসাহিত্য বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।
গ. পল্লিসাহিত্যের সৌন্দর্য, উপযোগিতা ও বিষয়বৈচিত্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর সঙ্গে উদ্দীপকের বক্তব্য সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন পল্লির আলো বাতাসে, পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। তার মতে এগুলো সাহিত্যের অমূল্যখনি। এগুলো সংগ্রহ করতে পারলে বোঝা যাবে আমাদের সাহিত্যও কতটা সমৃদ্ধ। পল্লিসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উপযোগিতাও তিনি আলোচনা করেছেন প্রবন্ধটিতে। তাছাড়া তিনি এখানে পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক যথা ঠাকুরমার ঝুলি, প্রবাদ, ডাক ও খনার বচন, লোকগীতি ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
উল্লিখিত উদ্দীপকেও পল্লিসাহিত্যকে বলা হয়েছে লোকসংস্কৃতির জীবন্ত ধারা; সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পল্লিসাহিত্যকে বলেছেন, ‘জনপদের হৃদয় কলরব’। এই বক্তব্য ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের মন্তব্যকে সমর্থন করে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে যেমন পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন শ্রেণি বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে উদ্দীপকে তেমনি লোকসাহিত্যের ৮টি ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। আর এভাবেই উদ্দীপকের বক্তব্য ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ. পল্লিসাহিত্যগুলো যে আমাদের সামগ্রিক সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ তার উল্লেখ রয়েছে পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধ এবং উল্লিখিত উদ্দীপকে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখকের মতে পল্লিসাহিত্যগুলো আমাদের সাহিত্যের অমূল্য খনি। এগুলোর মধ্যে আমাদের জাতীয়তার অনেক বিষয় লুকিয়ে আছে। লেখকের মতে, ‘আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ’-এর চেয়ে পল্লির উপকথাগুলোর মূল্যকম নয়। খনার বচনে কত যুগের ভূয়াদর্শনের ফল সতি আছে। রূপকথা, পল্লিগাথা, ছড়া প্রভৃতি দেশের আলােবাতাসের মতো সকলের সাধারণ সম্পত্তি।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে যেমন- পল্লি সাহিত্যকে অমূল্য বলা হয়েছে তেমনি উল্লিখিত উদ্দীপকেও এগুলোর মূল্য স্বীকার করা হয়েছে। উদ্দীপক অনুযায়ী লোকসাহিত্য লোক-সংস্কৃতির জীবন্ত ধারা। তাইতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয় কলরব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। লোকমুখে প্রচলিত এসকল সাহিত্য উপাদান যে আমাদের সাহিত্যের অমূল্য সংযোজন তারও উল্লেখ আছে উদ্দীপকে।
উপযুক্ত আলোচনায় আমরা দেখলাম প্রাবন্ধিক তার প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উপযোগিতা ব্যক্ত করে এসকল সাহিত্য যে কত অমূল্য তার সমর্থন জানিয়েছেন। আর উদ্দীপকে তো সরাসরি বলায় আছে যে, এগুলো সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাইতো ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধ ও আলোচ্য উদ্দীপকের আলোচ্য মন্তব্য নিঃসন্দেহে যথার্থ।
প্রশ্ন–৫ : শহুরে মেয়ে কাবেরী দীর্ঘদিন পর গ্রামে দাদুর বাড়িতে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা দেখতে গেছে। মেলায় বয়াতির গানের আসর বসেছে। বয়াতি দরদ দিয়ে গাইছে, ‘হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, পাখিটি ছাড়িল কে…।‘ কাবেরী মুগ্ধ হয়ে শোনে। গানের সুর ও বাণী তাকে বিমোহিত করে। সে তন্ময় হয়ে দাদুকে বলে— বয়াতির গানের মত এত সুন্দর গান আমরা শহরে কখনো শুনি না কেন?
ক. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখকের মতে শহুরে সাহিত্য কয় আনা?
খ. পল্লি গানগুলো অমূল্য ‘রত্নবিশেষ’-কেন?
গ. কাবেরী এতদিন বয়াতির মত গান শহরে শোনে নাই কেন? ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধ অবলম্বনে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. কাবেরীর মত শহুরে মেয়েদের কাছে পল্লিসাহিত্যের কদর বাড়ানোর জন্য কী করা যেতে পারে? — যুক্তি দাও।
৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখকের মতে শহুরে সাহিত্য পনেরো আনা।
খ. পল্লির গানগুলো যুগ যুগ ধরে লালিত পল্লিমানুষের জীবনালেখ্য বলে এগুলো আমাদের অমূল্য রত্নবিশেষ।
পল্লিজীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পল্লিগানগুলো বহু যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে। গানগুলোর কথায়, সুরে এবং গায়কিতে কত প্রেম, কত আনন্দ, কত বেদনা, কত সৌন্দর্য, কত তত্ত্বজ্ঞান ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তার তুলনা নেই। পল্লির প্রকৃতি, জীবন এবং মানুষের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও দর্শনের প্রকাশ ঘটে এসব গানে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জারি, সারি, বাউল, কীর্তন, ভাটিয়ালি, রাখালি, মারফতি, মর্শিদি, কবিগান, পালাগান ইত্যাদি বিচিত্র রকমের গান। বৈচিত্র্যপূর্ণ এ বিপুল সংগীত ভাণ্ডারের তুলনা সারা পৃথিবীতে নেই। অমূল্য রত্নের মতোই এগুলো আমাদের নিজস্ব সম্পদ।
গ. উদ্দীপকে চৈত্রসংক্রান্তির মেলায় বয়াতির গান শুনে কাবেরীর যে অনুভূতি ও উপলব্ধির কথা ব্যক্ত হয়েছে তা ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের মাঝেও লক্ষ করা যায়।
শহুরে সংস্কৃতির প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পল্লিগানগুলো। শহুরে মানুষের কাছে বয়াতির গানের মতো পল্লিগানগুলোর সমাদর না থাকায় এগুলো পল্লিতেই চর্চিত ও গীত হচ্ছে। পল্লির মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, জীবন-যাপন নিয়ে পল্লির কবিদের বাণী দিয়ে সাজানো বলে এ গানগুলো পল্লির শিল্পীদের কণ্ঠে অনেক দরদের সঙ্গে পরিবেশিত হয়, যা শহরে একেবারেই দুর্লভ। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধ পাঠে জানা যায়, পল্লির সরস প্রাণের জীবন্ত গানগুলোকে শহরের মানুষেরা বর্বর চাষার গান বলে বিবেচনা করার কারণে তা আর ভদ্র সমাজে সমাদৃত হয় না। এ ছাড়া শহুরে গানের কৃত্রিম জৌলুস ও ঝংকারের আড়ালে পল্লির সহজ-সরল গানগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে পল্লির অশিক্ষিত মানুষের গানগুলো নিয়ে পল্লির আনাচে-কানাচেই নিত্য আসর বসতে দেখা যায়।
উদ্দীপকের কাবেরী এরকমই এক অকৃত্রিম গানের আসর আবিষ্কার করে। দীর্ঘদিন পর গ্রামে গিয়ে এক চৈত্রসংক্রান্তির মেলায় বয়াতি দরদভরা কণ্ঠে গাইছিলেন- ‘হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ…।’ শহরে বসবাসরত কাবেরী সে গানের সুর ও বাণীতে বিমোহিত হয়। কেননা শহরে বসবাসরত কাবেরীদের পক্ষে এসব অকৃত্রিম দরদভরা গান শোনা। সচরাচর সম্ভব হয়ে ওঠে না।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত কাবেরীর অভিজ্ঞতায় পল্লিগানের ঐশ্বর্য ও বিলুপ্তির পরিচয় পাওয়া যায়, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধেও তা আলোচিত হয়েছে।
উদ্দীপকের কাবেরী দীর্ঘদিন শহরে বসবাসের কারণে পল্লিসাহিত্যের সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন। তার মতো শহুরে মেয়েদের কাছে পল্লিসাহিত্যের কদর বাড়ানোর জন্য পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণ ও তার চর্চা বাড়াতে হবে সর্বস্তরে প্রাবন্ধিকের অভিমত সেরকমই। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক পল্লিসাহিত্যের উৎস, এর বিচিত্র প্রকরণ, গুরুত্ব ও অবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এ রচনার আলোকে সৃষ্ট উদ্দীপকে প্রবন্ধের একটি দিকের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। পল্লির এক মেলায় শুনতে পাওয়া বয়াতির দরদ ভরা গান শহরবাসী এক তরুণীকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। এসব গান শহরে শুনতে না পাওয়ার আক্ষেপও ব্যক্ত হয়েছে উদ্দীপকে।
উদ্দীপকে বয়াতির অকৃত্রিম গানে শহরে তরুণীর মুগ্ধতা পল্লিসাহিত্যের ঐশ্বর্যের পাশাপাশি এর সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। প্রবন্ধে লেখক শহরে সাহিত্যের বালাখানার পাশে পল্লিসাহিত্য গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। লেখক এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন পল্লিসাহিত্যের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে। আমরা যদি শহুরে মানুষের কাছে পল্লি সাহিত্যকে উপযুক্তভাবে তুলে ধরি, তবে এর কদর বৃদ্ধি করা সম্ভব।
এজন্য গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে পল্লিসাহিত্য প্রচারের লক্ষ্যে। এসব সংরক্ষণ ও প্রচারের কাজে সরকারের উদার পৃষ্ঠপোষকতা থাকতে হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহের মতো ফোকলোর সোসাইটি গঠন করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে কাবেরীর মতো শহুরে মানুষদের কাছে পল্লিসাহিত্যকে জনপ্রিয় করে তোলা।
প্রশ্ন–৬ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অঞ্চলভিত্তিক লোকজ সাহিত্যের গবেষক আদনান মাসুদ রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞলে কাজ করেন। ওই অঞ্চলে তিনি দুই–তিনজন লোক কবির সন্ধান পেলেন যাদের সৃষ্টির খবর কারো জানা নেই। আদনান মাসুদ তাদের কয়েকটি লোকগাঁথা সংগ্রহ করে সাভারে নিয়ে এসেছেন। ওই গাঁথাগুলো নাট্যরূপ দিয়ে তিনি মিডিয়ায় প্রচার করার উদ্যোগ নিলেন।
ক. ‘ময়মনসিংহ গীতিকায়’ মদিনা বিবির গীতিকায় সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন কোন সাহিত্যিক?
খ. “পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের আদনান মাসুদের কাজের মধ্যে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘পল্লিসাহিত্য সংগ্রহের এ প্রচেষ্টা মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়ার আংশিক প্রতিফলন’- উক্তিটি প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।
৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ময়মনসিংহ গীতিকায় মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোঁমা রোঁলা।
খ. পল্লির প্রত্যেক পরতে সাহিত্যে ছড়িয়ে আছে বলতে পল্লির আনাচে কানাচে যে সাহিত্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে। আমাদের দেশের গ্রামগুলো পল্লিসাহিত্যের প্রধান উৎস। পল্লির মাঠে-ঘাটে, আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পল্লিসাহিত্য। আমরা যেমন বাতাসের সাগরে ডুবে ভুলে যাই বাতাসের সাগরে আছি, ঠিক তেমনি পল্লিসাহিত্যের অফুরন্ত ভাণ্ডারের মধ্যে থেকে ভুলে যাই যে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পল্লিসাহিত।
গ. উদ্দীপক ও ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের গুরুত্বের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। পল্লি মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পল্লিসাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বাংলা সাহিত্যের মূল শেকড় পল্লিসাহিত্যের মধ্যে প্রথিত।
উদ্দীপকে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অঞ্চলভিত্তিক গবেষক আদনান মাসুদ রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবেষণা করে দু তিনজন লোক কবির সন্ধান পান। তাদের কয়েকটি লোকগাঁথা ঢাকায় নিয়ে এসে নাট্যরূপ দিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এতে করে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
পল্লিসাহিত্যগুলো বাংলা সাহিত্যের প্রাণ। অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি এ সাহিত্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। তাই এ সাহিত্য সংরক্ষণ করা জরুরি। প্রবন্ধে লেখক এ সাহিত্যের যথাযথ চর্চা কামনা করেছেন। উদ্দীপকের আদনান মাসুদের কাজের মধ্য দিয়ে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে প্রত্যাশার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের উৎপত্তি, বিকাশ ও সংরক্ষণের বিষয়ে আলোকপাত করেছেন, যা উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে।
পল্লিসাহিত্য বাঙালির সরস প্রাণের জীন্ত উৎস। আজকের দিনে আমরা যে সাহিত্যের চর্চা করি তার উৎস পল্লিসাহিত্য থেকে। উদ্দীপকের আদনান মাসুদ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে পল্লির মূল্যবান পল্লিসাহিত্যের উপাদান খুঁজে পান এবং সেগুলোর নাট্যরূপ দিয়ে মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা করেন। পাঠ্যপ্রবন্ধের লেখকও প্রত্যাশা করেছেন যাতে পল্লিসাহিত্যগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করে সংরক্ষণ করা হয়।
পল্লির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে সাহিত্যের নানা উপাদান। এক সময় এদেশে পল্লিসাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডার ছিল, তার অংশবিশেষ এখন গ্রামাঞ্চলে আছে। সময় ও রুচির পরিবর্তনের ফলে অনাদৃত হয়ে তা আজ ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে। এখন গ্রামের লোক ছাড়া আর কেউ তার কদর করে না।
উদ্দীপকের আদনান মাসুদ তা সংরক্ষণ করে নাট্যরূপ দিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশের ব্যবস্থা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং এর মাধ্যমে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আংশিক চাওয়া প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রশ্ন–৭ : ‘খাচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।
আমি ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম পাখির পায়।‘
সিডি প্লেয়ারে গানটি শুনতে শুনতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আফসার সাহেবের চোখ ছলছল করছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর অশ্রুসিক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলোই আমাদের অস্তিত্ব। কিন্তু দিন দিন তোমরা শিকড়–বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছ। স্যারের এ অভিব্যক্তি দেখে একজন শিক্ষার্থী বলে উঠল, “স্যার, আমরা বাংলা সংসদ থেকে গ্রীষ্মের ছুটিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বিলুপ্ত প্রায় লোকসংগীতগুলো সংগ্রহ করে সিডি/ডিভিডি আকারে বাজারজাত করতে চাই।” আফসার সাহেব খুশি হয়ে বলেন, জাতির আত্মাকে বাঁচাবে তোমরাই।
ক. ‘দেওয়ানা-মদিনা’ লোকগাথার নায়িকার নাম কী?
খ. ‘নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার’—কথাটি ব্যাখ্যা করো।
গ. গান শুনে আফসার সাহেবের চোখ ছলছল করার কারণ ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘শিক্ষার্থীদের পদক্ষেপ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়াকেই তুলে ধরেছে।’—উক্তিটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।
৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘দেওয়ানা-মদিনা’ লোকগাথার নায়িকার নাম মদিনা বিবি।
খ. ‘নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার’ কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যথার্থ মনোযোগ ছাড়া পল্লিসাহিত্য সভার আয়োজন করা নিরর্থক মাত্র। বাংলায় ছিল পল্লিসাহিত্যের বিরাট সম্ভার, তার সম্পদ যৎসামান্য এখনো আছে। তবে সময় ও রুচির পরিবর্তনে এই সাহিত্য অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে। সেকেলে পাড়াগাঁয়ের লোক ছাড়া সেগুলোকে আর কেউ আদর করে না। অথচ একদিন এ পল্পিসাহিত্যের আদরের অন্ত ছিল না। বর্তমানে দিকে দিকে পল্লিসাহিত্য নিয়ে বেশ কিছু সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ সাহিত্যের দিকে পল্লিজননীর সন্তানদের মনোযোগ ছাড়া এ আয়োজন সার্থক হবে না বরং পুরো ব্যাপারটি ভুয়া ও ফাঁকিবাজিতে পরিণত হবে।
গ. উদ্দীপকের আফসার সাহেব বুঝতে পারেন সময় ও রুচির পরিবর্তনে পল্লিসাহিত্যকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না— ফলে বাঙালি শেকড়চ্যুত হয়ে পড়েছে এদিকটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধেও আলোচিত হয়েছে। ‘পল্লিসাহিত্‘ প্রবন্ধে বলা হয়েছে একসময় পল্লিসাহিত্য সাধারণ মানুষের কাছে অনেক আদরণীয় ছিল। পল্লিগ্রামে বুড়োবুড়িরা সন্ধ্যায় নাতিনাতনিদের রূপকথার গল্প শোনাতেন। কিন্তু আজকাল এ পল্লিসাহিত্য সর্বত্র উপেক্ষিত। বর্তমান সাহিত্যে পল্লির কোনো স্থান নেই, পল্লিজীবনও সেখানে অনুপস্থিত। পল্লিসাহিত্যের বিশাল সম্ভারের কঙ্কালবিশেষ অবশিষ্ট থাকলেও সময় ও রুচির পরিবর্তনে সে খোঁজ আর কেউ রাখে না।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে বলা যায়, আজকের দিনে পল্লিসাহিত্যের দুরবস্থার কথা ভেবেই উদ্দীপকের আফসার সাহেবের চোখ ছলছল করে। সিডি প্লেয়ারে সে সময়ের পল্লির গান শুনতে শুনতে তার কান্না পায়। কারণ তিনি বুঝতে পারেন এ গান আমাদের অস্তিত্ব হলেও বর্তমান সময়ে তা সর্বত্র অনাদৃত, ফলে বর্তমান প্রজন্ম এ গান সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। দিন দিন তারা শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। পল্লিসাহিত্যের এ দুরবস্থা দেখে বাংলার অধ্যাপক নিজের অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।
ঘ. গ্রামাঞ্চলে থেকে পল্লিসাহিত্যের নানা উপকরণ সংগ্রহের দিক থেকে উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের পদক্ষেপ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়াকেই তুলে ধরেছে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে আছে। কিন্তু এ অমূল্য সম্পদকে তার বুক থেকে লোকচক্ষুর গোচরে আনার মতো সংগ্রাহকের বড় অভাব এ দেশে। কেউ যদি শহুরে চোখের অগোচরে পল্লিতে আত্মগোপন করে থাকা সাহিত্য সংগ্রহ করে জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিত, তবে দেখা যেত বাংলার লেখকরাও সাহিত্য সম্পদে অনেক ধনী।
প্রদত্ত উদ্দীপকে বাংলার অধ্যাপক আফসার সাহেবের ছলছল চোখ ও আক্ষেপের কথা শুনে তাঁর শিক্ষার্থীরা তাকে সান্ত্বনা দেয়। শিক্ষার্থীরা আফসার সাহেবকে আরও বলে যে, তারা গ্রীষ্মের ছুটিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বিলুপ্তপ্রায় লোকসংগীত সংগ্রহ করবে। তারপর বাংলা সংসদ থেকে সেগুলোর সিডি/ডিভিডি করে বাজারজাত করবে। তাদের এ পদক্ষেপ প্রাবন্ধিকের চাওয়াকেই তুলে ধরেছে।
লেখক উপলব্ধি করেছেন যে, সময় ও রুচির পরিবর্তনে পল্লিসাহিত্যের কঙ্কালবিশেষও এখন ধ্বংসের পথে । নেহাত পাড়াগাঁয়ের লোক ছাড়া তার আদর কেউ করে না। তিনি হতাশ হয়ে আক্ষেপ করে বলেছেন, এমন কি কেউ আছে যে এগুলো সংগ্রহ করে তাদের অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে।
উদ্দীপকের আফসার সাহেবের শিক্ষার্থীরা প্রাবন্ধিকের এ চাওয়াকে তুলে ধরেছে। শুধু তাই নয় তারা এ সাহিত্যকে শহুরে সাহিত্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতেও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
প্রশ্ন–৮ : রহিম একজন মাঝারি গোছের কৃষক। কৈশোরে সারাদিন কাজ করার পর চাঁদনি রাতে উঠানে পল্লিগানের আসর জমাত। সবাই মগ্ন হয়ে শুনত। এটি ২৫ বছর আগের কথা। ডিশ–এন্টেনার কারণে এখন আর পল্লিগানের কদর হয় না। কেউ তাকে পল্লিগানের জন্য কোনো প্রকার উৎসাহ প্রদান করে না।
ক. দেওয়ানা মদিনার রচিয়তা কে?
খ. পল্লিগান বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘এখন রহিমকে পল্লিগানের জন্য কেউ কোনো প্রকার উৎসাহ প্রদান করে না’- উক্তিটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো। ৪
৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. দেওয়ানা মদিনার রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
খ. পল্লিমানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না নিয়ে রচিত যেসব গান পল্লির মাঠে-ঘাটে ছড়ানো রয়েছে তাকেই পল্লিগান হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পল্লিসাহিত্যের অমূল্য রত্ন হচ্ছে পল্লিগান। যখন পল্লিবাংলার প্রেম, আনন্দ, সৌন্দর্য, দুঃখ-বেদনা, ধর্মকথা, তত্ত্বজ্ঞান সুরে সুরে গাওয়া হয়, তখন তা হয়ে ওঠে পল্লিগান। বাংলার কৃষক, রাখাল, গাড়োয়ানের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মারফতি, মুর্শিদি, রাখালি নামক নানা পল্লিগান।।
গ. নাগরিক সংস্কৃতির আগ্রাসনে লোক-সংস্কৃতির ক্রমশ অবক্ষয়ের চিত্র রূপায়িত হয়েছে উদ্দীপক এবং ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে।
পল্লিসাহিত্যগুলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। এ সাহিত্যের ভেতর দিয়ে বাংলার নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ফুটে ওঠে। কিন্তু আধুনিক শিক্ষার সর্বনাশা স্রোতে মানুষের রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। সিনেমা, থিয়েটার ও শহুরে গানের প্রভাবে লোকসংগীত এখন আর ভদ্রসমাজে স্থান পায় না। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে বর্ণিত পল্পিসাহিত্যের সাম্প্রতিক দুরবস্থার এ চিত্রই উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রহিমের কৈশোর কেটেছে জৌলুসময় পল্লিগানের আসর দেখে। অথচ সময় ও রুচির পরিবর্তনে পল্লিগান আজ অনাদৃত, অবহেলিত। আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে পল্লিগান তার জনপ্রিয়তা হারিয়েছে, মানুষ নগর সংস্কৃতির মধ্যে বিনোদনের উপকরণ খুঁজে নিয়েছে।
ঘ. লোকসাহিত্যের হারানো গৌরব পুনরুজ্জীবনের জন্য যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে, যা পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
আধুনিক শিক্ষা ও শহুরে সাহিত্যের প্রভাবে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ ধারা লোকসাহিত্য আজ বিলুপ্তির পথে। অথচ এ সাহিত্য সংরক্ষণে আমাদের কোনো আয়োজন নেই, উদ্যোগ নেই, নেই কোনো সংঘবদ্ধ কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্য অবলুপ্তির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্দীপকেও পল্লিসাহিত্য অবলুপ্তির বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে পাঠ্যপ্রবন্ধের বক্তব্যের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের দুরবস্থার অনুরূপ চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে আলোচ্য উক্তিটিতে। গ্রামবাসী আসর জমিয়ে পল্লিগান শুনলেও ডিশএন্টেনার প্রভাবে এবং আধুনিক সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার কাছে তা হার মেনেছে। পল্লিসাহিত্যের অমূল্য রত্ন পল্লিগানের এমন সংকট থেকে উত্তরণের জন্য লোকগীতির গায়ক রহিম সচেতন নাগরিকদের সাহায্য তো দূরে থাকুক ন্যূনতম উৎসাহ পর্যন্ত পায় না। আধুনিকতার প্রভাবে পল্লিসাহিত্য অবলুপ্ত হলে তা সমগ্র জাতির জন্যই হবে আত্মঘাতী ও কলঙ্কজনক ঘটনা। তাই চরম অবহেলা ও বিলুপ্তির হাত থেকে সাহিত্যের এ ধারাটি রক্ষার জন্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকেই সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রশ্ন–৯ : মিসেস চৌধুরী একজন শিক্ষিত মহিলা। তিনি গর্বের সাথে বলেন, তার ছেলেকে তিনি শুধু বিদেশি সাহিত্যের গল্পই শোনান, দেশি কোনো গল্প তার ছেলের জানা নেই। প্রকৃত অর্থে, এটা গর্ব করার মতো কোনো বিষয় নয়। বরং নিজ ঐতিহ্যের সঙ্গে এ ব্যবধান একসময় অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
ক. পল্লিসাহিত্যে কাদের অধিকার সমান?
খ. জাতির পুরনো ইতিহাস কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায়?
গ. মিসেস চৌধুরীর চরিত্রে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে – ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের শিক্ষা কতখানি যৌক্তিক-‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. পল্লিসাহিত্যে হিন্দু মুসলমান সকলের অধিকার সমান।
খ. পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে গবেষণা করে জাতির পুরোনো ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। প্রাচীন যুগের অনেক তথ্য, ইতিহাসের অনেক উপকরণ পল্লিসাহিত্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে। প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া, উপকথা, গান ইত্যাদির মধ্যে ছড়িয়ে আছে জাতির প্রাচীন ইতিহাসের আভাস। এসব ছড়া-গান-উপকথা এখনো পল্লির বিভিন্ন প্রান্তে প্রচলিত আছে দাদি-নানিদের মধ্যে। এসব নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করলে জাতির পুরোনো ইতিহাসের অনেক কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে।
গ. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে একই সঙ্গে বাংলার লোকসাহিত্যের অতীত সমৃদ্ধি এবং বর্তমান বিলুপ্তির অবস্থা চিত্রায়িত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকের মিসেস চৌধুরীর চরিত্রে পল্লিসাহিত্যের বিলুপ্তি এবং তার কারণের দিকটি প্রতীয়মান।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক আক্ষেপ করেছেন যে, আমাদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ পল্লিসাহিত্যের ভাণ্ডার এখন বিলুপ্ত হবার পথে। দেশের মানুষের অবহেলা ও মানসিকতার পরিবর্তনের কারণে ঐ সাহিত্য আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন। এ যুগের শিক্ষিত মায়েরা তাদের ছেলে-মেয়েদের রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার গল্প, পঙ্খিরাজ ঘোড়া আর রাখালের পিঠাগাছের গল্প শোনান না। তার বদলে তারা শোনান বিদেশি গল্প, শেক্সপিয়রের নাটকের গল্পের অনুবাদ কিংবা আরব্য রজনীর গল্প শুনে এখনকার শিশুদের মন ভরে। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে আর বাংলার নিজস্ব পল্লিসাহিত্যের রস পৌঁছাতে পারছে না। এভাবেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে পল্লিসাহিত্য।
উদ্দীপকের মিসেস চৌধুরী তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। এদের কারণেই পল্লি-বাংলার ছড়া, প্রবাদ, গান, উপকথা হারিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতলে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে বাংলার লোকসাহিত্য হারিয়ে যাবার জন্য লেখকের যে দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়, মিসেস চৌধুরীর মধ্যে তারই বাস্তব রূপ দেখতে পাই।
ঘ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে বাংলার লোকসাহিত্য বিলুপ্তির অবস্থা বর্ণিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের মিসেস চৌধুরীর চিন্তাচেতনার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন যে, দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন বাংলার পল্লিসাহিত্য বিলুপ্তির মূল কারণ। আধুনিক যুগের শিক্ষিত মায়েরা তাদের ছেলে-মেয়েদের আর রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার গল্প শোনান না। তার বদলে মায়েদের মুখে ইংরেজ কবি ও নাট্যকার শেক্সপিয়রের নাটকের গল্পের অনুবাদ শুনেই বড় হয় এখনকার শিশুরা। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার পল্লিসাহিত্য পৌছাতে না পেরে এভাবেই বিলুপ্ত হচ্ছে দিনকে দিন।
উদ্দীপকের মিসেস চৌধুরী এ যুগের শহুরে শিক্ষিত মা। এরা ছেলেদের বড় করতে চান বিদেশি প্রভাবে। তাতে তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়লেও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায় পল্লি-বাংলার ছড়া, প্রবাদ, গান ও উপকথা। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে বাংলার লোকসাহিত্য হারিয়ে যাওয়ার জন্য লেখকের দীর্ঘশ্বাস ধ্বনিত হয়েছে।
উদ্দীপকের মিসেস চৌধুরী যে শিক্ষায় শিক্ষিতা, তা নিজেদের শেকড় আর অস্তিত্বকে ভুলিয়ে দেয়। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অনেক মূল্যবান উপাদান, যা বিশ্বসভ্যতারও অমূল্য অংশ। এ শিক্ষা তাই কোনো যৌক্তিকতা ধারণ করে না।
প্রশ্ন–১০ : বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক অমর্ত্য বাবু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আজ সময় হয়েছে আমাদের প্রাচীন সাহিত্য, রূপকথাউপকথা, খনার বচন, প্রবাদ–প্রবচন, ডাকের কথা, পল্লিগান ইত্যাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের। ছড়া, ঘুমপাড়ানী গান, খেলার জগৎ–এর মতো সাহিত্যের প্রাণবন্ত উপকরণসমূহ সংরক্ষণে এক্ষুণি উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এগুলো হারিয়ে যাবে চিরতরে।’
ক. মদিনা বিবি কোন লোকগাথার নায়িকা?
খ. ‘এগুলো আজ নৃ-তত্ত্বের মূল্যবান উপকরণ’– কেন?
গ. পল্লিসাহিত্যের বিশিষ্ট দিক চিত্রণে উদ্দীপকের অমর্ত্য বাবুর বক্তব্যের সঙ্গে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. ‘পল্লিসাহিত্যের উপকরণসমূহ সংরক্ষণে অমর্ত্য বাবুর বক্তব্য যেন ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের মূলসুর।’- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মদিনা বিবি মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত লোকগাথা ‘দেওয়ানা-মদিনা’র নায়িকা।
খ. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে গ্রামবাংলার সাহিত্যগুলোকে নৃতত্ত্বের মূল্যবান উপকরণ বলা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ছড়া ঘুমপাড়ানী গান, প্রবাদ-প্রবচন, ডাক ও খনার বচন, রূপকথা, উপকথা প্রভৃতি বাংলা লোকসাহিত্যের আদি উপাদানগুলো নৃতত্ত্বের মূল্যবান উপকরণ হিসেবে পণ্ডিত সমাজে গৃহীত। কারণ পল্লির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এ সাহিত্য কারো একক সৃষ্টি নয়, বরং তা সংহত সমাজের সামগ্রিক সৃষ্টি। এ সাহিত্যে পল্লির জনগণের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা তথা সামগ্রিক জীবনচিত্র সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। তাই এ সাহিত্য নৃতত্ত্বের মূল্যবান উপাদান।
গ. বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশই চিহ্নিত হয়েছে উদ্দীপক এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে গ্রাম-বাংলার লোকজ সাহিত্যের কথা বলা হয়েছে। এসব সাহিত্য বাঙালির অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। কেননা পল্লিসাহিত্যগুলো নানা ধরনের উপাদানে সমৃদ্ধ। এ উপাদানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে বাঙালির আবহমানকালের ঐতিহ্য অটুট থাকবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক অমর্ত্য বাবুর বক্তব্য থেকে আমরা জানতে পারি, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ধারা হলো পল্লিসাহিত্য। অপরদিকে গ্রামবাংলার ছড়া, ঘুমপাড়ানী গান, ডাক ও খনার বচন, রূপকথা, উপকথা প্রভৃতি লোক উপকরণগুলো বাংলা সাহিত্যের আদি উপাদান হিসেবে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধেও চিহ্নিত হয়েছে। অমর্ত্য বাবুর বক্তব্যের সঙ্গে প্রাবন্ধিকের বক্তব্য অভিন্ন হওয়ায় উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে।
আবার উদ্দীপকে উল্লেখিত অমর্ত্য বাবু পল্লিসাহিত্যের উপাদানগুলোকে বাংলা সাহিত্যের প্রাণবন্ত উপকরণ বলে অভিহিত করেছেন যা ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাঠ্যপ্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের উপাদানগুলোকে আনন্দরসে উচ্ছল জীবনের পরিচয় বহনকারী সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস’ বলা হয়েছে।
আবার পল্লিসাহিত্যের বর্তমান ম্রিয়মাণ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ নির্ণয়েও উদ্দীপকটি পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আলোচিত হয়েছে উদ্দীপক এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপকরণের পরিচয় তুলে ধরেছেন। পল্লিসাহিত্যের এ উপাদানগুলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। পল্লির গান, ছড়া, ধাঁধাঁ, প্রবাদ-প্রবচন, উপকথা-রূপকথা এসবই বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
উদ্দীপকে পল্লিসাহিত্যের যে উপাদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে তার সঙ্গে পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে। এ ছাড়া উভয় স্থানেই পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। পাঠ্যপ্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপকরণের পরিচয় তুলে ধরেছেন। পল্লিসাহিত্যের এ উপাদানগুলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লক্ষ করা যায়, এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত আধুনিক মানুষেরা পল্লিসাহিত্যের প্রতি উদাসীন। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ‘Folklore Society’ গুরুত্ব সহকারে পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণ করলেও আমাদের দেশে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রাবন্ধিক শহীদুল্লাহ সম্ভাব্য বিলুপ্তির কবল থেকে সাহিত্যের এ সমৃদ্ধ ধারাটিকে বাঁচাতে পল্লিসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে উপযুক্ত গবেষক, আগ্রহী সাহিত্যিক ও সচেতন নাগরিকদের আশু উদ্যোগ কামনা করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অমর্ত্য বাবু পল্লিসাহিত্যের গুরুত্ব অনুধাবনকারী একজন সচেতন নাগরিক। তিনি লক্ষ করেছেন পল্লিসাহিত্যের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয়বাহী পল্লিসাহিত্যের প্রাণবন্ত উপাদানগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের আশু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।