এসএসসি-বাংলা প্রথম নোট-নিমগাছ

Sharing is caring!

বাংলা প্রথম

নিমগাছ

বনফুল [১৮৯৯১৯৭৯]

পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি

লেখক সম্পর্কিত তথ্য

প্রকৃত নাম : বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

জন্ম : ১৮৯৯ সালের ১৯শে জুলাই, বিহারের পূর্ণিয়ার অন্তর্গত মণিহার গ্রামে।

মৃত্যু : ১৯৭৯ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি, কলকাতায়।

পিতা : ডা. সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়।

শিক্ষা ও পেশা : বনফুল পূর্ণিয়ার সাহেবগঞ্জ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১৮ সালে ম্যাট্রিক, হাজারীবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজ থেকে ১৯২০ সালে আই.এসসি এবং ১৯২৭ সালে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবি পাস করেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

সাহিত্যিক পরিচয় : ১৯১৮ সালে ‘শনিবারের চিঠি’তে ব্যঙ্গ-কবিতা ও প্যারোডি লিখে সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ ঘটে তার। প্রবাসী পত্রিকায় তিনি অভিনব একপাতা-আধপাতার গল্প লেখেন, যেগুলো আকারে ক্ষুদ্র অথচ বক্তব্যে তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখযোগ্য রচনা :

গল্পগ্রন্থ: বনফুলের গল্প, বনফুলের আরো গল্প, বাহুল্য, বিন্দুবিসর্গ, অনুগামিনী, তন্বী, উর্মিমালা, দূরবীন।

উপন্যাস: তৃণখণ্ড, কিছুক্ষণ, দ্বৈরথ, নির্মোক, সে ও আমি, জঙ্গম, অগ্নি।

কাব্যগ্রন্থ: বনফুলের কবিতা, ব্যঙ্গ-কবিতা, চতুর্দশপদী।

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

জীবনী নাটক: শ্রীমধুসূদন, বিদ্যাসাগর।

পুরস্কার সম্মাননা: বিভিন্ন পুরস্কারসহ তিনি ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি লাভ করেন।

গল্প সম্পর্কিত তথ্য:

উৎস পরিচিতি: ‘নিমগাছ’ গল্পটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত ‘অদৃশ্যলোক’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। এ গল্পে লেখক নিমগাছের প্রতীকের মাধ্যমে একজন গৃহকর্ম-নিপুণা বধূর জীবন-বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।

মূলকাহিনী: নিমগাছ যত্নহীনভাবে বাড়ির পেছনে আবর্জনার স্তূপে বেড়ে উঠেছে। এ গাছের ছাল, পাতা, ডাল সবই উপকারী। নিমের হাওয়া স্বাস্থ্যকর। নানারকম কবিরাজি ওষুধ তৈরিতে নিমের জুড়ি নেই। তবু কেউ যত্ন নেয় না এ গাছের। একদিন এক কবি এসে এ গাছের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। গাছের ইচ্ছে হয় অকৃত্রিম এ বন্ধুর সঙ্গে চলে যেতে। কিন্তু ততদিনে মাটির অনেক গভীরে চলে গেছে তার শিকড়।

গাছটির এ বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায় সংসারের জালে আবদ্ধ একটি লক্ষীবউয়ের জীবন বাস্তবতা। নিমগাছ যেমন নানা উপকারে আসে অথচ কেউ এর যত্ন নেয় না, গৃহকর্ম-নিপুণা বউটিরও একই দশা। সহমর্মী মানুষের আহ্বানে সাড়া দেওয়াও তার পক্ষে অসম্ভব।

গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: নিমগাছ, কবি, গৃহবধূ।

রূপশ্রেণি: ‘নিমগাছ’ একটি প্রতীকী গল্প। এ গল্পে প্রতীকের মাধ্যমে মূলবিষয়বস্তু তথা সংসারের জালে আবদ্ধ লক্ষ্মীবউয়ের জীবন বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। আঙ্গিকের দিক থেকে এ ধরনের গল্পকে সাম্প্রতিককালে অনুগল্প বলা হয়।

নামকরণ: রচনাটির নামকরণ এ গল্পের প্রতীকের ভিত্তিতে করা হয়েছে। গল্পটিতে নিমগাছ প্রতীকের মাধ্যমে মূলবিষয়বস্তু উপস্থাপন করা হয়েছে। বলে গল্পটির শিরোনাম হিসেবে ‘নিমগাছ’ যথার্থ ।

ভাষা গদ্যরীতি: গল্পটি চলিত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।

• জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর •

প্রশ্ন. বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে কারা খুশি হন?

উত্তর: বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।

প্রশ্ন. বনফুলের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: বনফুলের প্রকৃত নাম—বলাইচাদ মুখোপাধ্যায়।

প্রশ্ন. কোন পত্রিকায় লিখে বনফুল সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ করেন কীভাবে?

উত্তর: ‘শনিবারের চিঠি’তে লিখে বনফুল সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন. ‘তৃণখণ্ডবনফুলের কী ধরনের রচনা?

উত্তর: তৃণখণ্ড’ বনফুল রচিত উপন্যাস।

প্রশ্ন. কোন পদে চাকরির মাধ্যমে বনফুলের কর্মজীবন শুরু হয়?

উত্তর: মেডিক্যাল অফিসার পদে চাকরির মাধ্যমে বনফুলের কর্মজীবন শুরু হয়।

প্রশ্ন. বনফুল ভারত সরকারের কাছ থেকে কী উপাধি লাভ করেন?

উত্তর: বনফুল ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি লাভ করেন।

প্রশ্ন. কোন গাছের ছাল পাতা চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ?

উত্তর: নিমগাছের ছাল ও পাতা চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।

প্রশ্ন. কবিরাজরা কোন গাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ?

উত্তর: কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

প্রশ্ন. কার সঙ্গে চলে যেতে ইচ্ছে হলো নিমগাছের?

উত্তর: কবির সঙ্গে চলে যেতে ইচ্ছে হলো নিমগাছের।

প্রশ্ন১০. বাড়ির গৃহকর্মনিপুণা লক্ষ্মী বউটার দশা কার মতো?

উত্তর: বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউটার দশা নিমগাছের মতো।

প্রশ্ন১১. বাড়ির পেছনে আবর্জনার স্কুপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকে কে?

উত্তর: বাড়ির পেছনে আবর্জনার স্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে নিমগাছ।

প্রশ্ন১২. কবির ভাবনায় একঝাক নক্ষত্র নীল আকাশ থেকে কোথায় নেমে এসেছে?

উত্তর: কবির ভাবনায় একঝাক নক্ষত্র নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে নেমে এসেছে।

প্রশ্ন১৩. বেগুন সহযোগে কাঁচা নিমের পাতা কিসের পক্ষে ভারি উপকারী?

উত্তর: বেগুন সহযোগে কাঁচা নিমের পাতা যকৃতের পক্ষে ভারি উপকারী।

প্রশ্ন১৪. মাটির ভিতরে অনেক দুর কী চলে গিয়েছে?

উত্তর: নিমগাছটির শিকড় মাটির ভিতরে অনেক দূর চলে গিয়েছে।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন১৫. কে নিমগাছের দিকে মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়েছিল?

উত্তর: একজন কবি নিমগাছের দিকে মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন১৬. নিমগাছের কচি ডাল ভেঙে লোকজন কী করে?

উত্তর: নিমগাছের কচি ডাল ভেঙে লোকজন চিবোয়।

প্রশ্ন১৭. কবির কাছে নিমগাছের থোকা থোকা ফুল দেখতে কেমন?

উত্তর: কবির কাছে নিমগাছের থোকা থোকা ফুল দেখতে এক ঝাক নক্ষত্রের মতো।

• অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর •

প্রশ্ন. হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো। লোকটি কে এবং কেন এসেছিল?

উত্তর: নিমগাছের সুন্দর পাতা ও থোকা থোকা ফুলের বাহার দেখে অভিভূত হয়ে একজন কবি নিমগাছের কাছে এসেছিলেন। কবিরাজ তার চিকিৎসার কাজে, সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কেউ এই গাছের সামান্য যত্নও করে না। একদিন একজন কবি নিমগাছের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন এবং গাছটির কাছে এসে এর রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। সবাই নিমগাছের প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করলেও কবি এর সৌন্দর্যের দিকটির মূল্যায়ন করেন।

প্রশ্ন. নতুন লোকটা মুগ্ধদৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে রইল কেন?

উত্তর: নিমগাছের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করার জন্য নতুন লোকটা মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে তাকিয়ে রইল। প্রাত্যহিক প্রয়োজনে সবাই যে যার মতো নিমগাছটিকে ব্যবহার করে। ছাল, বাকল, পাতা কোনো কিছুই ব্যবহার করা থেকে বাদ পড়ত না। কিন্তু এতো উপকার পাওয়া সত্ত্বেও গাছটির কেউ যত্ন করত না। তবে নতুন আসা লোকটা এসবের কিছুই করেনি; নিমগাছের সৌন্দর্যে আপ্লুত হয়ে সে শুধু মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইল।

প্রশ্ন. ব্যাখা করো: শান দিয়ে বাধিয়ে দেয় কেউ সে আর এক আবর্জনা।

উত্তর: শান দিয়ে বাঁধিয়ে দিলে নিমগাছের চারপাশে আরো বেশি করে আবর্জনা জমে ওঠে। সাধারণত গাছের সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এর চারপাশে শান বাঁধানো হয়। কিন্তু শান বাঁধালে লোকে সেই শানের আড়ালে ময়লা আবর্জনা ফেলতে শুরু করে। নিমগাছের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে যে, অনেক অযত্নের মাঝেও কেউ তার চারপাশে শান বাঁধিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এর ফলাফল হয়েছে বিপরীত অর্থাৎ আরও বেশি করে তার চারপাশে আর্বজনা ফেলা হচ্ছে।

প্রশ্ন. ‘বাহ কী সুন্দর পাতাগুলিকী রূপ।‘- কথাটি বলতে লোকটি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: নিমগাছের পাতার সৌন্দর্যে মুগ্ধ লোকটি বলেছিলেন বাহ, কী সুন্দর পাতাগুলি… কী রূপ! নিমগাছ কাজে যতটা উপকারী গুণেও ততটা প্রশংসনীয়। এর পাতাগুলি এতই সুন্দর যে, থোকা থোকা ফুলের সাথে পাতাগুলোকে লোকটির কাছে সবুজ সায়র মনে হয়। পাতার সৌন্দর্যকে বর্ণনা করতেই লোকটি আলোচ্য কথাটি বলেছেন।

প্রশ্ন, বাড়ির বউটি সংসার ছেড়ে যেতে পারে না কেন?

উত্তর: সংসারের মায়াজালের কারণেই বউটি সংসার ছেড়ে যেতে পারে না। বাড়ির সবার মাঝে অবহেলিতভাবে দিন কাটায় লক্ষ্মীবউটি। কিন্তু সংসারের প্রতি মায়া জন্মে যাওয়ায় সে সংসার ছেড়ে যেতে পারে না। বাড়ির লোকেরা তার মূল্য বুঝতে না পারলেও বউটি নিজ দায়িত্ব উপলদ্ধি করে সংসার আঁকড়েই পড়ে থাকে। এ কারণে সুযোগ এলেও সে বাড়ি ছেড়ে যেতে পারে না।

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন. ‘খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে।‘- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: নিমগাছের পাতা, ছাল ইত্যাদি চর্মরোগের মহৌষধ- এ প্রসঙ্গে কথাটি বলা হয়েছে। নিমগাছের ঔষধিগুণ সম্পর্কে সবাই জানে। এর পাতা, ছাল ইত্যাদি সিদ্ধ করে, শিলে পিষে অথবা তেলে ভেজে চর্মরোগের স্থানে লাগালে সুফল পাওয়া যায়। আর তাই নিমগাছের উপকারিতা ও ব্যবহার বোঝাতে উক্তিটি করা হয়েছে।

প্রশ্ন. নিমপাতা কীভাবে আমাদের উপকারে আসে, ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: নিমপাতা তার ঔষধি গুণের সাহায্যে আমাদের নানা উপকার করে। নিমপাতায় রয়েছে জীবাণু প্রতিরোধী উপাদান যা আমাদের ত্বক ও শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। নিমপাতা বেটে গায়ে লাগালে তা খোস, দাদ, হাজা ইত্যাদি চর্মরোগ বিনাশ করে। গরম তেলে নিমপাতা ভেজে খেলে বিশেষ উপকার মেলে। কচি পাতাগুলো ভেজে বেগুন সহযোগে খেলে যকৃতের বেশ উপকার হয়।

প্রশ্ন. নিমগাছ কীভাবে দাতের উপকারে আসে?

উত্তর: দাঁতের উপকারে নিমগাছ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিমগাছের কচি ডাল দাঁতের উপকারে আসে। কচি ডাল অনেকে চিবোয়, কেউ কেউ আবার ব্রাশের মতো ব্যবহার করে। নিমের ডালেও রয়েছে জীবাণু-প্রতিরোধী উপাদান যা দাঁতের নানা অসুখ দূর করে। দাঁত পরিষ্কারক হিসেবেও এটি অনন্য।

প্রশ্ন. বাড়ির লোকগুলোর সঙ্গে নতুন ধরনের লোকটির পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আচরণগত দিকে বাড়ির লোকগুলোর সাথে নতুন ধরনের লোকটির পার্থক্য ছিল। নিমগাছটি নানাভাবে বাড়ির লোকগুলোর উপকার করলেও তারা এটিকে মোটেও যত্ন করত না। তাদের আচরণে কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল না। অন্যদিকে নতুন ধরনের লোকটি নিমগাছের কাছ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ না করেও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে। নিমগাছকে নিজের কাজে ব্যবহার না করেও সে এটির গুণের কদর করেছে।

প্রশ্ন১০. বউটির প্রতি বাড়ির লোকদের আচরণ কেমন ছিল?

উত্তর: গৃহকর্ম-নিপুণা বউটির প্রতি বাড়ির লোকেরা মোটেও মনোযোগী ছিল না। বাড়ির বউটি নিজের সব গুণ ও চেষ্টা দিয়ে সবার সেবা করত। বাড়ির সবাই তার সেবা গ্রহণ করলেও তার কদর করতে কার্পণ্য প্রকাশ করত। লক্ষ্মী এই বউটির প্রতি বাড়ির লোকেরা যথেষ্ট কৃতজ্ঞ ও মনোযোগী ছিল । অবহেলিত হয়ে সে মানসিক কষ্টে দিনাতিপাত করত।

* তথ্যকণিকা *

১. বনফুলের জন্ম তারিখ – ১৮৯৯ সালের ১৯শে জুলাই।

২. বনফুলের জন্মস্থান – বিহারের পূর্ণিয়ার মণিহার গ্রাম।

৩. বনফুলের প্রকৃত নাম – বলাইচাদ মুখোপাধ্যায়।

৪. বনফুল পেশায় ছিলেন – মেডিক্যাল অফিসার।

৫. সাহিত্য অঙ্গনে বনফুলের প্রবেশ – শনিবারের চিঠি’তে কবিতা লিখে ।

৬. বনফুলের গল্প, বাহুল্য, বিন্দুবিসর্গ, দূরবীণ ইত্যাদি – বনফুলের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

৭. বনফুলের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস – তৃণখণ্ড, দ্বৈরথ, জঙ্গম।

৮. বনফুল লাভ করেন – পদ্মভূষণ উপাধি।

৯. বনফুল দুটি জীবনী নাটক রচনা করেন – শ্রীমধুসূদন ও বিদ্যাসাগর।

১০. বনফুল মৃত্যুবরণ করেন – ১৯৭৯ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি।

১১. সিদ্ধ করে ব্যবহার করা হয় – নিম গাছের ছাল।

১২. পিষে বা ভেজে ব্যবহার করা হয় – নিমগাছের পাতা।

১৩. নিমের পাতা ব্যবহার হয় – চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ হিসেবে।

১৪. নিম অত্যন্ত উপকারী – মানুষের যকৃতের পক্ষে।

১৫. নিমের কচি ডাল চিবালে – দাঁত ভালো থাকে।

১৬. নিমগাহের প্রশংসায় পঞ্চমুখ – কবিরাজ।

১৭. বিজ্ঞরা খুশি হন বাড়ির পাশে – নিমগাছ গজালে।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

১৮. নিমগাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন কবি।

১৯. নিমগাছটি দাঁড়িয়ে রইল – বাড়ির পেছনে আবর্জনার স্তূপে।

২০. নিমগাছটিকে তুলনা করা হয় বাড়ির গৃহকর্ম নিপুণা – লক্ষ্মীবউটার সাথে।

২১. ছাল শব্দের অর্থ – বাকল।

২২. শিল পাটায় বেটে রস বের করাকে বলা হয় – শিলে পেষা।

২৩. অব্যর্থ শব্দের অর্থ – যা বিফল হবে না।

২৪. শান বাঁধানো বলতে বোঝায় – ইট ও সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো।

২৫. গাছ-গাছালি পরিশোধন করে মনুষ্যরোগের চিকিৎসা করেন – কবিরাজ।

২৬. খোস দাদ একধরনের – চর্মরোগ।

২৭. ‘মুগ্ধ’ শব্দের অর্থ – মোহগ্রস্ত বা বিল।

২৮. ‘মহৌষধ’ শব্দের অর্থ – যে ওষুধ উৎকৃষ্ট বা অব্যর্থ।

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

২৯. চর্মরোগের মহৌষধ – নিমের পাতা।

৩০. যকৃতের জন্য উপকারী – নিমের কচি পাতা।

৩১. নিমের কচি ডাল ব্যবহৃত হয় – দাঁতের যত্নে।

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

. নিমগাছের ছাল নিয়ে লোকজন কী কাজে লাগায়?

ক. সিদ্ধ করে খায়                               খ. ভিজিয়ে খায়

গ. শুকিয়ে খায়                                   ঘ. রান্না করে খায়

উত্তর: ক. সিদ্ধ করে খায়

. বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন কেন?

ক. এটা দেখতে সুন্দর                         খ. এটা উপকারী

গ. এটা পরিবেশবান্ধব                        ঘ. এটা আকারে ছোট

উত্তর: গ. এটা পরিবেশবান্ধব

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও:

গফুরের প্রিয় ষাঁড় মহেশ। প্রায় আট বছর প্রতিপালন করে সে এখন বুড়ো হয়েছে। গফুর সাধ্যমতো তার যত্ন নেয়। পরিবারের কেউ মহেশকে চায় না। কিন্তু গফুর সন্তানম্নেহে তাকে লালন করে। নিজের খাবার না খেয়ে ঘরের চাল পেড়ে মহেশকে খের্তে দেয়।

. উদ্দীপকের মহেশের সাথে যে দিক দিয়েনিমগাছগল্পের লক্ষ্মীবউয়ের সাদৃশ্য করা যায়-

i. অবদানে

ii. প্রয়োজনীয়তায়

iii. পরোপকারে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                              ঘ. i, ii ও iii 

উত্তর: খ. i ও iii

. নিমগাছের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ব্যক্তিটি কোন প্রকৃতির?

ক. উপকারভোগী                                খ. ভাবুক প্রকৃতির

গ. তীক্ষ দৃষ্টিসম্পন্ন                             ঘ. অনুসন্ধিৎসু

উত্তর: গ. তীক্ষ দৃষ্টিসম্পন্ন

. গৃহকর্ম নিপুণা লক্ষ্মী বউটি ঠিকএক দশা নিমগাছ গল্পে এক দশা শব্দটি নিমগাছ লক্ষ্মী বউকে সমর্থন করে

ক. জীবনধারায়                                   খ. উপকারী মনোভাবে

গ. প্রশংসা প্রাপ্তিতে                             ঘ. নিরহংকারী চেতনায়

উত্তর: গ. প্রশংসা প্রাপ্তিতে

. ‘মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে‘— এখানে শিকড় বলতে বোঝানো হয়েছে

ক. শিকড়ের বিস্তৃতি

খ. বউয়ের সংসারের জালে চারিদিকে আবদ্ধ হওয়া

গ. নিমগাছের বিস্তৃতি

ঘ. নিমগাছটির স্থিরতা

উত্তর: খ. বউয়ের সংসারের জালে চারিদিকে আবদ্ধ হওয়া

. ঘৃতকুমারীর নরম অংশ দিয়ে শরবত তৈরি করা হয়। এর শরবত স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

উদ্দীপকের ঘৃতকুমারীর সাথেনিমগাছগল্পের নিমগাছের যে দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে, তা হলো

ক. সৌন্দর্যের                                       খ. অবহেলার

গ. কল্যাণের                                        ঘ. আকৃতির

উত্তর: গ. কল্যাণের

.একঝাক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে, সবুজ সায়রেএখানে নক্ষত্রবলতে বোঝানো হয়েছে

ক. নিমগাছের কচি পাতাগুলোকে

খ. নিমগাছের সুন্দর রূপকে

গ. নিমগাছের ফুলের বাহারকে

ঘ. নিমগাছের কচি ডালগুলোকে

উত্তর: গ. নিমগাছের ফুলের বাহারকে

. ‘নিমগাছগল্পে লেখক মূলত প্রকাশ করতে চেয়েছেন?

ক. নিমের ঔষধি গুণের কথা

খ. পরিবেশে বান্ধব

গ. নিমগাছের প্রতি দায়িত্বহীনতা

ঘ. সমাজে গৃহিণীর বাস্তবতা

উত্তর: ঘ. সমাজে গৃহিণীর বাস্তবতা

১০. ‘নিমগাছগল্পেশিকড়কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

ক. পরোপকার খ. দায়িত্বশীলতা

গ. সাংসারিক বন্ধন ঘ. অস্তিত্ব

উত্তর: গ. সাংসারিক বন্ধন

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

১১. ‘কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ‘- লাইনটি দ্বারা কোনটি বোঝায়?

ক. নিমগাছ উপকারী

খ. এটি বাড়ির শোভাবর্ধনকারী

গ. এটি পরিবেশবান্ধব

ঘ. এটি খর্বকায়, ক্ষুদ্রাকৃতি

উত্তর: ক. নিমগাছ উপকারী

১২. নিমের কচি ডাল ভেঙে লোকেরা কী করে?

ক. চিবোয়                                           খ. খেলা করে

গ. বেত মারে                                       ঘ. মশা তাড়ায়

উত্তর: ক. চিবোয়

১৩. নিমগাছের কচি পাতাগুলো খেলে কী লাভ হয়?

ক. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

খ. চুলকানি ভালো হয়

গ. যকৃতের উপকার করে

ঘ. দাঁত ভালো থাকে

উত্তর: গ. যকৃতের উপকার করে

১৪. ‘নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না’- কে বলে?

ক. নতুন লোক                                    খ. কবি

গ. কবিরাজ                                         ঘ. বিজ্ঞরা

উত্তর: ঘ. বিজ্ঞরা

১৫. নিমগাছটার কার সাথে যেতে ইচ্ছে করল?

ক. কবিরাজের                                    খ. লোকটার

গ. লেখকের                                        ঘ. বিজ্ঞের

উত্তর: খ. লোকটার

১৬. এক ঝাক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকেসবুজ সায়রে

এখানেসবুজ সায়রবলতে কোনটিকে বোঝানো হয়েছে?

ক. নিমফুল                                         খ. নিমফল

গ. নিমপাতা                                        ঘ. কচি ডাল

উত্তর: গ. নিমপাতা

১৭. নিমগাছ বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়, কারণ

i. ওষধি বৃক্ষ

ii. নিমের হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

ii. চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                              ঘ. i, ii ও iii 

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii 

১৮. বাহ্যিক উপকারিতায় ব্যবহার করা হয় নিমগাছের

i. পাতা, বাকল

ii. শিকড়, পাতা

iii. বাকল ও ছায়া

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                              ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: গ. i ও iii

১৯. বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন যে কারণে

i. নিম গাছের হাওয়া ভালো

ii. নিম একটি উপকারী গাছ

iii. এটা যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                              ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ক. i ও ii

২০. “কেউ নিমগাছের সামান্য যত্ন নেয় না‘- কোন চরণে এই ভাব ফুটে উঠেছে?

ক. কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে

খ. পাতাগুলো ছিড়ে শিলে পিষছে কেউ

গ. কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক

ঘ. আবর্জনা জমেছে চারদিকে

উত্তর: ঘ. আবর্জনা জমেছে চারদিকে

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

২১. নিম একটি

ক. ফলজ বৃক্ষ                                     খ. বনজ বৃক্ষ

গ. ওষধি বৃক্ষ                                       ঘ. পবিত্র বৃক্ষ

উত্তর: গ. ওষধি বৃক্ষ

২২. ‘পদ্মভূষণউপাধি লাভ করেন?

ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর                            খ. প্রমথ চৌধুরী

গ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়                     ঘ. বনফুল

উত্তর: ঘ. বনফুল

২৩. বনফুলের প্রকৃত নাম কী?

ক. প্যারীচাঁদ মিত্র                               খ. প্রমথ চৌধুরী

. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়                    ঘ. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

উত্তর: গ. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

২৪. নিমগাছটার সাথে কোন অর্থে ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটির সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. উপকারী অর্থে

খ. রূপে-গুণে সমান অর্থে

গ. অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা বোঝাতে

ঘ. সংসারের সাথে নিজেকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ফেলায়

উত্তর: ঘ. সংসারের সাথে নিজেকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ফেলায়

২৫. নিমগাছ না যেতে পেরে কী করল?

ক. দুঃখে ভারাক্রান্ত হলো

খ. স্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে রইল

গ. বিধাতাকে দোষারোপ করল

ঘ. নিজেকে দোষারোপ করল

উত্তর: গ. বিধাতাকে দোষারোপ করল

২৬. ‘নিমগাছগল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

ক. দূরবীন                                           খ. বিন্দুবিসর্গ

গ. অদৃশ্যলোক                                   ঘ. কিছুক্ষণ

উত্তর: গ. অদৃশ্যলোক

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

২৭. বনফুল কত সালে ম্যাট্রিক পাস করেন?

ক. ১৯১৬ সালে                                   খ. ১৯১৮ সালে

গ. ১৯২০ সালে                                    ঘ. ১৯২২ সালে

উত্তর: খ. ১৯১৮ সালে

২৮. বনফুলের উপন্যাস কোনটি?

. দ্বৈরথ                                             খ. বিন্দুবিসর্গ

গ. দূরবীন                                            ঘ. বাহুল্য

উত্তর: ক. দ্বৈরথ

২৯. কোন পত্রিকায় ব্যঙ্গকবিতা প্যারডি লিখে বনফুল সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ করেন?

ক. বঙ্গদর্শন                                        খ. সবুজপত্র

গ. শনিবারের চিঠি                              ঘ. প্রবাসী

উত্তর: গ. শনিবারের চিঠি

৩০. নিমগাছ বাড়ির লক্ষ্মীবউটির মধ্যে সাদৃশ্য

ক. শেকড়ে                                          খ. উপেক্ষায়

গ. নিরহংকারে                                    ঘ. আত্মত্যাগে

উত্তর: খ. উপেক্ষায়

৩১. নিমগাছকে যে অর্থে পাশের বাড়ির বউটার সাথে তুলনা করা হয়েছে

ক. সেবাকর্মে ব্রতী                              খ. অসম ধৈর্যের অধিকারী

গ. ত্যাগী, ভোগী নয়                            ঘ. বিনিময় প্রত্যাশী নয়

উত্তর: ক. সেবাকর্মে ব্রতী

৩২. ‘নিমগাছগল্পের মূল বিষয়বস্তুতে ফুটে উঠেছে

ক. নিরহংকার                                     খ. গাছের অবদান

গ. আত্মত্যাগ ও উপেক্ষা                    ঘ. প্রয়োজনীয়তা

উত্তর: গ. আত্মত্যাগ ও উপেক্ষা

৩৩. ‘বাহ্ কী সুন্দর পাতাগুলি‘- বাক্যটিতে কীসের প্রকাশ ঘটেছে?

ক. মায়ার                                             খ. ব্যঙ্গের

গ. স্মৃতির                                             ঘ. মুগ্ধতার

উত্তর: ঘ. মুগ্ধতার

৩৪. নিমগাছটার কেন ইচ্ছা করল কবির সঙ্গে চলে যেতে?

ক. প্রশংসা প্রাপ্তির জন্য                     খ. কাব্যবোধের জন্য

গ. অবস্থানের জন্য                             ঘ. জ্ঞানের জন্য

উত্তর: ক. প্রশংসা প্রাপ্তির জন্য

৩৫. ‘নিমগাছগল্পের ম্যাজিক বাক্য শেষ লাইন। কারণ কী?

ক. নিমগাছের উপকারিতার কথা

খ. নামকরণের সার্থকতা

গ. কবির প্রশংসা

ঘ. সীমাহীন কথার আখ্যান

উত্তর: ঘ. সীমাহীন কথার আখ্যান

৩৬. কবি নিমগাছের পাতাগুলোকে কী হিসেবে কল্পনা করেছেন?

ক. সবুজ পাহাড় রূপে                        খ. সবুজ প্রান্তর রূপে

গ. সবুজ উদ্যান রূপে                         ঘ. সবুজ সায়র রূপে

উত্তর: ঘ. সবুজ সায়র রূপে

৩৭. নতুন লোকটিকে মুগ্ধ করে নিমগাছের

i. ডাল

ii. পাতা

iii. ফুল

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: গ. ii ও iii

৩৮. মানুষ নিমের পাতা ছিড়ে

i. রান্না করে খায়

ii. গরম তেলে ভাজে

iii. চুলকানিতে লাগায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

৩৯. ‘নিমগাছগল্পে লক্ষ্মীবউের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রগুলো হলো

i. নিরুপমা

i. অভাগী

iii. মমতাদি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: খ. i ও iii

৪০. যে নিমগাহে শান বাঁধিয়ে দেয় সে

i. সৌন্দর্যের পূজারি

ii. স্বার্থ সচেতন

iii. ওষধি গুণের সমাদরকারী

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: গ. ii ও iii

৪১. ‘নিমগাছগল্পে কবি নিমগাছের রূপের প্রশংসা করে যেসব শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন

i. অপূর্ব বাহার, একঝাক নক্ষত্র

ii. একঝাক নক্ষত্র, নীল আকাশ

iii. নীল আকাশ, সবুজ সায়র

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: গ. ii ও iii

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

উদ্দীপকটি পড়ে ৪২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

হিন্দু বাড়িতে প্রতি দিনান্তে গৃহকত্রী তুলসী গাছের তলে সন্ধ্যা-প্রদীপ জ্বালায়, গলায় আঁচল দিয়ে প্রণাম করে।

৪২. তুলসী গাছের সাথেনিমগাছগল্পের নিমগাছের সাদৃশ্য কীসে?

. গুণে                                               খ. আকারে

গ. পাতায়                                            ঘ. অবস্থানে

উত্তর: ক. গুণে

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪৩ ৪৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

সাগর সৈকতে

কে যেন দূর হতে আমাকে ডেকে যায়

পারি না যেতে তবু

শেকল বাধা এ দুটি পায়।

৪৩. উদ্দীপকটি কোন রচনাটিকে নির্দেশ করে?

ক. বই পড়া                                         খ. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব

গ. নিমগাছ                                          ঘ. দেনাপাওনা

উত্তর: গ. নিমগাছ

৪৪. ‘নিমগাছগল্পের নিমগাছটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি

ক. আদর্শ বাঙালি নারী                       খ. নির্যাতিত নারী

গ. সংসারে সর্বংসহা নারী                   ঘ. প্রতিবাদী নারী

উত্তর: গ. সংসারে সর্বংসহা নারী

উদ্দীপকটি পড়ে ৪৫ ৪৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

বেগম স্বামীর অনেক অত্যাচার সহ্য করে । তবুও সন্তানের টানে ঐ সংসারেই পড়ে থাকে।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

৪৫. উদ্দীপকের বেগমের সাথে কোন চরিত্রের মিল রয়েছে?

ক. নিরুপমা                                        খ. কাঙালীর মা

গ. বাড়ির লক্ষ্মীবউ                             ঘ. মমতাদি

উত্তর: গ. বাড়ির লক্ষ্মীবউ

৪৬. উদ্দীপক নিমগাছগল্পে সংসার ফেলে চলে যেতে না পারার কারণ

i. অসহায়ত্ব

ii. সংসারের মায়া

iii. দায়িত্ব উপলব্ধি

নিচের কোনটি সঠিক?

. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: গ. ii ও iii

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪৭৪৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

রহিমা দশ বছর হলো জলিলের সংসার করছে। সংসারের সবার কথা তাকে ভাবতে হয়। কিন্তু তার কথা কেউ ভাবে না। রহিমা মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে চলে যেতে চাইলেও পারে না।

৪৭. উদ্দীপকের রহিমার সাথেনিমগাছগল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. নিপূণা লক্ষ্মীবউ                            খ. কবিরাজ

গ. কবি                                                ঘ. গৃহকর্তা

উত্তর: ক. নিপূণা লক্ষ্মীবউ  

৪৮. উদ্দীপক নিমগাছগল্পে গৃহিণীর প্রতি যে আচরণ আমরা প্রত্যক্ষ করি

i. অবহেলা

ii. অবজ্ঞা

ii. ভালোবাসা

নিচের কোনটি সঠিক?

. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ক. i ও ii

৪৯. উদ্দীপক নিমগাছগল্পের আলোচনায় বোঝা যায়

i. সংসারে নারীর অবদান

ii. সংসারে পুরুষের অবদান

iii. সংসারে নারীর প্রতি উদাসীনতা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                               খ. i ও iii

গ. ii ও iii                                             ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: খ. i ও iii

৫০. কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রাইয়ান অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। রাইয়ানের সাথেনিমগাছগল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. নতুন লোকটির                              খ. কবিরাজের

গ. লক্ষ্মীবউয়ের                                  ঘ. বিজ্ঞলোকের

উত্তর: ক. নতুন লোকটির

আরও গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন : রহিমদের বাড়িতে দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ কাজ করছে আকলিমা খাতুন। এক কথায় সে তাদের সংসারটা শুধু বাঁচিয়ে রেখেছে তা নয় বরং তাদের সমৃদ্ধির মূলে তার অবদান সীমাহীন। বয়সের ভারে আজ সে অক্ষম হয়ে বিদায় নিতে চায়। কেননা তার পক্ষে এখন আর গতর খাটানো অসম্ভব। তার প্রস্তাবে রহিম বলে, ‘আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। জীবনের বাকি সময়টুকু আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে কাটাবেন।

ক. চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ কোনটি?

খ. নিমগাছটি না কাটলেও কেউ তার যত্ন করে না কেন?

গ. উদ্দীপকের আকলিমার সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি তুলে ধরো।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্রভাবকে নয় বরং বিশেষ একটা দিককে তুলে ধরে— যুক্তিসহ প্রমাণ করো ।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. চর্মরোগের অব্যর্থ ওষুধ নিমের পাতা।

. কোনো যত্ন ছাড়াই নিমগাছ তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে বলে কেউ তার যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে না। নিমগাছের মাধ্যমে অনেকেই কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়। কিন্তু সেই নিমগাছেরও যে জীবন স্পন্দন আছে, অনুভূতি আছে সে ভাবনা ভাবে না কেউ। বস্তুত নিমগাছের কাছ থেকে বিনা পরিচর্যায় উপকার আদায়ের আশায় গাছটি না কাটলেও তার যত্ন নেয়া দরকার মনে করে না কেউ।

. ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের মতোই উদ্দীপকের আকলিমা দায়িত্বশীল ও গৃহকর্ম-নিপুণা।

বনফুল রচিত ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ প্রতীকের আড়ালে লক্ষ্মীবউ নানাভাবে পরিবারের মানুষের সেবা করে। তার নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের দ্বারা প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রয়োজন মেটায় সকলে। উদ্দীপকের আকলিমা খাতুনও লক্ষ্মীবউয়ের মতোই নিঃস্বার্থ সেবাকারী। নিজের শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে অপরের সংসারের সেবা করেছেন উদ্দীপকের আকলিমা খাতুন।

রহিমদের সংসারের সমৃদ্ধিতে আকলিমা খাতুনের অবদান অনস্বীকার্য। পরিবারের মানুষের উপকারে আত্মনিবেদিত হবার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের আকলিমা খাতুন এবং নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের মধ্যে সাদৃশ্য দেখা যায়।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

. উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সম্পূর্ণভাব প্রকাশে সক্ষম হয়নি। নিমগাছের প্রতীকী রূপের আড়ালে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশিত হয়েছে বনফুল রচিত ‘নিমগাছ’ গল্পে।

কিন্তু উদ্দীপকে সে ধরনের কোনো নিগূঢ় ভাব প্রকাশিত হয়নি। উদ্দীপকের আকলিমার চরিত্রটির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একজন পরোপকারী মানুষের চিত্র। উপকারের প্রতিদানস্বরূপ সাহায্যকারীর কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা লাভ করেন তিনি। কিন্তু নিমগাছ গল্পে উদ্দীপকের মতো কোনো সাদামাটা ভাব প্রকাশিত হয়নি।

উদ্দীপকের আকলিমাই ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের মতোই পরোপকারী। গল্পটি একটি নিমগাছকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও নিমগাছের প্রতীকের আড়ালে মানবজীবনের এক চরম সত্য প্রকাশিত হয়েছে। নিমগাছের সাথে বাড়ির লক্ষ্মীবউটির তুলনা দেখিয়ে যে ভাব প্রকাশিত হয়েছে তার পরিধি অনেক বেশি বিস্তৃত।

উদ্দীপকটিতে আকলিমা চরিত্রেও ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের উপকারী দিকটি প্রকাশিত হলেও গল্পের মতো কোনো বিশেষ অর্থ এখানে পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন : একান্নবর্তী পরিবারের বড় বউ রিজিয়া বিধবা। একমাত্র মেয়েটি ছোটকালে পুকুরে ডুবে মারা গেছে। সবাইকে আপন করে সে শ্বশুর বাড়িতেই রয়ে যায়। যার যা কিছু প্রয়োজন রিজিয়া ছাড়া হয় না। তবে তার শরীরের যত্ন নেয়ার ব্যাপারে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই। শুধু ছোট দেবর রতন ভাবির খোজখবর নিত। কিন্তু চাকরির কারণে রতনও শহরে চলে যায়। আর রিজিয়ার দুঃখ বাড়ে।

ক. বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে কারা খুশি হন?

খ. হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো। লোকটি কে এবং কেন এসেছিল?

গ. উদ্দীপকের রিজিয়ার সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের যে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় তা তুলে ধরো।

ঘ. রতন শহরে চলে গেলে রিজিয়ার দুঃখ বাড়ে। বক্তব্যটি ‘নিমগাছ’ গল্প অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।

খ. নিমগাছের সুন্দর পাতা ও থোকা থোকা ফুলের বাহার দেখে অভিভূত হয়ে একজন কবি নিমগাছের কাছে এসেছিলেন। কবিরাজ তার চিকিৎসার কাজে, সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কেউ এই গাছের সামান্য যত্নও করে না। একদিন একজন কবি নিমগাছের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন এবং গাছটির কাছে এসে এর রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। সবাই নিমগাছের প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করলেও কবি এর সৌন্দর্যের দিকটির মূল্যায়ন করেন।

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

গ. সবাইকে সেবার বিপরীতে অযত্ন আর অবহেলা প্রাপ্তির দিক দিয়ে উদ্দীপকের রিজিয়া ও ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

‘নিমগাছ’ গল্পে প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে ব্যবহারের দিকটি উঠে এসেছে। মানুষ নানা প্রয়োজনে নিমগাছের প্রতিটি অংশ ব্যবহার করলেও গাছটির সামান্যতম যত্নও করে না। এ গল্পে নিমগাছের নানাবিধ গুণের বর্ণনার পাশাপাশি এর সৌন্দযের দিকটিও উঠে এসেছে এবং শেষ মুহূর্তে একে বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে যা উদ্দীপকের রিজিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘নিমগাছ’ গল্পে প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে ব্যবহারের দিকটি উঠে এসেছে। মানুষ নানা প্রয়োজনে নিমগাছের প্রতিটি অংশ ব্যবহার করলেও গাছটির সামান্যতম যত্নও করে না। এ গল্পে নিমগাছের নানাবিধ গুণের বর্ণনার পাশাপাশি এর সৌন্দযের দিকটিও উঠে এসেছে এবং শেষ মুহূর্তে একে বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে যা উদ্দীপকের রিজিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকের রিজিয়া স্বামী-সন্তান হারিয়ে অন্যদের আপন করে শ্বশুর বাড়িতেই থেকে গেছে। সে দিন-রাত পরিশ্রম করে সকলের প্রয়োজন মেটায়। কিন্তু তার প্রতি কারা কোনো মনোযোগ নেই। যেমন কারো মনোযোগ নেই গল্পের নিমগাছের প্রতি। কর্তব্যপরায়ণ বউটির প্রতি পরিবারের সকলের আচরণ যেন ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

মানুষের অকৃতজ্ঞ আচরণ উদ্দীপকের রিজিয়ার সঙ্গে নিমগাছটিকে মিলিয়ে দিয়েছে। নিমগাছ আর রিজিয়া নিজেকে উজাড় করে অপরের সেবা করেছে কিন্তু প্রতিদানস্বরূপ কিছুই পায়নি। এখানেই নিমগাছের সাথে রিজিয়ার সাদৃশ্য।

ঘ. পরিবারে একমাত্র রতনই তার ভাবি রিজিয়ার খোঁজ নিত বলে সে শহরে চলে গেলে রিজিয়া সম্পূর্ণ অবহেলিত হয়ে পড়ে।

‘নিমগাছ’ গল্পে দেখা যায় মানুষ তার প্রাত্যহিক জীবনে নিমগাছের প্রতিটি অংশ ব্যবহার করছে। ভেষজগুণ আছে বলে কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আবার নিমের হাওয়া ভালো বলে বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন। কিন্তু গাছটির যত্ন নিতে কেউই আগ্রহী হন না। একদিন একজন কবি নিমগাছের পাতা ও ফুলের বাহার দেখে মুগ্ধ হন। সবাই নিমগাছের প্রয়োজনের দিকটি দেখলেও কবি নিমগাছটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন এবং প্রশংসা করেন।

উদ্দীপকের রিজিয়া স্বামী-সন্তানকে হারিয়েও সংসারের মায়ায় শ্বশুরবাড়িতেই থেকে যায়। নীরবে সবার প্রয়োজন মেটায়। কিন্তু মানুষ হিসেবে তারও যে বিশ্রাম বা অন্যান্য প্রয়োজন আছে তা কেউ মনেই করে না। শুধু পরিবারের ছোট দেবর রিজিয়ার খোঁজ খবর নেয়। কিন্তু সে শহরে চলে যাওয়ায় রিজিয়া উপেক্ষার শিকার হয়। কেননা পরিবারে সেই ছিল তার কাছে সবচেয়ে আপনজন ও সুখ-দুঃখের সাথি।

দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে ‘নিমগাছ’ গল্পের কবির সঙ্গে রতনের মিল পাওয়া যায়। এরা দুজনেই নিঃস্বার্থভাবে নিমগাছ ও রিজিয়াকে মূল্যায়ন করেছে। সমাজের প্রতিটি মানুষেরই স্নেহপূর্ণ আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। রিজিয়াও অন্য সবার মতো, মাংসের মানুষ। তারও সমাজে কিছু অধিকার আছে, চাওয়াপাওয়া আছে। রতনের সৌহার্দপূর্ণ আচরণ তার দুঃখ কিছুটা দূর করেছিল। রতন চলে গেলে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে দুঃখ পায়।

প্রশ্ন৩ : স্বামীসন্তান, আত্মীয়স্বজন নিয়ে জমিলার বড় সংসার। প্রতি মুহুর্তেই সংসারে তাকে প্রয়োজন। কঠিন দায়িত্বের জালে আবদ্ধ সে। এভাবেই জীবনের সত্তরটি বছর কেটে গেল। এখন তার পরিশ্রম করার সামর্থ্য নেই। সংসারে সে এখন বোঝা। তার ঠাঁই এখন বৃদ্ধাশ্রমে।

ক. বনফুলের প্রকৃত নাম কী?

খ. নতুন লোকটা মুগ্ধদৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে রইল কেন?

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করে না”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. বনফুলের প্রকৃত নাম—বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

খ. নিমগাছের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করার জন্য নতুন লোকটা মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে তাকিয়ে রইল। প্রাত্যহিক প্রয়োজনে সবাই যে যার মতো নিমগাছটিকে ব্যবহার করে। ছাল, বাকল, পাতা কোনো কিছুই ব্যবহার করা থেকে বাদ পড়ত না। কিন্তু এভাবে উপকার পাওয়া সত্ত্বেও গাছটির কেউ যত্ন করত না। তবে নতুন আসা লোকটা এসবের কিছুই করেনি; নিমগাছের সৌন্দর্যে আপ্লুত হয়ে সে শুধু মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইল।

. উদ্দীপকটির সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পটির সাদৃশ্য হলো— উভয়স্থানেই সর্বংসহা ব্যক্তির গুরুত্বহীনতা প্রকাশ পেয়েছে।

‘নিমগাছ’ গল্পে বাড়ির বউটির ইচ্ছে হয়েছিল অদ্ভুত রকমের লোকটির সঙ্গে চলে যাওয়ার। কিন্তু সংসার তাকে এমনভাবে বেঁধে ফেলেছে যে, তা কেটে বেরোনোর সাধ্য তার নেই। অথচ এ সংসারে তার মূল্যায়নও নেই। সবার প্রয়োজন মেটানোর পরও কারো সামান্যতম মনোযোগ আকর্ষণ করতে সে ব্যর্থ। নিজেকে উজাড় করেও সে সংসারে অবহেলিত।

উদ্দীপকে বড় সংসারের কত্রী জমিলা। স্বামী-সন্তান ছাড়াও আত্মীয়স্বজনের দিকে সে মনোযোগ দেয়। এরকম কঠিন দায়িত্ব বহন করতে করতে জীবনের প্রায় সত্তরটি বছর কেটে গেছে তার। শরীরের কর্মক্ষমতা হারিয়ে বৃদ্ধাবস্থায় সে এখন প্রায় পরিত্যক্ত সংসার থেকে। ঠাই হয়েছে এক বৃদ্ধাশ্রমে। যে সংসারে একদা সে ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সেখানে আজ আর তার কোনো গুরুত্ব নেই।

তার এ অবস্থা পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউটির মতো উদ্দীপকের জমিলাও সময়ের সঙ্গে সংসারে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্রভাবকে ধারণ করে না- মন্তব্যটিকে যথার্থ বলেই প্রতিপন্ন করা যায়।

বনফুল রচিত ‘নিমগাছ’ গল্পে আমরা নিমগাছের পার্থিব গুরুত্ব সম্পর্কে অনুধাবন করতে পারি। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের বিভিন্ন ধরনের উপকারে লাগে নিমগাছ। কিন্তু গাছটির সৌন্দর্যের কথা বা যত্নের কথা কারো মনে পড়ে না। অযত্ন-অবহেলায় গাছটির অন্য কারো সঙ্গে অন্য কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে।

উদ্দীপকের জমিলাও গল্পের বউটির মতো পরিণতি বরণ করেছে। দীর্ঘদিন স্বামী-সন্তান নিয়ে একটি বড় সংসারকে সামলিয়ে রেখেছে সে। সত্তর বছর অতিবাহিত হওয়ার পর নিজ সংসারেই সে বোঝা বলে পরিগণিত হয়েছে। পরিশ্রম করার সামর্থ্য হারিয়ে আজ তাকে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

গল্পের বউটির মতো সে অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবেনি। দুটি বিষয় পর্যালোচনায় জমিলা ও লক্ষ্মীবউটির পরিণতিতে একটু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। জমিলার পরিণতি জানতে পারলেও আমরা বউটির শেষ পরিণতি জানতে পারিনি। তাছাড়া গল্পটি একটি রূপকের মাধ্যমে সৃষ্ট; কিন্তু উদ্দীপকে সেরকম কোনো বিষয় আমাদের নজর কাড়েনি।

সমস্ত বিষয় পর্যালোচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্রভাবকে ধারণ করে না।

প্রশ্ন-৪ : সুভা কথা বলতে পারে না। মা এটাকে নিয়তি হিসেবে ধরে নিলেও বাবা প্রচণ্ড ভালোবাসে তাকে। প্রতিবেশীর কেউ তার সাথে মিশে না, খেলে জগতের নির্মোহ অবারিত প্রকৃতির সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক। একা একা বিকেলবেলা নদীর ধারে ঘুরে বেড়ানো, পাখি, ফুল, জোছনা, গাছপালা তার আত্মাকে মুখরিত করে তুলে। আর এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে তার নিজস্ব জগৎ।

ক. নিমগাছের কী ইচ্ছে করে?

খ. ‘শিকড় অনেক দূর চলে গেছে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের সুভার সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের বৈসাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপক ও ‘নিমগাছ’ গল্পটির মূল চেতনা অভিন্ন”- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. নিমগাছের ইচ্ছে করে নতুন ধরনের লোকটার সঙ্গে চলে যেতে।

খ. নিমগাছের শিকড়ের সঙ্গে বাড়ির লক্ষ্মীবউয়ের সংসারের জালে চারদিকে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বোঝাবার জন্য প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। নিমগাছের আড়ালে মূলত বাড়ির লক্ষ্মীবউয়ের কথা ফুটে উঠেছে ‘নিমগাছ’ গল্পে। সে বাড়ির সকলের নানা উপকারে লাগলেও তার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার কেউ নেই। হঠাৎ একদিন একজন লোকের আবির্ভাব হয়। সে তার গুণমুগ্ধ হয়ে ওঠে। তখন নিমগাছরূপী বউটার কাছে এ লোকটিকে বাড়ির অন্যান্য লোকদের তুলনায় বেশি মানবিক মনে হয়। ফলে তার সাথে চলে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এতদিনের সংসারের মায়াজাল সে কাটিয়ে উঠতে পারে না। এ বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়েই লেখক বলেছেন, শিকড় অনেক দূর চলে গেছে।’

গ. উদ্দীপকের সুভার সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের বৈসাদৃশ্য হচ্ছে এই যে, সুভা বাবার ভালোবাসা অর্জন ও নিজস্ব জগৎ সৃষ্টি করতে পেরেছে।

‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের প্রতীকে বাড়ির লক্ষ্মীবউয়ের চরিত্র চিত্রিত হয়েছে। নিমগাছের মতোই বউটা সকলের কাজে লাগে। সবার সব কাজই সে নিপুণ হাতে করে দেয়। কিন্তু তাকে ভালোবাসা তো দূরের কথা, তার দিকে ফিরে তাকাতেও দেখা যায় না কাউকে। তবুও সে বৃত্তাবদ্ধ জীবনের বাইরে যেতে পারে না।

উদ্দীপকের সুভাকে তার মা এবং প্রতিবেশীরা এড়িয়ে চললেও তার বাবা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসে। সকলে তাকে ত্যাগ করলেও সে প্রকৃতির সাথে নিজের একটা জগৎ তৈরি করেছে। কিন্তু ‘নিমগাছ’ গল্পের বউটা পরিবারের কারো ভালোবাসা পায় না। এমনকি নিজস্ব জগৎ তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও, সংসারের মায়ায় সেই জগতে তার প্রবেশ করা হয় না।

ঘ. পরিবারের সকলের অবহেলার দিক বিবেচনায় বলা যায় যে, উদ্দীপক ও নিমগাছ’ গল্পের মূল চেতনা একই।

‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছপী বউটা সকলের কাজে লাগে। নানা প্রয়োজনে সে অগ্রগামী হলেও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে সে ব্রাত্য। কেউ তাকে নিয়ে ভাবতে চায় না; বরং নানাভাবে অবজ্ঞা-অবহেলায় তাকে উপেক্ষা করে। ফলে তার মাঝে তৈরি হয় বহির্জগতের আকর্ষণ।

উদ্দীপকের সুভা কথা বলতে পারে না। একমাত্র বাবা ছাড়া সকলেই তাকে অবজ্ঞা করে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাই সে প্রকৃতিকে তার বন্ধু বানিয়ে নিয়েছে। মূলত: মানুষের উপেক্ষাই তাকে প্রকৃতির একেবারে ঘনিষ্ঠজন বানিয়ে দিয়েছে। প্রায় একই চিত্র দেখা যায় ‘নিমগাছ’ গল্পে। বাড়ির লক্ষ্মীবউটাও সুভার মতোই সকলের উপেক্ষা সহ্য করতে না পেরে বিকল্প ভাবনা মনে পোষণ করে। সুভার মতো বহির্জগতের সাথে একাত্ম হতে না পারলেও তার মনে বহির্জগতের আকর্ষণ জমা হয়।

উপরের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, সুভা ও ‘নিমগাছ’ গল্পের বউয়ের পরিস্থিতি যেন একই ধারায় উৎসারিত। চারপাশের মানুষগুলোর উপেক্ষা ও অবহেলা তাদের দুজনকে একই সমান্তরালে এনে দাঁড় করিয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি, প্রশ্নে উল্লেখিত উক্তিটি যথার্থ।

প্রশ্ন৫ : একজন ক্যাডেট ছয় বছর ক্যাডেট কলেজে থাকে। সেই ক্লাস সেভেনে ছোট কিশোর আসে রাজ্যের স্বপ্ন আর অজ্ঞতা নিয়ে। প্রথম প্রথম মন খারাপ থাকে। মা বাবার আদর আর বাসার আহ্লাদ তাকে টানে। দিন যায়, ভালো লাগে কলেজ আর তার সবকিছু। নিয়মের কড়াকড়ি মানতে কষ্টও হয়। উচ্চমাধ্যমিক শেষে কলেজ ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না। কান্নার নোনাজলে রচিত হয় নতুন কাব্য।

ক. বনফুলের প্রকৃত নাম কী?

খ. কবিরাজ নয়, কবি।’ কী বোঝাচ্ছেন লেখক?

গ. ‘নিমগাছ’ গল্পের সাথে উদ্দীপকের সংযোগ কোথায়?

ঘ. শেকড়ের বন্ধন না যায় খণ্ডন। উদ্দীপক আর ‘নিমগাছ’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

খ. নতুন আসা লোকটির সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে। কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। কারণ, তার চিকিৎসার কাজে নিমগাছ মহৌষধের জোগানদার। চিকিৎসা করতে নিমগাছকে ব্যবহার করবে বলে নিমগাছের প্রশংসা করে কবিরাজ। কিন্তু নতুন আসা লোকটি কবিরাজ না হয়েও নিমগাছের প্রশংসা করে। কাব্যের আদলে নিমগাছের রূপকে ব্যাখ্যা করে বলেই তাকে বলা হয় কবি।

গ. ‘নিমগাছ’ গল্পের সাথে উদ্দীপকের সংযোগ হলো অভ্যাস সম্পর্কের গভীরতায়।

‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের মাধ্যমে নিপুণা লক্ষ্মীবউয়ের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। এই বউ অপরিচিত পরিবেশে এসে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং প্রত্যেকের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। সংসারের কিছু অসংগতি তাকে কষ্ট দিলেও সম্পর্কের গভীরতায় সে সংসার ছেড়ে যেতে পারে না।

উদ্দীপকের একজন ক্যাডেট অনেক স্বপ্ন নিয়ে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়। ইতিপূর্বে এ কলেজের নিয়ম-কানুন তার জানা না থাকলেও সে ধীরে ধীরে সবকিছু জেনে যায়। কলেজের বাধাধরা নিয়মনীতি মেনে নিতে তার অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কলেজের সবকিছুর সাথে সে মানিয়ে নেয় এবং গভীর বন্ধনে আটকা পড়ে। ফলে কিছু নিয়ম মেনে নিতে কষ্ট হলেও সম্পর্কের প্রগাঢ়তায় সে কলেজ ছেড়ে যেতে পারে না।

‘নিমগাছ’ গল্পের বাড়ির নিপুণা লক্ষ্মীবউটার অবস্থাও উদ্দীপকের ক্যাডেট কলেজের ছাত্রের মতো। সেও অনেক স্বপ্ন নিয়ে নতুন কোনো পরিবারে এসে সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারে তার অবহেলা হলেও সে বর্ধন ছেড়ে চলে যেতে পারে না।

ঘ. ‘শেকড়ের বন্ধন না যায় খণ্ডন’ উদ্দীপকের ক্যাডেট কলেজ ছাত্রও ‘নিমগাছ’ গল্পের নিপুণা বধূটির শেকড়ের বন্ধন আলোচ্য মন্তব্যটিকে ধারণ করে আছে।

‘নিমগাছ’ গল্পে রূপকের আশ্রয়ে পরিবারের সঙ্গে নিপুণা বধূর গভীর সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। নতুন পরিবেশে এসে বধূটি পরিবারের সকলের সাথে সম্পর্কের জালে জড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে সেই পরিবারে তার গুরুত্ব কমে গেলেও সে শেকড়ের বন্ধন ছেড়ে যেতে পারে না। উদ্দীপকে ক্যাডেট কলেজে একজন ছাত্র অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে ভর্তি হয়। সেখানকার কঠিন নিয়ম-নীতি তার মেনে নিতে কষ্ট হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সে সবকিছুর সাথে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। বাবা-মায়ের আদর-আহ্লাদ তাকে প্রবল আকর্ষণ করলেও সে যখন তখন বাড়ি যেতে পারে না। এই কড়াকড়ি তাকে পীড়া দিলেও ক্যাডেট কলেজের সাথে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ছেড়ে সে যেতে পারে না। তার এই বন্ধন ‘নিমগাছ’ গল্পের বধূর পরিবারের সাথে বন্ধনের প্রতিচ্ছবি বলে মনে হয়।

‘নিমগাছ’ গল্পের নিপুণা লক্ষ্মীবউটিও উদ্দীপকের ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়া ছাত্রের মতো অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে নতুন একটি পরিবারে আসে। সেখানে অনেক কিছুই তার অপরিচিত থাকে। অনেককিছুর সাথে তার মতের পার্থক্যও তৈরি হয়। এতদসত্ত্বেও সে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে চলে নিষ্ঠার সাথে। ততদিনে পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য হয়ে যায়। তখন কোনো বিষয় তার খারাপ লাগলেও সে আর পরিবার ছেড়ে যেতে পারে না। পরিবারে তার শেকড় অনেক গভীরে চলে চলে যায়। শেকড়ের সেই যেন অবিচ্ছেদ্য বন্ধন খণ্ডন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে ওঠে না।

বধূটির পরিবারের সাথে এমন দৃঢ় বন্ধন ও উদ্দীপকের ক্যাডেট কলেজ ছাত্রের কলেজের সাথে বন্ধন যেন অবিচ্ছেদ্য। এই ছিন্ন করতে না পারার বিষয়টিই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির দাবি পূরণ করেছে।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন-৬ : তপন চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা, প্রায় ২০ বছর হলো চাকুরীর। মাইনে খারাপ না, নিশ্চয়তাও আছে। সম্মান প্রতিপত্তিও কম না। কিন্তু মাঝে মাঝেই সব ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে। নীতিগত কারণে। সম্ভব হয় না জীবন বাস্তবতার কারণে, পরিবারের অর্থনৈতিক কারণে ।

ক. ‘নিমগাছ’ গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

খ. ‘কবিরাজ নয়, কবি’- বুঝিয়ে লেখো।

গ. উদ্দীপকের তপন চৌধুরীর সাথে নিমগাছের কোনো সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তপন চৌধুরীর এবং নিমগাছের বাস্তবতা অনেক দূরবর্তী উত্তরের সপক্ষে তোমার মতামত দাও।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. ‘নিমগাছ’ গল্পটি ‘অদৃশ্যলোক’ গ্রন্থের অন্তর্গত।

. নতুন আসা লোকটির সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে। কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। কারণ, তার চিকিৎসার কাজে নিমগাছ মহৌষধের জোগানদার। চিকিৎসা করতে নিমগাছকে ব্যবহার করবে বলে নিমগাছের প্রশংসা করে কবিরাজ। কিন্তু নতুন আসা লোকটি কবিরাজ না হয়েও নিমগাছের প্রশংসা করে। কাব্যের আদলে নিমগাছের রূপকে ব্যাখ্যা করে বলে তাকে বলা হয় কবি।

. সংসারের প্রতি দায়বদ্ধতার দিক থেকে উদ্দীপকের তপন চৌধুরীর সাথে নিমগাছের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। |

‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের নানারকম উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। কবিরাজ তার চিকিৎসার কাজে আর সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে অনবরত ব্যবহার করে । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য নিমগাছটির প্রতি কেউ সামান্য যত্ন ও নেয় না। একদিন একজন কবি এসে নিমগাছটির প্রতি সুদৃষ্টি দেয়।

নিমগাছরূপী বউ বেচারিরও কবি লোকটিকে ভালো লাগে। সে তার সাথে চলে যেতে চায়। পারে না। কারণ সংসারে তার শিকড় অনেক গভীরে চলে গেছে। গল্পের বধূরূপী নিমগাছের সাথে বিরাট সাদৃশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের তপন চৌধুরীর মাঝে ।

উদ্দীপকের তপন চৌধুরী একজন সরকারি কর্মকর্তা। প্রায় ২০ বছর হলো চাকরির। মাইনে খারাপ নয়, নিশ্চয়তাও আছে। সম্মান প্রতিপত্তিও কম না। কিন্তু মাঝে মাঝেই সব ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে তার। তবে নীতিগত কারণে যা সম্ভব হয়, তা জীবন বাস্তবতা ও পরিবারের অর্থনৈতিক কারণে সম্ভব হয়ে ওঠে।

উদ্দীপকের তপন চৌধুরীর অবস্থার সাথে নিমগাছ গল্পের নিমগাছ তথা বধূ মানুষটির মিল রয়েছে। সংসারের সকলের কাজে এলেও কেউ তার প্রতি সুদৃষ্টি দেয় না। তার প্রতি সীমাহীন অবহেলা দেখা যায়। একদিন একজন কবি এসে তার মন জয় করে নেয়। তার আচরণে নিমগাছ প্রতীকের বউ দারুণ মুগ্ধ হয়। কিন্তু সংসারের দায়বদ্ধতায় বাধা পড়ার কারণে সে চলে যেতে পারে না। মাটিতে শিকড় গাড়া নিমগাছটির মতোই সংসারের বেড়াজালে আটকে থাকে।

এদিক থেকে গল্পের নিমগাছ তথা বধূর সাথে উদ্দীপকের তপন চৌধুরীর বিরাট সাদৃশ্য বিদ্যমান রয়েছে বলা যায়।

. তপন চৌধুরী এবং নিমগাছের বাস্তবতা অনেক দূরবর্তী’ মন্তব্যটি যথার্থ।

‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছ প্রতীকের অন্তরালে সংসারে জড়িয়ে থাকা বউয়ের জীবনের সীমাহীন কষ্ট ও নানারকম অবহেলার কথা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু তপন চৌধুরীর পারিবারিক, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মন খারাপ হওয়ার প্রসঙ্গের কথা প্রতিফলিত হয়েছে।

উদ্দীপকের তপন চৌধুরী একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ভালো বেতন পান। সম্মান আছে। সমাজে প্রতিপত্তি রয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে তার সব ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে। জীবনবাস্তবতা ও পরিবারের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে তিনি তা পারেন না। উদ্দীপকের তপন চৌধুরীর সংসার ভালো না লাগা ও মন খারাপ হওয়ার সাথে নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের কিছুটা মিল রয়েছে। এই মিল আংশিক, তবে সম্পূর্ণ নয়।

‘নিমগাছ’ গল্পে বাহ্যিকভাবে নিমগাছের উপকারি দিক বলা হয়েছে। নিমগাছের পাতা, বাকল ও ছায়ার বাহ্যিক উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। মানুষ প্রাত্যহিক কাজে নিমগাছকে নানাভাবে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কেউ তার সামান্য যত্ন ও নিতে চায় না। একদিন একজন কবি এসে নিমগাছের কাছে দাড়ায়। সে তার রূপ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। নিমগাছ প্রতীকে বধূ মানুষটিও কবি লোকটির সাথে চলে যেতে ইচ্ছা পোষণ করে। কিন্তু সংসারের নানারকম দায়বদ্ধতা ও বন্ধন তকে মুক্তি দেয় না।

এ গল্পে অল্প কথায় অনেক বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। তবে উদ্দীপকের তপন চৌধুরীর অবস্থা আর নিমগাছের অবস্থা আমার কাছে দূরবর্তী বলে মনে হয়। এদিক থেকে বিচার করলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলা যায় ।

প্রশ্ন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তারবর্ষাযাপনকবিতায় লিখেছেন

                        ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা ছোট ছোট দুঃখ কথা

                                    নিতান্তই সহজ সরল।

                        সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি

                                    তারি দুচারটি অশ্রুজল।

                        নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা

                                    নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ

                        অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে

                                    শেষ হয়ে হইলো না শেষ।

ক. নিমগাছ কোথায় দাঁড়িয়ে ছিল?

খ. ‘মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?

গ. উদ্দীপকে ছোটগল্পের যে বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় তার সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্য নির্ণয় করো ।

ঘ. ‘শেষ হয়ে হইলো না শেষ পর্ভূক্তিটির আলোকে ছোটগল্প হিসেবে ‘নিমগাছ’ গল্পের সার্থকতা বিচার করা।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. নিমগাছ বাড়ির পেছনে আবর্জনার স্কুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল।

. উদ্ধৃত অংশটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ভাবার্থ সংসারের কর্তব্য ও মায়ায় জড়িয়ে লক্ষ্মীবউটির পক্ষে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব নয়। নানাজন নানাভাবে নিমগাছটির কাছ থেকে উপকৃত হলেও কেউই তার প্রকৃত সৌন্দর্য অনুধাবনের চেষ্টা করেনি। হঠাৎ একদিন একজন নিমগাছটির প্রকৃত সৌন্দর্য উদ্ঘাটন করল। তখন গাছটির ইচ্ছে করছিল তার সঙ্গে চলে যেতে। কিন্তু শিকড় তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে মাটির সাথে। তাই তার পক্ষে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব নয়। বস্তুত এখানে সংসারে বেড়াজালে আবদ্ধ গৃহবধূর বাস্তবিকতার দিকটি প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

. উদ্দীপকে ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। ‘নিমগাছ’ গল্পটি আড়ম্বররহিত; বিশেষভাবে এর তেমন বর্ণনা নেই।

এখানে লেখকের মূল কাজটি ছিল নিমগাছ প্রতীকে একজন গৃহবধূর পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থানকে তুলে ধরা। তিনি অত্যন্ত অল্প কথায় সেই কাজটি নিখুঁতভাবে করতে সমর্থ হয়েছেন, যার ফলে গল্পের গঠনশৈলীতেও নতুনত্ব সৃষ্টি হয়েছে। শেষ বাক্যে লেখক এ গল্প রচনার প্রতীকী তাৎপর্য আমাদের সামনে তুলে ধরেন এবং তাতে মনে কিছুটা অতৃপ্তিও জন্ম নেয়।

উদ্দীপকে ছোটগল্পের যে বৈশিষ্ট্য প্রদত্ত হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে ছোট প্রাণের ছোট ছোট দুঃখ-বেদনার কথা থাকবে ছোটগল্পে। তত্ত্ব উপদেশ না থেকে সেখানে এমন এক ধরনের ভাবের উৎপত্তি হবে যা হৃদয়ে অতৃপ্তি সৃষ্টি করবে এবং আনুষ্ঠানিক কোনো ইতি টানবে না।

‘নিমগাছ’ গল্পে আমরা এ সমস্ত বৈশিষ্ট্যই লক্ষ করি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

. উদ্দীপকের শেষ পঙক্তিটির আলোকে ‘নিমগাছ’ গল্পটিকে সার্থক ছোটগল্প হিসেবে প্রতিপন্ন করা যায়।

বনফুল রচিত ‘নিমগাছ’ গল্পে আমরা নিমগাছের প্রতীকে এক গৃহবধূর জীবন সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পাই। সংসারের সবার জন্য নিমগাছের মতো করেই সে তার জীবন উৎসর্গ করেছে। কিন্তু তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে অবলোকন করার বোধ কারও সৃষ্টি হয়নি। তার অবদানকে মূল্যায়নও করেনি কেউ। এ কারণে সংসার ত্যাগের ক্ষণিক ইচ্ছা তার মধ্যে জন্ম নিলেও মায়ার বন্ধন তাকে সে কাজ থেকে বিরত রেখেছে।

উদ্দীপকে ছোটগল্পের যে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে তা ‘নিমগাছ’ গল্পের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক। কোনো তত্ত্ব বা উপদেশ না দিয়ে ছোটগল্প শুধু ভাবের মাধ্যমে অন্তরে গভীর এক বোধের জন্ম দেবে। পাঠক এখানে পরিণতি আবিষ্কার করতে পারবে না বলেই তার হৃদয়ে অতৃপ্তি থেকে যাবে শেষ হয়েও গল্প শেষ হবে না।

উদ্দিষ্ট আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ‘নিমগাছ’ গল্পে গল্পকার যে পরিণতি দিয়েছেন, তা পাঠকের মনে এক গভীর অতৃপ্তির জন্ম দেয়। কারণ লক্ষ্মীবউটির প্রকৃত পরিণতি কী হয়েছিল তা আমরা কোনোভাবেই অনুধাবন করতে পারি না।

এ কারণে উদ্দীপকের শেষ পঙক্তিটির মানদণ্ডে তাকে সার্থক ছোটগল্প বলে প্রতিপন্ন করা যায়।

প্রশ্ন-৮ : তরুতলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর,

ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর।

বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙে লয়,

তরু তবু অকাতর, কিছু নাহি কয়।

ক. ‘নিমগাছ’ গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

খ. লোকটি মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে তাকিয়ে রইল কেন?

গ. উদ্দীপকটির সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পটির সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ. উদ্দীপকের বৃক্ষ কি ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ তথা গৃহবধূর করুণ অবস্থাটি তুলে ধরতে পেরেছে? যুক্তি সহকারে উপস্থাপন করো।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. ‘নিমগাছ’ গল্পটি ‘অদৃশ্যলোক’ গ্রন্থের অন্তর্গত।

. প্রয়োজনের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে সৌন্দর্যের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ায় লোকটি নিমগাছের প্রতি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। নতুন ধরনের যে লোকটি এলো সে কবিরাজ নয় বরং কবি। নিমগাছের শিকড়, ছাল, পাতা উপকারী দিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিমগাছের সৌন্দর্য। নিমগাছের পাতা ও ফুলে যে সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছিল তার দিকেই লোকটি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।

. সংসারে যাকে অতি প্রয়োজন সে যথাযোগ্য মূল্যায়ন পায় না- এ বিষয়টির দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক প্রয়োজন অনবরত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সকলের নানাবিধ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হলেও নিমগাছ পায় তার প্রাপ্য সমাদর। বরং তার ভাগ্যে জোটে অযত্ন ও অবহেলা। বাড়ির লক্ষ্মীবউটির অবস্থাও নিমগাছের মতোই করুণ। গৃহকর্মে সে নিপুণা অথচ গৃহের লোকদের কাছেই পায় অনাদর।

উদ্দীপকের তরুটি পথিকের শ্রান্তি দূর করে, ফল দেয়। পথিকের উপকারে এলেও বিদায়কালে পথিক তার ডাল ভেঙে সাথে করে নিয়ে যায়। মূল্যায়ন ততা সে পায়ই না বরং জোটে নির্মম আচরণ। তারপরও সে কিছু বলে না। এই একই চিত্র দেখতে পাই ‘নিমগাছ’ গল্পে।

‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের পাতা, ছায়া, বাকল সবকিছুই প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়, সৌন্দর্যেও সে অপূর্ব। অথচ কেউ তার সামান্যতম যত্নও করে না। আলোচ্য কবিতার বউয়েরও একই দশা। এই নিমগাছ বা লক্ষ্মীবধূর অবস্থাও উদ্দীপকের তরুর অবস্থার অনুরূপ, যা উদ্দীপকটিকে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।

. উদ্দীপকের বৃক্ষ ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ তথা গৃহবধূর করুণ অবস্থাটি পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরতে পেরেছে।

‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ তথা গৃহবধূ সংসারের প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে। সেই দিক বিবেচনায় তারা সংসারে সর্বোচ্চ মূল্যায়নের দাবিদার। অথচ সে-ই অযত্ন ও অবহেলার শিকার। উদ্দীপকের বৃক্ষও অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে। ছায়া দিয়ে, ফল দিয়ে পথিককে সে সহায়তা করে। এরপরও সে পায় মানুষের অযত্ন ও অবহেলা। সমস্তই সে নীরবে সহ্য করে। আত্মত্যাগী হওয়া স্বত্ত্বেও উদ্দীপকের বৃক্ষ করুণ অবস্থার শিকার।

‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ বাড়ির গৃহকর্মে নিপুণা বউয়ের প্রতীক। নিমগাছ ও বউটি সংসারের নিত্যপ্রয়োজনে কাজ করে, যেমন ভাবে উদ্দীপকের বৃক্ষ পথিকের প্রয়োজন মেটায়। তারা সর্বোচ্চ মূল্যায়নের দাবিদার কিন্তু তাদের অবস্থা করুণ। নিজেদের কাজের বিনিময়ে তারা পায় কেবল অযত্ন, অবহেলা ও অনাদর। আলোচ্য গল্প ও উদ্দীপকে একই চিত্র বিদ্যমান।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের বৃক্ষ ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ তথা গৃহবধূর করুণ অবস্থাটি তুলে ধরতে পেরেছে।

প্রশ্ন : শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষকগণ জাতি গড়ার কারিগর। ডিসি, এসপি থেকে শুরু করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমনকি সচিব, মন্ত্রী রাষ্ট্রপতিসহ সবাই শিক্ষকদের হাতে গড়া। সারাদিন ক্লাস করা, প্রশ্ন করা, পরীক্ষার খাতা দেখা ইত্যাদি করতে করতে শিক্ষকদের নিজের সুখের দিকে তাকানোর সুযোগ হয় না। তারপরও কোনো শিক্ষক পরিবারের সচ্ছলতার কথা চিন্তা করে বাড়তি টিউশনি করলেই ছিছি! পড়ে যায়।

ক. কোন পদে চাকরির মাধ্যমে বনফুলের কর্মজীবন শুরু হয়?

খ. নিমগাছটার লোকটার সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করে কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত কোন পেশা নিমগাছ’ গল্পের কার সাথে তুলনীয়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ উদ্দীপকের শিক্ষকগণের প্রতিনিধিত্ব করে’- তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. বনফুলের কর্মজীবন শুরু হয় মেডিক্যাল অফিসার পদে চাকরির মাধ্যমে।

. লোকটিকে নিমগাছের ভালো লাগে বলেই সে লোকটার সঙ্গে চলে যেতে চায়। বাড়ির পাশে বেড়ে ওঠা নিমগাছটির কেউ যত্ন নেয় না। সে অযত্নেই বেড়ে ওঠে। অথচ মানুষের প্রয়োজন মিটিয়ে সে হাঁপিয়ে ওঠে। কেউ তার বাকল তুলে নেয়, কেউবা পাতা ছিড়ে নেয়। ডাল ভেঙ্গে নিয়ে চিবোয় কেউ কেউ। কিন্তু একদিন নতুন এক লোক আসে। লোকটি কবি। নিমগাছের সৌন্দর্যে সে মুগ্ধ হয়। প্রশংসা করে। লোকটিকে ভালো লেগে যায় নিমগাছের। তাই সে লোকটির সঙ্গে দূরে কোথাও চলে যেতে চায়।

. উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকতার পেশাটি ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের সাথে তুলনীয়।

পাঠ্য গল্পের নিমগাছ নিঃস্বার্থভাবে সকলের প্রয়োজন মেটায়। কেউ নিমের ছাল ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করে আবার কেউ পাতা ছিড়ে নিয়ে শিলে পিষে বা গরম তেলে ভেজে ঔষধ হিসেবে সেবন করে। চুলকানি বা চর্মরোগ সারিয়ে দেয় নিমগাছ; আবার যকৃৎ ও দাঁত ভালো রাখে । নিমগাছ পাতা, বাকল, ছায়া ইত্যাদি দ্বারা সকলের সেবা করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। এই নিঃস্বার্থ নিরলস অবদানের বিষয়টি উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে।

উদ্দীপকে যে শিক্ষকতা পেশার কথা বলা হয়েছে সেই শিক্ষকগণও নিজেদের আরাম-আয়েশ ও সুখ বিসর্জন দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনে শ্রম দেন। সারাদিন ক্লাস করা, প্রশ্ন করা, পরীক্ষার খাতা দেখা ইত্যাদি করতে গিয়ে নিজেদের দিকে তাকানোর সুযোগ হয় না তাদের। ডিসি, এসপি, থেকে শুরু করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমনকি সচিব-মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিসহ সকলকেই শিক্ষকগণ অক্লান্ত শ্রমে গড়ে তুলেছেন। তাই নিমগাছের অবদানের সাথে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকতা পেশা তুলনীয়।

এসএসসি বাংলা সকল অধ্যায় নোট পেতে এখানে ক্লিক করুন

. ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ যেমন নিবেদিতপ্রাণ সেবক হিসেবে ভূমিকা পালন করে, উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকগণও তেমনি জাতির মেরুদণ্ড নির্মাণে ভূমিকা পালন করেন।

নিমগাছ তার পাতা, বাকল ও ছায়া দিয়ে মানুষকে নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও সে অনাদরে অবহেলায় আবর্জনার স্তুপে পড়ে থাকে তবুও নিজের কষ্ট ভুলে অনুযোগহীন সেবা দিয়ে যায়। কবিরাজ তার চিকিৎসার কাজে, সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে অনবরত ব্যবহার করে থাকে।

তাই নিমগাছের যে মহৎ অবদানের কথা গল্পে আলোচিত হয়েছে তা উদ্দীপকের শিক্ষকতা পেশাতেও লক্ষণীয়। শিক্ষকগণ জাতি গড়ার কারিগর। ডিসি, এসপি থেকে শুরু করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমনকি সচিব-মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিসহ সবাই জাতির মেরুদণ্ডকে দৃঢ় রাখে আর এদেরকে শিক্ষকগণ নিজ হাতে গড়েছেন। সারাদিন অক্লান্তভাবে ক্লাস করা, পরীক্ষার প্রশ্ন করা, খাতা দেখা ইত্যাদি করতে করতে শিক্ষকরা নিজেদের আরাম-আয়েশ বর্জন করেন।

‘নিমগাছ’ গল্পে সহনশীল যে প্রতিমূর্তি নিমগাছের মধ্যে দেখা যায় সে বিষয়টি উদ্দীপকের শিক্ষকদের ত্যাগ ও এমনিষ্ঠার মাঝে প্রতীয়মান।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

এসএসসি সকল বিষেয় সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Comment