রসায়ন (Chemistry) – দ্বিতীয় অধ্যায়-পদার্থের অবস্থা

Sharing is caring!

নবম দশম – রসায়ন

দ্বিতীয় অধ্যায়-পদার্থের অবস্থা

States of Matter

প্রশ্নঃ পদার্থ কাকে বলে? অবস্থাভেদে পদার্থ কত প্রকার কী কী ?

উত্তরঃ পদার্থ : যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, যার ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং যার জড়তা আছে, তাকে পদার্থ বলে। টেবিল, চেয়ার, মাটি, পানি, বাতাস ইত্যাদি পদার্থের উদাহরণ।

প্রশ্নঃ অবস্থাভেদে পদার্থ কত প্রকার কী কী ?

উত্তরঃ পদার্থের অবস্থাভেদ : প্রকৃতিতে পদার্থ তিন অবস্থায় থাকতে পারে। যথা :

১. কঠিন, ২. তরল ও ৩. গ্যাসীয়।

সাধারণ তাপমাত্রায় তামা, লোহা, কাঠ প্রভৃতি কঠিন পদার্থ; পারদ, পানি, দুধ প্রভৃতি তরল পদার্থ এবং অক্সিজেন, নাইট্রোজেন প্রভূতি হলো গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থ।

আবার অবস্থা বিশেষে নির্দিষ্ট কোনো পদার্থ কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে পারে। যেমন : বরফ, পানি ও জলীয়বাষ্প হলো যথাক্রমে পানির কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা।

কঠিন পদার্থ: সাধারণ অবস্থায় যেসব পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন থাকে, তাদের কঠিন পদার্থ বলে। যেমন: পাথর, লবণ, লোহা, বরফ ইত্যাদি।

কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য :

১. নির্দিষ্ট তাপ ও চাপে কঠিন পদার্থের আকার ও আয়তন সর্বদা নির্দিষ্ট থাকে।

২. তাপ প্রয়োগে সাধারণত কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়। যেমন : বরফকে উত্তপ্ত করলে তা গলে পানিতে পরিণত হয়।

ব্যতিক্রম : ন্যাপথালিন, আয়োডিন, কপূর, নিশাদল প্রভৃতি কঠিন পদার্থ তাপের প্রভাবে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এবং শীতল করলে বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় ফিরে আসে। একে উর্ধ্বপাতন বলে।

৩. প্রচন্ড চাপ প্রয়োগেও কঠিন পদার্থের আয়তনের বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয় না।

৪. কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা থাকে। বাইরের থেকে বল প্রয়োগ না করলে কঠিন পদার্থের আকার ও আয়তনের বিকৃতি ঘটানো যায় না।

তরল পদার্থ: সাধারণ অবস্থায় যেসব পদার্থের আয়তন নির্দিষ্ট কিন্তু আকার নির্দিষ্ট নয়, তাদের তরল পদার্থ বলে। যেমন: পানি, তেল, দুধ প্রভৃতি তরলপদার্থ।

তরল পদার্থের বৈশিষ্ট্য :

১. নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে তরল পদার্থের আয়তন নির্দিষ্ট থাকে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার থাকে না। যখন যে পাত্রে রাখা হয়, তখন সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।

২. তাপমাত্রা বাড়ালে তরলের আয়তন বাড়ে। তরলের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়াতে থাকলে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌছে তরল বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে।

৩. তরলের তাপমাত্রা ক্রমশ কমালে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এসে তরল কঠিনে পরিণত হয়।

৪. তরলের অণুসমূহ স্থান পরিবর্তন করতে পারে। এজন্য তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার থাকে না।

গ্যাসীয় পদার্থ : সাধারণ অবস্থায় যে পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন থাকে না, তাকে গ্যাসীয় পদার্থ বলে। যেমন : বায়ু, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি গ্যাসীয় পদার্থ।

গ্যাসীয় পদার্থের বৈশিষ্ট্য :

১. গ্যাসীয় পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। গ্যাস বর্ণহীন বলে তা দেখা যায় না।

২. গ্যাসীয় পদার্থের পরিমাণ যত কমই হোক না কেন, তা যে পাত্রে রাখা হবে সে পাত্রের পুরো স্থান দখল করে থাকে।

৩. গ্যাসীয় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি, তাই আকর্ষণ শক্তি অনেক কম, ফলে তারা প্রায় মুক্তভাবে চলাচল করে।

৪. একই তাপমাত্রা ও চাপে সমআয়তন সব গ্যাসে সমান সংখ্যক অণু থাকে।

প্রশ্নঃ কঠিন, তরল গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের ধর্মের তুলনা কর।

উত্তরঃ কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের কতিপয় ধর্মের তুলনা :

ধর্মকঠিন অবস্থাতরল অবস্থাগ্যাসীয় অবস্থা
আকার ও আকৃতিনির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি রয়েছেনির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি নেই, পাত্রের আকার ধারণ করেনির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি নেই, পাত্রের আকার ধারণ করে
আয়তননির্দিষ্টনির্দিষ্টনির্দিষ্ট আয়তন নেই
আন্তঃকণা শক্তিঅত্যন্ত প্রবলতুলনামূলকভাবে কমঅত্যন্ত কম
আন্তঃকণা ফাঁকা স্থানকমতুলনামূলকভাবে বেশীঅত্যন্ত বেশী
গতি শক্তিঅত্যন্ত কমতুলনামূলকভাবে বেশীঅত্যন্ত বেশী
ঘনত্ববেশীকঠিন পদার্থের তুলনায় কমসাধারণ তাপ ও চাপে খুবই কম
অবস্থার পরিবর্তনতাপ প্রয়োগে তরলে এবং বাষ্পে পরিণত হয়শীতল করলে কঠিন অবস্থায় এবং তাপ প্রয়োগে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয়।শীতল করলে বা চাপ বৃদ্ধি করলে তরলে এবং আরো শীতল। বা চাপ প্রয়োগে কঠিন অবস্থায় পরিণত হতে পারে
সংকোচন ও প্রসারণশীলতাঅতিসামান্যতুলনামূলকভাবে বেশী  অত্যন্ত বেশী  

প্রশ্নঃ পদার্থের প্লাজমা অবস্থা বলতে কী বুঝ?

উত্তরঃ পদার্থের প্লাজমা অবস্থা (Plasma State): পদার্থের সর্বোচ্চ শক্তি সম্বলিত ভৌত অবস্থাকে পদার্থের প্লাজমা অবস্থা বলে। সাধারণত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে সূর্য ও নক্ষত্রমন্ডলীর পরিমন্ডলে প্লাজমার উপস্থিতি জানা যায়।

রসায়ন নোট PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

বৈশিষ্ট্যঃ

  • প্লাজমা অবস্থায় পদার্থের কণাগুলো প্রচন্ডগতিতে ছুটাছুটি করে ।
  • এই অবস্থায় কণাগুলো আধানযুক্ত হয় তবে সামগ্রিকভাবে চার্জ নিরপেক্ষ হয়।
  • সাধারণত (104-105)°C তাপমাত্রায় কিছু কিছু পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় থাকে। |

প্রশ্নঃ গ্যাস বাষ্পের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

উত্তরঃ গ্যাস ও বাষ্পের মধ্যে পার্থক্যঃ

পার্থক্যের বিষয়। বাষ্প গ্যাস
১। সংজ্ঞা   ১। কোন পদার্থের সন্ধি তাপমাত্রার নিচে পদার্থের অবস্থাকে গ্যাস বলে।  ১। কোন পদার্থের সন্ধি তাপমাত্রার উপরে পদার্থের বায়বীয় বায়বীয় বা গ্যাসীয় অবস্থাকে বাষ্প বলে।
২। তরলীকরণ২। এ অবস্থায় পদার্থকে শুধু চাপ প্রয়োগে সংকুচিত করলে অথবা শীতল করলে বাষ্প তরলে রূপান্তরীত হয়।২। সন্ধি তাপমাত্রার উপরে গ্যাসীয় অবস্থাকে চাপ প্রয়োগে সংকুচিত করে তরল করা যায় না। [ সন্ধি তাপমাত্রার নীচে এনে চাপ প্রয়োগ করলেই কেবল গ্যাস তরলীকরণ করা যায়।]
৩। উদাহরণঃ৩। বায়ুতে জলীয় বাষ্প, অ্যামোনিয়া গ্যাসের বাষ্প ইথানলের বাষ্প।৩। CO2, N2, O2 ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ গ্যাসের চাপ কী? তাপ প্রয়োগে পদার্থের আয়তন বাড়ে কেন?

উত্তরঃ গ্যাসের চাপ ও কোনো আধারের গায়ে গ্যাসীয় কণাসমূহ যে চাপ প্রদান করে তাকে গ্যাসের চাপ বলে। পদার্থ মাত্রই অনেকগুলো অণুর সমষ্টি। পদার্থকে তাপ দিলে বা তাপ প্রয়োগ করলে অণুগুলো গতিপ্রাপ্ত হয় এবং এদের মধ্যে আন্তঃআণবিক দূরত্ব বেড়ে যায়। ফলে পদার্থের আয়তন বেড়ে যায়।

গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে আয়তন সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় এবং আবদ্ধ পাত্রের গায়ে সজোরে চাপ প্রয়োগ করে।

প্রশ্নঃ পদার্থের রূপান্তর বা অবস্থার পরিবর্তন বলতে কী বুঝ?

উত্তরঃ পদার্থের রূপান্তর বা অবস্থার পরিবর্তন : অবস্থাবিশেষে নির্দিষ্ট কোনো পদার্থ কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে পারে। যেমন : বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প একই পদার্থ। তাপ বাড়িয়ে বা কমিয়ে এদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যায়। সাধারণ তাপমাত্রায় পানি একটি তরল পদার্থ। পানিকে ঠান্ডা করলে। 0°C তাপমাত্রায় তা বরফে পরিণত হয়। এই বরফে তাপ দিলে তা আবার পানিতে পরিণত হয়। পুনরায় 100°C তাপমাত্রায় পানি জলীয়বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। জলীয় বাষ্পকে ঠান্ডা করলে তা পুনরায় পানিতে পরিণত হয়। এভাবে তাপের পরিবর্তন করে পদার্থকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর বা পরিবর্তন করা যায়।

প্রশ্নঃ কণার গতিতত্ত বলতে কী বুঝ?

উত্তরঃ কণার গতিতত্ত্ব : সকল পদার্থই ক্ষুদ্রতম কণিকা দ্বারা তৈরি এবং তা কঠিন, তরল অথবা গ্যাসীয় এই তিন অবস্থার যেকোনো একটি অবস্থায় থাকে। সকল অবস্থায় পদার্থের কণাসমূহ গতিশীল থাকে।

প্রশ্নঃ আন্তঃআণবিক শক্তি আন্তঃআণবিক দূরত্ব কী? বিভিন্ন পদার্থের কণার ক্ষেত্রে তাপের প্রভাব গতিতত্তের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ আন্তঃআণবিক শক্তি : প্রত্যেক পদার্থই অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এই অণুসমূহ পরস্পরকে আকর্ষণ করে। যে শক্তি বলে অণুসমূহ পরস্পরকে আকর্ষণ করে তাকে আন্তঃআণবিক শক্তি বলে। আকর্ষণের পরিমাণ বস্তুর প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। কঠিন পদার্থের আন্তঃআণবিক শক্তি সবচেয়ে বেশি। এজন্যই অণুগুলো পরস্পরের খুব কাছাকাছি এবং দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে। তাই নড়াচড়া করলেও স্থানান্তরিত হতে পারে না। তরল পদার্থের আন্তঃআণবিক শক্তি কঠিন পদার্থের তুলনায় কম। সেজন্য অণুগুলো কিছুটা দূরে অবস্থান করে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। বায়বীয় পদার্থের আন্তঃআণবিক শক্তি সবচেয়ে কম। সেজন্যই অণুগুলো বেশ দূরে দূরে অবস্থান করে এবং কোনো আবদ্ধ পাত্রে না রাখলে তা চারদিকে মুক্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তঃআণবিক দূরত্ব : পদার্থ মাত্রই অনেক অণুর সমষ্টি। অণুগুলো একত্রে পাশাপাশি থাকে। পাশাপাশি থাকার কারণে এগুলোর মধ্যে কিছু ফাকা জায়গা। থেকে যায়। দুটি অণুর মধ্যবর্তী এরূপ ফাঁকা জায়গা বা দূরত্বকে আন্তঃআণবিক দূরত্ব বলে। অর্থাৎ অণুসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্বকে আন্তঃআণবিক দূরত্ব বলে। আন্তঃআণবিক দূরত্ব বেড়ে গেলে আন্তঃআণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।।

প্রশ্নঃ বিভিন্ন পদার্থের কণার ক্ষেত্রে তাপের প্রভাব গতিতত্তের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : বিভিন্ন পদার্থের কণার ক্ষেত্রে তাপের প্রভাব গতিতত্তের সম্পর্কঃ সকল পদার্থই ক্ষুদ্রতম কণিকা দ্বারা তৈরি এবং তা কঠিন, তরল অথবা গ্যাসীয় এই অবস্থার যে কোনো একটি অবস্থায় থাকে। সকল অবস্থায় পদার্থের কণাসমূহ গতিশীল থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পদার্থের অণুসমূহের গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। যদি কোনো পদার্থের অণুসমূহের গতিশক্তি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ অপেক্ষা কম হয় তবে ঐ বস্তুটি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে এক পর্যায়ে পদার্থের অণুসমূহের গতিশক্তি, অণুসমূহের আন্তঃআণবিক শক্তির প্রায় সমান হয়। ফলে পদার্থটি তরল দশা প্রাপ্ত হয়।

আবার, তরল পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে পদার্থের অণুসমূহের গতিশক্তি, অণুসমূহের আন্তঃআণবিক শক্তিকে অতিক্রম করে। ফলে, পদার্থের অণুসমূহ। মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। অর্থাৎ তরল পদার্থটি গ্যাসীয় অবস্থা লাভ করে। তরল পদার্থ থেকে তাপ হ্রাস করা হলে অণুসমূহের গতি হ্রাস পেয়ে। গতিশীলতা শূন্য হয়ে তরল পদার্থ কঠিন অবস্থা লাভ করে।

প্রশ্নঃ শুষ্ক বরফ তরল স্ফটিক কী?

উত্তরঃ শুষ্ক বরফ ও কঠিন কার্বন ডাইঅক্সাইডকে (CO2) শুষ্ক বরফ বলা হয়।

তরল স্ফটিক : কিছু কিছু পদার্থ তাপ প্রয়োগে সরাসরি পরিষ্কার তরলে রূপান্তরিত না হয়ে একটি অস্বচ্ছ তরলে পরিণত হয়। এ অবস্থায় পদার্থটি তরল পদার্থের ন্যায় প্রবাহিত হতে পারে আবার কঠিন স্ফটিকের মতো ত্রিমাত্রিক আণবিক গঠন অর্জন করতে পারে। তাই এদেরকে তরল স্ফটিক বলে।

প্রশ্নঃ গলন স্ফুটন কাকে বলে?

উত্তরঃ গলন : কোনো কঠিন পদার্থের তরলে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে গলন বলে। গলন চলাকালীন পদার্থের তাপমাত্রা স্থির থাকে।

এসএসসি সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

স্ফুটন : কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে স্ফুটন বলে। স্ফুটন চলাকালীন অবস্থায় পদার্থের তাপমাত্রা স্থির থাকে।

প্রশ্নঃ গলনাঙ্ক স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে? গলনাঙ্ক স্ফুটনাঙ্কের সাথে আন্তঃআণবিক শক্তির সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ গলনাংক : যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত হতে শুরু করে সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে ওই কঠিন পদার্থের গলনাংক বলে। অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় কোনো বস্তুর অণুসমূহের আন্তঃআণবিক বল ও অণুসমূহের গতিশক্তি সমান হয় বা বস্তুটি তরলে পরিণত হয় তাকে ঐ বস্তুর গলনাঙ্ক বলে। যেমন : 0°C তাপমাত্রায় বরফ গলে পানিতে পরিণত হয়। সুতরাং বরফের গলনাংক 0°C।

স্ফুটনাংক : যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল ফুটতে থাকে এবং বাষ্পে পরিণত হতে থাকে, সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে ওই তরল পদার্থের স্ফুটনাংক বলে।

অর্থাৎ স্বাভাবিক চাপে (latm) যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয় তাকে উক্ত পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। যেমন : পানির ফুটনাংক 100°C। অর্থাৎ 100°C তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে এবং বাষ্পে পরিণত হয়।

গলনাঙ্ক স্কুটনাঙ্কের সাথে আন্তঃআণবিক শক্তির সম্পর্ক : বস্তুর আন্তঃআণবিক শক্তি বেশী হলে অণুসমূহের কম্পমাত্রা কমে যায়। আবার তাপ যত বাড়ে অণুসমূহের কম্পমাত্রা তত বৃদ্ধি পায় যা গতিশক্তিতে রূপান্তরর ফলে তাদের মধ্যবর্তী আন্তঃআণবিক শক্তি হ্রাস পেয়ে কঠিন দশা থেকে তরল দশায় রূপান্তরীত হয়। তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হলে অণুসমূহের মধ্যকার গতিশক্তি অত্যন্ত বেশি বৃদ্ধির দরূন আন্তঃআণবিক শক্তি প্রায় বিলুপ্ত ঘটে এবং গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়।

আন্তঃআণবিক শক্তি বেশী হলে তার গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক খুব বেশী হয়। যেমন-সাধারণ লবণের গলনাঙ্ক 801°c , স্ফুটনাঙ্ক 1465°c।

অপরদিকে বস্তুর আন্তঃআণবিক শক্তি খুব কম হলে নিম্ন তাপমাত্রাতেই তার অণুসমূহ পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। যেমন- হাইড্রোজেনের আন্তঃআণবিক শক্তি খুবই কম, এ কারণে তার গলনাঙ্ক -259°C এবং স্ফুটনাঙ্ক -253°c। পানির অণুসমূহের মধ্যকার আন্তঃআণবিক শক্তি সাধারণ লবণের ন্যায় অত্যাধিক বেশী না হলেও মোটামুটি বেশী। এ কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C এবং গলনাঙ্ক 0°c।

প্রশ্নঃ পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন হয় কেন?

উত্তরঃ পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের মূল কারণ তাপ। প্রতিটি পদার্থে আন্তঃআণবিক শক্তির কারণে অণুসমুহ পরস্পরের সন্নিকটে অবস্থান করে। অন্যদিকে অণুসমূহ সর্বদা কম্পমান থাকে। তাপমাত্রা যত বাড়ে কম্পনও তত বাড়ে। তাপশক্তির প্রভাবে তাদের মধ্যে গতির সঞ্চার হওয়ায় পরস্পর ধাক্কা খেতে থাকে ফলে অণুসমূহের মধ্যে আন্তঃআণবিক দূরত্ব বেড়ে যায় এবং আন্তঃআণবিকশক্তি কমে যাওয়ায় পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায় এবং আয়তন বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে অণুসমূহ বন্ধন ছিন্ন করে। আবার তাপমাত্রা হ্রাস করলে অণুসমূহ পরস্পরের কাছাকাছি আসে।এভাবে তাপের প্রভাবে পদার্থের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

প্রশ্নঃ আয়োডিন/ ন্যাপথ্যালিনকে উদ্বায়ী বা উধ্বপাতী পদার্থ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ যেসব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে বা স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দিলে তা তরল না হয়ে সরাসরি কটিন হতে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয় তাদের উর্ধ্বপাতী বা উদ্বায়ী পদার্থ বলে (প্রক্রিয়াটিকে উর্ধ্বপাতন বলে)।

অর্থাৎ যেসব পদার্থে তাপ দিলে কঠিন অবস্থা থেকে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় বা তাপ সরিয়ে নিলে গ্যাসীয় অবস্থা থেকে কঠিনে পরিণত হয় তাদেরকে উদ্বায়ী পদার্থ বলে। এসব পদার্থে তরল দশা অনুপস্থিত। আয়োডিনকে তাপ দিলে বা স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দিলে তা কঠিন থেকে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এজন্য আয়োডিনকে উর্ধ্বপাতী পদার্থ বলা হয়।

প্রশ্নঃ বরফ গলনের সময় এর তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না কেন?

উত্তরঃ যে তাপ বস্তুর তাপমাত্রার পরিবর্তন না ঘটিয়ে শুধু অস্থার পরিবর্তন ঘটায় তাকে সুপ্ততাপ বলে। বরফ ও পানি একই পদার্থের দুটি ভৌত অবস্থা। বরফ কঠিন এবং পানি তরল। ফলে বরফের মধ্যে পানি অপেক্ষা আন্তঃআণবিক শক্তি বেশি থাকে। বরফ গলনের সময় বরফ সুপ্ততাপ গ্রহণ করে পানিতে পরিণত হয়।

অর্থাৎ বরফ গলনের সময় তাপমাত্রা বাড়ে না করণ তখন এ তাপ বরফ গলনে ব্যবহৃত হয়ে যায়। ফলে তাপ দিলেও থার্মোমিটারে বরফ গলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাপ অপরিবর্তিত থাকে। এজন্য বরফ গলনের সময় পর্যন্ত তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না।

প্রশ্নঃ ব্যাপন নিঃসরণ বলতে কী বুঝ?

উত্তরঃ ব্যাপন/গ্যাসের ব্যাপন (Diffusion of gases): উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফুর্ত ও সমভাবে পরিব্যপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।

অর্থাৎ, দুটি অসমান ঘনত্বের গ্যাসের পরস্পরের মধ্যে মিশ্রণের পদ্ধতিকেই বলা হয় গ্যাসের ব্যাপনপ্রণালী। যেমন- একটি ঘরের মধ্যে Cl2 ছড়িয়ে পড়ার পরীক্ষা। Cl2 বাতাসের চেয়ে 2.5 গুণ ভারী।

ব্যাপন : কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় বস্তুর স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।

ব্যাপন প্রক্রিয়ায়:

১. পদার্থের অণুগুলো বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

২. ব্যাপন গ্যাসে-গ্যাসে, তরলে-তরলে, তরলে-গ্যাসে, কঠিনে-তরলে এবং কঠিনে-গ্যাসে ঘটতে পারে।

৩. সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের সময় প্রয়োজনীয় গ্যাসের আদান-প্রদান ব্যাপনের মাধ্যমে ঘটে।

নিঃসরণ বা অণুব্যাপন (Effusion) : সরু ছিদ্র পথ দিয়ে কোনো গ্যাসের অণুসমূহের উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে দ্রুত বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। উচ্চ চাপের প্রভাবে এটি একটি গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। এটি ছিদ্র পথে অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত পথে ঘটে। যেমন- প্রেসার কুকারের গ্যাস বের হওয়া নিঃসরণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। গাড়ির চাকার গ্যাস লিকের মাধ্যমে বের হওয়া।

প্রশ্নঃ ব্যাপন প্রভাবকসমূহ লিখ।

উত্তরঃ ব্যাপনের প্রভাবকসমূহ

. তাপমাত্রাঃ তাপমাত্রা বাড়লে সাধারণত ব্যাপন হার বাড়ে।

. বায়ুমন্ডরের চাপঃ বায়ুমন্ডলের চাপ বাড়লে ব্যাপন হার কমবে কিন্তু বায়ুমন্ডলের চাপ কম হলে ব্যাপন হার বাড়বে।

. পদার্থের অণুর ঘনত্বঃ যার ব্যাপন ঘটবে সে পদার্থের অণুর ঘনত্ব বেশি থাকলে ব্যাপন হার বেশি হবে। অণুর ঘনত্ব কম হলে ব্যাপন হার কম হবে।

. মাধ্যমের ঘনত্বেরঃ পানি, বায়ু ইত্যাদি যে মাধ্যমে ব্যাপন হবে সে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি হলে ব্যাপন হার কম হবে, মাধ্যমের ঘনত্ব কম হলে ব্যাপন হার বাড়বে।

প্রশ্নঃ ব্যাপন নিঃসরণের ক্ষতিকর দিকগুলি লিখ।

উত্তরঃ ব্যাপনের ক্ষতিকর দিকঃ

১. ব্যাপনের ফলে দুর্গন্ধ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

২. কলকারখানার বিষাক্ত গ্যাস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে পরিশের ক্ষতি করছে।

৩. কলকারখানার দূষিত পানি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় নদীর পানিকে দূষিত করছে।

৪. পরিবেশে কার্বনডাইঅক্সাইড এর ব্যাপনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিঃসরণের ক্ষতিকর দিকঃ

১. সিলিন্ডার বিস্ফেরণের মাধ্যমে গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

২. নিউক্লিয়ার চুল্লীতে গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

৩. বডি স্প্রে হতে সুগন্ধি দ্রব্যসমূহ বের হয়ে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে।

প্রশ্নঃ ব্যাপন নিঃসরণ এর মধ্যে পার্থক্যঃ

উত্তরঃ ব্যাপন ও নিঃসরণ এর মধ্যে পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো:

পার্থক্যের বিষয় ব্যাপন নিঃসরণ
১. সংজ্ঞাউচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্নঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফুর্ত ও সমভাবে পরিব্যপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।বাহ্যিক চাপের প্রভাবে সরু ছিদ্র পথ দিয়ে কোন গ্যাসের সজোরে বের হয়ে আসাকে নিঃসরণ বলে।
২. কারণগ্যাস অণুসমূহের ইতস্ত বিক্ষিপ্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন ঘটে।চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ ঘটে।
৩. আণবিক ভর ব্যাপন প্রণালীর সাহায্যে আণবিক ভর নির্ণয় করা যায়।আণবিক ভর নির্ণয়ে নিঃসরণ প্রণালী ব্যাপন প্রণালী অপেক্ষা সুবিধাজনক।
৪. প্রকৃতিব্যাপন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা।নিঃসরণ একটি যান্ত্রিক ঘটনা।
৫. গতিব্যাপন একটি ধীর প্রক্রিয়া।নিঃসরণ একটি দ্রুত প্রক্রিয়া।
৬. উদাহরণফুলের সুগন্ধ ছাড়ানোর ঘটনা।গাড়ির চাকার গ্যাস লিকের মাধ্যমে বের হওয়া।

প্রশ্ন : দহন সুপ্ততাপ কাকে বলে?

উত্তর: দহন : কোনো পদার্থকে বাতাসে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পোড়ালে তাকে দহন বলে। সকল দহনেই তাপশক্তি নির্গত হয়। মোমের জ্বলন বা দহনের ফলে CO2(g) ও H2O (g) এবং এর সাথে আরও উৎপাদিত হয় তাপ ও আলো।

সুপ্ততাপ : যখন কোনো পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন চলতে থাকে তখন পদার্থ যে তাপ গ্রহণ বা বর্জন করে তা ঐ পদার্থের তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। এই তাপকে সুপ্ততাপ বলে। সুপ্ততাপ গ্রহণ করে কঠিন পদার্থ তরলে ও তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে এবং সুপ্ততাপ বর্জন করে গাসীয় পদার্থ তরলে ও তরল পদার্থ কঠিনে পরিণত হয়।

প্রশ্ন : উর্ধ্বপাতন বলতে কী বুঝ?

উত্তর: উর্ধ্বপাতন : যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থ তাপের প্রভাবে তরল অবস্থাপ্রাপ্ত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয় এবং ঐ বাষ্পকে ঠান্ডা করলে। সরাসরি ঐ কঠিন পদার্থই পাওয়া যায়, সেই প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। ন্যাপথালিন, আয়োডিন, কপূর, কঠিন CO2, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (নিশাদল) ইত্যাদি উর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ।

প্রশ্নঃ মোল কী?

উত্তরঃ কোন পদার্থের গ্রাম পারমাণবিক বা গ্রাম আণবিক ভরকে সংক্ষেপে মোল বলে। যেমন- CO2 এর আণবিক ভর = 44।

অতএব, 1 mol CO2 =44 g (গ্রাম)।

প্রশ্নঃ H2 অপেক্ষা CO2 এর ব্যাপন কাল বেশি কেন?

উত্তরঃ ব্যাপন বস্তুর ভরও ঘনত্বের ওপর নির্ভরশীল। বস্তুর ভর বেশি হলে ব্যাপন হার কম হবে অর্থাৎ ব্যাপন সময় বেশি হবে। হাইড্রোজেনের (H2 ) আণবিক ভর = 1×2 = 2, কার্বন ডাইঅক্সাইডের (CO2 ) আণবিক ভর = 12+16×2= 44।

সুতরাং হাইড্রোজেনের তুলনায় কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভর বেশি হওয়ায় ইহার ব্যাপন হার কম অর্থাৎ ব্যাপন সময় বেশি লাগবে।

প্রশ্নঃ NH3 HCl গ্যাসের পরীক্ষার সাহায্যে গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র প্রমাণ কর।

উত্তরঃ দুমুখ খোলা একটি কাঁচ নল নিয়ে দু টুকরা তুলার একটিকে HCl এবং অপরটিকে অ্যামোনিয়া (NH3 ) দ্রবণে ভিজিয়ে কাঁচ নলের দুই মুখে রেখে দিলে কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে, কাঁচ নলের ভিতরে একটি স্থানে NH4Cl এর সাদা ধোয়া সৃষ্টি হয়েছে। যে স্থানে সাদা ধোয়ার সৃষ্টি হবে, সে স্থানটি তুলনামূলক ভাবে HCl এর কাছাকাছি হবে। কারণ NH3 এর আণবিক ভর (17), HCl এর আণবিক ভরের (36.5) চেয়ে কম। গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র হতে আমরা জানি, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও চাপে কোন গ্যাসের ব্যাপন হার তার ঘনত্বের তথা আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

অর্থাৎ ব্যাপনের হার r এবং আণবিক ভর M হলে,

যেহেতু NH3 গ্যাসের আণবিক ভর HCl গ্যাসের চেয়ে কম। তাই গ্রাহামের সূত্রানুযায়ী NH3 এর ব্যাপন প্রক্রিয়ার হার বেশী।

প্রশ্নঃ NH3 এবং HCl এর মধ্যে HCl এর ব্যাপন হার বেশি এবং কেন?

উত্তরঃ NH3 এবং HCl এর মধ্যে HCl এর ব্যাপন হার বেশি। নিম্নে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলোঃ গ্যাসের ঘনত্ব ও ভরের ওপর ব্যাপন হার নির্ভর করে। গ্যাসের ঘনত্ব ও ভর বেশি হলে তার ব্যাপন হার কম হয়। অ্যামোনিয়া এর আপেক্ষিক ভর (17), হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের আপেক্ষিক আণবিক ভর (36.5) অপেক্ষা কম। ঘনত্ব কম হওয়ায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের ব্যাপন হার হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের ব্যাপন হার অপেক্ষা বেশি (প্রায় 1.5 গুণ)। ফলে একই সময়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের তুলনায় 1.5 গুণ পথ ব্যাপিত হয়ে অতিক্রম হয়।

এখানে, NH3 এর আণবিক ভর = 17 (NH3 এর বাষ্প ঘনত্ব 17:2 = 8.5) এবং HCl এর আণবিক ভর = 36.5 (HCl এর বাষ্প ঘনত্ব 36.5-2=18.25) ।

আমরা জানি, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও চাপে কোন গ্যাসের ব্যাপন হার তার ঘনত্বের তথা আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

উপরিউক্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, গ্যাসের আণবিক ভর বৃদ্ধির ফলে গ্যাসের ব্যাপন হার হ্রাস পায় এবং গ্যাসের আণবিক ভর হ্রাস পেলে গ্যাসের ব্যাপন হার বৃদ্ধি পায়। যেহেতু NH3 এর আণবিক ভর= 17 (NH3 এর বাষ্প ঘনত্ব 17:2 = 8.5) এবং HCl এর আণবিক ভর= 36.5 (HCl এর বাষ্প ঘনত্ব 36.5-2=18.25) অপেক্ষা কম সেহেতু NH3 এর ব্যাপন হার HCl এর ব্যাপন হার অপেক্ষা বেশি।

প্রশ্নঃ গ্যাসের মোলার আয়তন কি?

উত্তরঃ প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে কোন পদার্থের এক গ্রাম-পরমাণবিক বা আণবিক ভর কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। যেমন-CO2 এর আণবিক ভর–44।

অতএব, 1 mol CO2 গ্যাস =44 g।

প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে 44 g CO2 গ্যাস কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে মোলার আয়তন বলে।

STP তে সকল গ্যাসের মোলার আয়তন সমান অর্থাৎ 22.4L।

প্রশ্নঃ মিশ্রন যৌগের মধ্যে পার্থক্য লিখ।

উত্তরঃ মিশ্রন ও যৌগের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপঃ

মিশ্রনযৌগ
১। দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোন অনুপাতে মিশালে যদি তারা স্ব-স্ব ধর্ম বজায় রেখে পাশা-পাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রন বলে।১। যে বস্তুকে রাসায়নিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তাকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে।
২। মিশ্রনে পদার্থ সমূহের নিজ নিজ ধর্ম অক্ষুন্ন থাকে।২। যৌগে মৌলসমূহের নিজ নিজ ধর্ম লোপ পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের সৃষ্টি হয়।
৩। মিশ্রন সাধারণত দুই প্রকারের যথা-সমসত্ত্ব ও অসমসত্ত্ব মিশ্রন।৩। যৌগের কোন সুনির্দিষ্ট প্রকারভেদ নেই।
৪। মিশ্রনের মধ্যকার উপাদান সমূহকে সহজেই পৃথক করা যায়।৪। যৌগ গঠিত হওয়ার পর মৌলসমুহের পৃথকীকরণ দুঃসাধ্য।
৫। পানিতে চিনির দ্রবণ বা শরবত একটি মিশ্রনের উদাহরণ।৫। “পানি ” একটি যৌগের উদাহরণ যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সমন্বয়ে গঠিত।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ কী?

উত্তর : পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ তাপের প্রভাব।

প্রশ্ন ২॥ পদার্থের কোন অবস্থায় আকর্ষণ বল বেশি?

উত্তর : পদার্থের কঠিন অবস্থায় আকর্ষণ বল বেশি।

প্রশ্ন ৩॥ বরফে তাপ দিলে কী হবে?

উত্তর : বরফে তাপ দিলে তা পানিতে পরিণত হবে।

প্রশ্ন জলীয়বাষ্পকে খুব বেশি ঠান্ডা করলে কী ঘটবে?

উত্তর : জলীয়বাষ্পকে খুব বেশি ঠান্ডা করলে একসময় পানি জমাট বেঁধে কঠিন বরফে পরিণত হবে।

প্রশ্ন কোনো আবদ্ধ তরল পদার্থে তাপ দিলে কী ঘটে?

উত্তর : কোনো আবদ্ধ তরল পদার্থে তাপ দিলে তা বাষ্পে পরিণত হবে।

প্রশ্ন গতিশক্তি কী?

উত্তর : পদার্থ যেসব অতি দ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত সেই কণাগুলো পরমশূন্য তাপমাত্রা ব্যতীত অন্য তাপমাত্রায় নড়াচড়া বা চলাফেরার ফলে পদার্থ এক ধরনের শক্তি লাভ করে। পদার্থের এই শক্তিকে গতিশক্তি বলে।

প্রশ্ন কোন ভৌত অবস্থায় আন্তঃকণা ফাঁকা স্থান বেশি?

উত্তর : বায়বীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় আন্তঃকণা ফাঁকা স্থান বেশি থাকে।

প্রশ্ন চাপে কোন পদার্থের আয়তন অধিক মাত্রায় সংকোচনশীল?

উত্তর : চাপে বায়বীয় পদার্থের আয়তন অধিক মাত্রায় সংকোচনশীল।

প্রশ্ন ১০০° সে তাপমাত্রায় পানিতে তাপ দিলে কী ঘটবে?

উত্তর : পানির তাপমাত্রা স্থির থাকবে এবং পানি বাষ্পে পরিণত হবে।

প্রশ্ন ১০ ব্যাপন হার কী?

উত্তর : একক সময়ে কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় বস্তু যতটুকু জায়গাজুড়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ওই বস্তুর ব্যাপন হার বলে।

প্রশ্ন ১১ সিলিন্ডারে ভরে কোন গ্যাস বিক্রি করা হয়?

উত্তর : সিলিন্ডারে ভরে প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাস বিক্রি করা হয় ।

প্রশ্ন ১২ সিএনজিতে প্রধানত কোন গ্যাস থাকে?

উত্তর : সিএনজিতে প্রধানত মিথেন গ্যাস থাকে।

প্রশ্ন ১৩ আদর্শ তাপমাত্রা চাপ কী?

উত্তর : 0°C বা 273°K তাপকে আদর্শ বা প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 atm বা 760 mm চাপকে আদর্শ বা প্রমাণ চাপ বলা হয়।

প্রশ্ন ১৪ কাঁঠালের ত্বকের ছিদ্রপথে গন্ধ বের হয়ে আসাটা কী?

উত্তর : কাঁঠালের ত্বকের ছিদ্রপথে গন্ধ বের হয়ে আসাটা নিঃসরণ।

প্রশ্ন ১৫ দহনের জন্য কী প্রয়োজন?

উত্তর : দহনের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন।

প্রশ্ন ১৬ মোমের দহনে কী উৎপন্ন হয়?

উত্তর : মোমের দহনে CO2, H2O ও তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।

প্রশ্ন ১৭ তাপ প্রদানের বক্ররেখা বলতে কী বোঝ?

উত্তর : যে রেখাচিত্রের সাহায্যে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন সাধারণত কঠিন থেকে তরল অবস্থা বা তরল থেকে গ্যাসীয় অবস্থা অথবা উভয়ই উপস্থাপন। করা হয় তাকে তাপ প্রদানের বক্ররেখা বলা হয়।

রসায়ন নোট PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন ১৮ শীতলীকরণের বক্ররেখা কী?

উত্তর : যে রেখাচিত্রের সাহায্যে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন সাধারণত গ্যাস | থেকে তরল অবস্থা বা তরল থেকে কঠিন অবস্থা অথবা উভয়ই উপস্থাপন করা হয় তাকে শীতলীকরণের বক্ররেখা বলা হয়।

প্রশ্ন ১৯ যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, তাকে কী বলে?

উত্তর : যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় তাকে ওই পদার্থের গলনাংক বলে।

প্রশ্ন ২০ যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে কী বলে?

উত্তর : যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে ঐ পদার্থের ফুটনাঙ্ক বলে।

প্রশ্ন ২১ সুপ্ততাপ কী?

উত্তর : স্থির তাপমাত্রা ও চাপে কোনো পদার্থকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন করতে যে পরিমাণ তাপের শোষণ বা উদগীরণ হয়, তাকে ঐ পদার্থের সুপ্ততাপ বলা হয়।

এসএসসি সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন ২২ কর্পূর কী ধরনের পদার্থ?

উত্তর : কপূর উদ্বায়ী পদার্থ।

প্রশ্ন ২৩ তাপ দিলে তরল না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এমন একটি পদার্থের নাম লেখ।

উত্তর : তাপ দিলে তরল না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এমন একটি পদার্থ হলো কপূর।

প্রশ্ন ২৪ CNG কী?

উত্তর : CNG হলো অধিক চাপে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (Compressed Natural Gas) যেটি যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন ২৫ কোন প্রক্রিয়ায় কঠিন পদার্থের মিশ্রণের উপাদানসমূহকে পৃথক করা সম্ভব?

উত্তর : গলন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠিন পদার্থের মিশ্রণের উপাদানসমূহকে পৃথক করা সম্ভব।

প্রশ্ন ২৬ উর্ধ্বপাতন কী?

উত্তর : যে প্রক্রিয়ায় কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় এবং ঠান্ডা করলে সরাসরি কঠিন রূপান্তরিত হয়, তাকে উধ্বপাতন বলে।

প্রশ্ন ২৭ মোমের বাষ্প কী?

উত্তর : মোমের দহনে সুতার অগ্রভাগে মোম যে গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়, তাকে মোমের বাষ্প বলে।

প্রশ্ন ২৮ ব্যাপন নিঃসরণ হার কীসের উপর নির্ভরশীল?

উত্তর : ব্যাপন ও নিঃসরণ হার বস্তুর ভর এবং ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

প্রশ্ন ২৯ কোনটি গ্যাসীয় অণুর স্বতঃস্ফুর্ত গতিকে বাধা দেয়?

উত্তর : গ্যাসপাত্রের ছিদ্রপথ গ্যাসীয় অণুর স্বতঃস্ফুর্ত গতিকে বাধা দেয়।

প্রশ্ন ৩০ হাসপাতাল ব্যবহারের জন্য কোন গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে রাখা হয়?

উত্তর : হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য অধিক চাপে অক্সিজেন গ্যাস সিলিন্ডারে  ভরে রাখা হয়।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর  

প্রশ্ন পানিতে তাপ দিলে তা বাষ্পে পরিণত হয় কেন?

উত্তর : আন্তঃআণবিক শক্তির কারণে পানিতে তাপ দিলে তা বাষ্পে পরিণত হয়। আন্তঃআণবিক শক্তির কারণে পানির অণুগুলো পরস্পরের কাছাকাছি থাকে। কিন্তু পানিতে তাপ দিলে প্রথমে পানির অণুগুলো নিজ অবস্থানে থেকে কাঁপতে থাকে। তাপমাত্রা যত বাড়ে কম্পনও তত বাড়ে এবং একপর্যায়ে কম্পনশক্তি এত বৃদ্ধি পায় যে অণুগুলো আর স্থির অবস্থানে থাকতে পারে না এবং পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় অর্থাৎ আন্তঃআণবিক শক্তি একেবারেই হ্রাস পায় এবং অণুগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মুক্তভাবে চলাচল করতে থাকে, তখনই পানি আর তরল পানি থাকে না বরং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়।

প্রশ্ন পদার্থের বৈশিষ্ট্য কী কী?

উত্তর : পদার্থের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো :

ক. পদার্থের ভর ও আয়তন আছে।

খ. তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

গ. পদার্থের প্রতিটি কণা আন্তঃআণবিক শক্তি দ্বারা একে অপরকে আকর্ষণ করে।

ঘ, বল প্রয়োগে পদার্থ বাধা দেয়।

প্রশ্ন কঠিন, তরল গ্যাসীয় পদার্থের ওপর সমান চাপ দিলে কী ঘটে?

উত্তর : কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের ওপর সমান চাপ দিলে দেখা যায়। কঠিন পদার্থের অণুগুলো ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করায় এর আয়তনের কোনো পরিবর্তন হয় না। তরল পদার্থের অণুগুলোর আন্তঃআণবিক দূরত্ব হ্রাস পেতে থাকে। ফলে তরলের অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে কঠিনরূপ ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে, গ্যাসীয় পদার্থের বিচ্ছিন্ন অণুগুলো পরস্পরের সন্নিকটে আসে। পর্যায়ক্রমে এটি তরল এবং অবশেষে কঠিন অবস্থাপ্রাপ্ত হয়।

প্রশ্ন কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার আয়তন আছে”— বুঝিয়ে দাও।

উত্তর : কঠিন পদার্থের মধ্যে অণুগুলো পরস্পরের প্রচন্ড আকর্ষণে একটা | পিন্ডের মধ্যে অত্যন্ত কাছাকাছি নিবিড়ভাবে থাকে। এই অণুগলোর মধ্যে বিশেষ কোনো ফাক থাকে না। কাজেই কঠিন পদার্থের আন্তঃআণবিক দূরত্ব | খুবই কম, ফলে আন্তঃআণবিক শক্তি বেশি। এজন্য কঠিন পদার্থের ওপর প্রচন্ড চাপ দিয়েও তার আকার বা আয়তনের পরিবর্তন করা যায় না। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই আছে।

প্রশ্ন হাইড্রোজেনের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই কমব্যাখ্যা কর।

উত্তর : হাইড্রোজেন গ্যাসীয় পদার্থ। গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক দূরত্ব এতই বেশি হয় যে, এদের মধ্যে কোনো আকর্ষণ নেই বললেই চলে। তাই গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর গতিবেগ খুব বেশি। এজন্য অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং সবসময় তীব্রবেগে এদিক ওদিক ইচ্ছামতো ছোটাছুটি করে বেড়ায়। অতএব, হাইড্রোজেনেরও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই কম।

প্রশ্ন তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার নেই কেন?

উত্তর : তরল পদার্থের অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ কঠিন পদার্থের অণুগুলোর | চেয়ে অনেক কম। এ কারণে তরল পদার্থের অণুগুলোপরস্পরের কাছাকাছি না | থেকে দূরে দূরে অণুগুচ্ছ আকারে অবস্থান করে। এজন্য তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও নির্দিষ্ট আকার নেই।

প্রশ্ন তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে গ্যাসের চাপের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : পাত্রে আবদ্ধ গ্যাস পাত্রের দেয়ালে যে চাপ দেয় তাকে গ্যাসের চাপ বলা হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে গ্যাসের অণুসমূহের গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে পাত্রের দেয়ালে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন বিভিন্ন অবস্থায় পদার্থের সংকোচনশীলতা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : শক্তিশালী আকর্ষণ বলের কারণে কঠিন অবস্থায় অণুসমূহ দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। ফলে এ অবস্থায় পদার্থের সংকোচনশীলতা নেই বললেই চলে। চাপে তরল পদার্থ স্বল্পমাত্রায় সংকোচনশীল এবং বায়বীয় পদার্থ অধিকমাত্রায় সংকোচনশীল।

প্রশ্ন গতিশক্তির সাথে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে অণুসমূহের গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে পদার্থটি কঠিন থেকে তরলে পরিণত হয়। তরলকে আরও তাপ দিলে গতিশক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়ে গ্যাসীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়।

কঠিন –গতিশক্তি বৃদ্ধি → তরল —গতিশক্তি আরও বৃদ্ধি বায়বীয় |

প্রশ্ন ১০ পদার্থের আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তি পরস্পর বিপরীতধর্মী ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : পদার্থের আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ও গতিশক্তি পরস্পর বিপরীতধর্মী। কোনো পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে এর আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায় | এবং কণাগুলোর ছুটোছুটি বাড়তে থাকে অর্থাৎ এদের গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

এসএসসি সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন ১১ ব্যাপন নিঃসরণের মধ্যে দুটি প্রধান বৈসাদৃশ্য লেখ।

উত্তর : ব্যাপন ও নিঃসরণের মধ্যে দুটি প্রধান বৈসাদৃশ্য হলো-

ক. ব্যাপন সাধারণ, সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, নিঃসরণ উচ্চচাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া।

খ. নিঃসরণ শুধু সরু ছিদ্রপথে অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত পথে ঘটে। কিন্তু ব্যাপন সরু বা বিস্তৃত উভয় পথেই ঘটতে পারে।

প্রশ্ন ১২ হাইড্রোজেনের তুলনায় কার্বন ডাইঅক্সাইডের ব্যাপন সময় বেশি কেন?

উত্তর : ব্যাপন বস্তুর ভর ও ঘনত্বের ওপর নির্ভরশীল। বস্তুর ভর বেশি হলে ব্যাপনহার কম অর্থাৎ ব্যাপনের সময় বেশি হবে। হাইড্রোজেনের (H2) আণবিক ভর H2 = 1 x 2 = 2। কার্বন ডাইঅক্সাইডের (CO2) আণবিক ভর = 12+ 16 x2 = 44।

সুতরাং হাইড্রোজেনের তুলনায় কার্বন ডাই অক্সাইডের ভর বেশি হওয়ায় এর ব্যাপন হার কম অর্থাৎ ব্যাপন

সময় বেশি লাগবে।

প্রশ্ন ১৩ তাপমাত্রা বাড়ালে ব্যাপনের হার বাড়ে কেন?

উত্তর : আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের কারণে তাপমাত্রা বাড়ালে ব্যাপনের হার বাড়ে। একক সময়ে কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় বস্তু যতটুকু জায়গাজুড়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ওই বস্তুর ব্যাপন হার বলে। কোনো বস্তুর ব্যাপনের হার তার ভর ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের ওপর নির্ভরশীল। আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কম হলে ব্যাপনের হার বেশি হয়, আর আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বেশি হলে ব্যাপনের হার কম হয়। তাপমাত্রা বাড়ালে বস্তুর আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কমে যায় বলে ব্যাপনের হার বাড়ে। |

প্রশ্ন ॥ ১৪ ॥ নিঃসরণ ও ব্যাপনের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব কীরূপ?

উত্তর : নিঃসরণের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব বেশি। বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্র পথ দিয়ে গ্যাস সজোরে বের হয়। একে নিঃসরণ বলে। | বাহ্যিক চাপ ছাড়াও ছিদ্র পথ দিয়ে গ্যাস বের হতে পারে। তখন তাকে ব্যাপন বলা হয়। এজন্য ব্যাপনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক চাপের প্রয়োজন নেই। তাই বলা যায়, নিঃসরণের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব বেশি।

প্রশ্ন ১৫ গ্যাসের ব্যাপনের হার কী কী বিষয়ের উপর নির্ভর করে?

উত্তর : গ্যাসের ব্যাপনের হার প্রধানত গ্যাসের ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া তাপমাত্রা ও চাপের উপরও নির্ভরশীল। গ্যাসের ঘনত্ব বেশি হলে ব্যাপনের হার কম হবে এবং ঘনত্ব কম হলে ব্যাপন বেশি হবে। অর্থাৎ যে গ্যাস যত ভারী হবে তার ব্যাপন বা নিঃসরণ হার তত কম হবে। যেমন : He (হিলিয়াম) ও H2 (হাইড্রোজেন) গ্যাসের মধ্যে He এর ব্যাপনের হার বেশি, কেননা- He এর ঘনত্ব H2 – এর ঘনত্বের চেয়ে কম।

প্রশ্ন ১৬ কাপে ফুটানো পানির ক্ষেত্রে তাপের প্রভাবে ভৌত অবস্থার কীরূপ পরিবর্তন হয়?

উত্তর : সদ্য ফুটানোএক কাপ গরম পানিকে টেবিল রাখলে জলীয় বাষ্পের কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এই অবস্থায় যদি আরও তাপ প্রয়ােগ করা হয় তবে একসময় কাপটি খালি হয়ে যায়, কিন্তু, স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে দিলে তা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে যায়, আর জলীয়বাষ্পকে বের হতে দেখা যায় না।

প্রশ্ন ১৭ হিলিয়াম গ্যাসভর্তি বেলুন থেকে ছিদ্রপথে কীভাবে গ্যাস নিঃসারিত হয়?

উত্তর : হিলিয়াম গ্যাসভর্তি বেলুনে ছিদ্র থাকলে হিলিয়াম গ্যাসের অণুসমূহ ছিদ্রপথে বেরিয়ে পরে। এক্ষেত্রে, যদি চাপ কাজ করে তবে গ্যাসীয় বস্তুর স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার কথা নয়। হিলিয়াম গ্যাসের চাপ বেলুনের ভেতরে এবং বাইরে সমান থাকেনা। বেলুনের ভেতরে চাপ বেশি থাকে। এভাবে, হিলিয়াম গ্যাসভর্তি বেলুনের সরু ছিদ্রপথে অণুসমূহ উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বেরিয়ে আসে।

প্রশ্ন১৮: তাপ প্রয়োগে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : যতই তাপ দেয়া হয় কণাসমূহ ততই গতিশক্তি অর্জন করে এবং চলাচল বেড়ে যায়। তরল অবস্থায় কণাসমূহ দূরে সরে যায়। স্ফুটনে গ্যাসীয় কণাসমূহ তরলের উপরিতল থেকে বাইরে বেড়িয়ে যায় এবং ইচ্ছামতো বিভিন্ন দিকে চলাচল করার মত যথেষ্ট শক্তি অর্জন করে। গতিতত্ত্বের ভিত্তিতে তাপশক্তি ব্যবহার দ্বারা পদার্থকে এক অবস্থা থেকে অপর অবস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব। কঠিনকে তাপ দিয়ে গলনাংকে পৌছালে তা তরলে পরিণত হয়। তরলকে তাপ দিলে স্ফুটনাংকে পৌছালে তা গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয়।

প্রশ্ন১৯. সকল পদার্থই সাধারণত তিন অবস্থায় বিরাজ করেব্যাখ্যা করো।

উত্তর: সকল পদার্থই ক্ষুদ্রতম কণিকা দ্বারা গঠিত। যখন এদের নিজ গতিশক্তি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি অপেক্ষা খুব কম হয় এবং আন্তঃআণবিক দূরত্ব কম থাকে। তখন এ অবস্থাকে বলা হয় কঠিন। গতিশক্তি তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেলে দূরত্ব বাড়ে ও তরল অবস্থার সৃষ্টি হয়। গতিশক্তি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি অপেক্ষা বেশি হলে, দূরত্ব সর্বোচ্চ হয় ও পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় উপনীত হয়। এভাবে সকল পদার্থই কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থায় বিরাজ করে।

প্রশ্ন২০. গতিশক্তির সাথে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে অণুসমূহের পতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে পদার্থটি কঠিন থেকে তরলে পরিণত হয়। তরলকে আরও তাপ দিলে গতিশক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়ে গ্যাসীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন২১. তাপ বাড়ালে গ্যাসের চাপ বাড়ে কেন?

উত্তর : গ্যাসীয় বস্তু প্রতিনিয়ত তার পাত্রের দেয়ালে বল প্রয়োগ করছে। আর এ বল প্রয়োগের কারণেই চাপের সৃষ্টি হয়। গ্যাসীয় বস্তুর আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কম এবং গতিশক্তি বেশি থাকে। তাই এরা প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করে। এখন তাপমাত্রা বাড়ানোর অর্থই হলো কণাগুলোর গতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়া। গতিশক্তি বাড়লে চাপও বাড়বে। সুতরাং তাপ বাড়লে গ্যাসের চাপ বাড়ে।

প্রশ্ন২২. তরল অপেক্ষা গ্যাসীয় পদার্থের অণুর গতিশক্তি বেশি কেন?

উত্তর : কোনো তরল পদার্থকে তাপ দিলে এর অণুগুলোর ছুটাছুটি বৃদ্ধি পায়। ফলে অণুগুলোর গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং আন্তঃআণবিক শক্তি হ্রাস পায়। পদার্থটি গ্যাসীয় অবস্থায় উপনীত হয়। তাই বলা যায়, তরল অপেক্ষা গ্যাসীয় পদার্থের অণুর গতিশক্তি বেশি থাকে।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১. নির্দিষ্ট দুর আছে এবং জায়গা দখল করে এমন বস্তুই হলো- পদার্থ।

২. কঠিন অবস্থায় অণুসমূহ কাছাকাছি— কাঁপতে থাকে।

৩. অণুসমূহ গতিশীল হয় ও দূরে সরে যেতে থাকে- তাপ প্রদানের ফলে।

৪. আয়তন ও ভর নির্দিষ্ট কিন্তু আকার অনির্দিষ্ট-তরল পদার্থের।

৫. ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি-কঠিন পদার্থের।

৬. কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় ব্যতীত পদার্থের অবস্থা- প্লাজমা।

৭. তাপ প্রয়োগে পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনের ক্রম- গ্যাসীয় > তরল >কঠিন।

৮. অণুসমুহ সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে-কঠিন অবস্থায়।

৯. পদার্থের তিন অবস্থা (গতিশীলতা) জানা যায়- কণার গতিতত্ত্ব থেকে।

১০. চাপ প্রয়োগে আয়তন স্বল্পমাত্রায় সংকোচনশীল-তরল পদার্থের ।

১১. তাপ প্রয়োগে পদার্থের অণুগুলোর গতিশীলতা-বৃদ্ধি পাবে।

১২. ব্যাপন একটি স্বতঃস্ফূর্ত-প্রক্রিয়া।

১৩. তরলে কঠিন পদার্থের ব্যাপন হার- কম।

১৪. স্বাভাবিক পানির তুলনায় গরম পানিতে ব্যাপনের হার-বেশি।

১৫. গ্যাসীয় পদার্থের ব্যাপন হার সবচেয়ে-বেশি।

১৬. আণবিক ভর ও ব্যাপন হারের মধ্যে সম্পর্ক-বিপরীত অনুপাত।

১৭. তাপ প্রদানে নিঃসরণের হার-বৃদ্ধি পায়।

১৮. ঘরবাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়- বিউটেন ও প্রোপেন গ্যাস।

১৯. বস্তুর ভর ও ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল-ব্যাপন ও নিঃসরণ হার।

২০. মোম হলো-বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ।

২১. পদার্থের তিনটি অবস্থায়ই বর্তমান থাকে-মোমের দহনে।

২২. জ্বলন্ত মোমের অগ্রভাগে সৃষ্টি হয় মোমের – গ্যাসীয় অবস্থা।

২৩. মোমের রাসায়নিক উপাদান মৌল- H ও C।

২৪. মোমের দহনে ঘটে- ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন।

২৫. প্রত্যেক বিশুদ্ধ পদার্থের-গলনাঙ্ক ও স্কুটনাঙ্ক থাকে নির্দিষ্ট।

২৬. 1 atm চাপে বরফের গলনাঙ্ক- 0°C।

২৭. সালফারের গলনাঙ্ক- 1150C।

২৮. 1kg পরিমাণ কঠিন পদার্থকে তরলে রূপান্তরিত করতে প্রয়োজনীয় তাপ হলো- সুপ্ততাপ।

২৯. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সুনির্দিষ্ট থাকে না- মিশ্র পদার্থে।

৩০. সাধারণ শীতলীকরণ বক্র রেখায় পানির বাষ্প + পানি অবস্থা নির্দেশ করে-স্ফুটনাঙ্ক।

৩১. সাধারণ শীতলীকরণ বক্ররেখায় পানি + বরক অবস্থা নির্দেশ করে-হিমাঙ্ক।

৩২. তাপ প্রদান করে কোনো তরল বাষ্পে পরিণত হয় যাকে বলে-বাষ্পীভবন।

৩৩. গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়-বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায়    

৩৪. বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন প্রক্রিয়ার সমন্বিতরূপ- পাতন।

৩৫. ঊর্ধ্বপাতনে অস্তিত্ব নেই- গলনাঙ্ক দশার ।

৩৬. ন্যাপথালিন, আয়োডিন, কর্পূর ও নিশাদল প্রভৃতি- ঊর্ধ্বপাতি পদার্থ।

৩৭. ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ার প্রধান নিয়ামক হচ্ছে- তাপ।

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

. কাপে গরম চা রাখলে নিচের কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে?

ক. বাষ্পীভবন                                                খ. ঊর্ধ্বপাতন

গ. ব্যাপন                                                         ঘ. নিঃসরণ

উত্তর: ক. বাষ্পীভবন

২. জলীয়বাষ্পকে যখন ঘনীভবন করা হয়, তখন কণাসমূহের ক্ষেত্রে কী ঘটবে?

ক. আকার সংকুচিত হবে                               খ. চলাচল করতে থাকবে

গ. একই অবস্থানে থেকে কাঁপতে থাকবে      ঘ. পরিপার্শ্বে শক্তি নির্গত করবে

উত্তর: ঘ. পরিপার্শ্বে শক্তি নির্গত করবে

৩। কোনটি পদার্থ?

ক.বাতাস                                                         খ. আলো

গ. তাপ                                                           ঘ. তাপমাত্রা

উত্তর: ক.বাতাস

৪। পদার্থ সাধারণত কয় অবস্থায় থাকে?

ক. ২                                                               খ. ৩

গ. ৪                                                                ঘ. ৫

উত্তর: খ. ৩

৫। কোন অবস্থায় পদার্থের কণাগুলো বেশি গতিশীল?

ক. প্লাজমা                                                      খ. কঠিন

গ. তরল                                                          ঘ. গ্যাসীয়

উত্তর: ঘ. গ্যাসীয়

৬। তরল পদার্থের ক্ষেত্রে-

i. চাপে আয়তনের সংকোচন ঘটে    

ii. অণুসমূহের আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম                               

iii. অণুসমূহের গতি কঠিন পদার্থের তুলনায় বেশি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                                           খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                                          ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: খ. ii ও iii

৭। ফুলের সুগন্ধ ছড়ায় কোন প্রক্রিয়ায়?

ক. নিঃসরণ                                                     খ. অণুব্যাপন

গ. ব্যাপন                                                        ঘ. অভিস্রবণ

উত্তর: গ. ব্যাপন

৮। মোমবাতির গলনে-

i. তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়                           

ii. কণাসমূহের আন্তঃআণবিক শক্তি কমে যায়                                 

iii. গ্রিনহাউজ গ্যাস তৈরি হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                                           খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                                          ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: গ. i ও iii

৯। কোনটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া?

ক. স্ফুটন                                                      খ. ব্যাপন

গ. নিঃসরণ                                                     ঘ. ঊর্ধ্বপাতন

উত্তর: খ. ব্যাপন

১০। মোমের তাপমাত্রা গলনাঙ্কে পৌঁছালে তার কোন কোন অবস্থা পরিলক্ষিত হয়?

ক. কঠিন, তরল ও বায়বীয়                            খ. তরল ও বায়বীয়

গ. কঠিন ও তরল                                           ঘ. কঠিন ও বায়বীয়

উত্তর: গ. কঠিন ও তরল

১১। কোনটির আন্তঃআণবিক শক্তি সবচেয়ে বেশি?

ক. SO2                                                           খ. CO2

গ. H2S                                                            ঘ. NaCl

উত্তর: ঘ. NaCl

১২। সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে-

i. Br2                            ii. S8                            iii. I2

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                                           খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                                          ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: খ. ii ও iii

১৩। কোন গ্যাসটির ব্যাপন সময় সবচেয়ে বেশি?

ক. N2                                                              খ. O2

গ. CH4                                                            ঘ. CO2

উত্তর: ঘ. CO2

১৪। ঘনত্ব বেশি হলে ব্যাপন হারের কী পরিবর্তন হয়?

ক. বৃদ্ধিপায়                                                    খ. হ্রাসপায়

গ. শূন্যহয়                                                       ঘ. অপরিবর্তিত থাকে

উত্তর: খ. হ্রাসপায়

১৫। মোম হলো-

i.  উচ্চতর হাইড্রোকার্বন                   

ii. জৈব যৌগ              

iii. উদ্বায়ী পদার্থ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                                           খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                                          ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ক. i ও ii

১৬। নিঃসরণের হার কোনটির বেশি?

ক. PH3                                                           খ. N2O4

গ. SO2                                                                                ঘ. NH3

উত্তর: ঘ. NH3

১৭। নিচের কোন কোন যৌগ উর্ধ্বপাতিত পদার্থ?

i. ন্যাপথালিন                          

ii. কর্পূর                      

iii. কঠিন কার্বন ডাইঅক্সাইড

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                                           খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                                          ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

১৮। কোনটির নিঃসরণ দ্রুত ঘটে?

ক. মিথেন                                                       খ. নাইট্রোজেন

গ. নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড                          ঘ. প্রোপেন

উত্তর: খ. নাইট্রোজেন

১৯। পদার্থের গলন ও স্ফুটন ঘটে থাকে-

i. নির্দিষ্ট তাপে             ii. নির্দিষ্ট চাপে             iii. নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii                                                           খ. ii ও iii

গ. i ও iii                                                          ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: খ. ii ও iii

২০। কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ?

ক. C10H8                                                         খ. Br2

গ. C20H42                                                        ঘ. SiO2

উত্তর: ক. C10H8

আরও গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১ : চিত্র দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. ব্যাপন কাকে বলে?

খ. বডি স্প্রেতে ব্যাপন বা নিঃসরণের কোনটি আগে ঘটে?

গ. তাপমাত্রা বাড়াতে থাকলে উদ্দীপকের কোন পদার্থটি সবার আগে বাষ্পীভূত হবে? কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ক-পাত্রের উপাদান ও খ-পাত্রের উপাদানগুলোকে পৃথকীকরণে একই পদ্ধতির ব্যবহার সম্ভব কি না যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক. কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় বস্তুর স্বতঃস্ফুর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।

খ. বডি স্প্রেতে নিঃসরণ আগে ঘটে। বডি স্প্রেতে বিদ্যমান উপাদানগুলোর চাপ ভেতর ও বাইরে সমান নয়। বডি স্প্রের ভেতরে চাপ বেশি থাকে। চাপ দিলে সরু ছিদ্রপথে যখন গ্যাসের অণুসমূহ উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে বেরিয়ে আসে, তখন নিঃসরণ ঘটে। এরপর এর মধ্যে থাকা উপাদান চারপাশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ পরে ব্যাপন হয়।

গ. উদ্দীপকের ক-পাত্রে আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণ এবং খ-পাত্রে বালি ও গ্লুকোজের মিশ্রণ বিদ্যমান। তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে উদ্দীপকে বিদ্যমান উপাদানগুলোর মধ্যে আয়োডিন সবার আগে বাষ্পীভূত হবে। যদি কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে এবং ঠান্ডা করলে তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে উধ্বপাতন বলে। |

উপাদানগুলোর মধ্যে খাদ্য লবণ, বালি ও গ্লুকোজকে তাপ দিলে সেগুলো প্রথমে তরলে পরিণত হবে। আরও তাপ দিলে বাষ্পে পরিণত হবে। কিন্তু আয়োডিনকে তাপ দিলে তা সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। কারণ আয়োডিনের ঊর্ধ্বপাতন ঘটে।

উপযুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, লবণ, বালি ও গ্লুকোজকে তাপ দিলে সেগুলো সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় না। কিন্তু আয়োডিনের ঊর্ধ্বপাতন ঘটে বলে তা সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। তাই বলা যায় তাপ বাড়াতে থাকলে সবার আগে বাষ্পীভূত হবে আয়োডিন।

ঘ. ক-পাত্রের উপাদান ও খ-পাত্রের উপাদানগুলোকে একই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পৃথক করা সম্ভব নয়। ক-পাত্রে আয়োডিন ও খাদ্য লবণের মিশ্রণকে উর্ধ্বপাতন পদ্ধতিতে এবং খ-পাত্রের বালি ও গ্লুকোজের মিশ্রণকে পরিস্রাবণ ও বাষ্পীভবন পদ্ধতিতে পৃথক করতে হবে।

ফলে ক-পাত্রে তাপ দিলে আয়োডিন উর্ধ্বপাতিত হয়। এভাবে আয়োডিন ও খাদ্য লবণের মিশ্রণকে উর্ধ্বপাতন পদ্ধতিতে পৃথক করা হয়।

ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়া-

উদ্দীপকে খ-পাত্রে গ্লুকোজ ও বালির মিশ্রণ আছে। যাদের কোনোটাই উদ্বায়ী নয়। তাই ক-পাত্রের উপাদানগুলোর মতো ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতিতে বালি ও গ্লুকোজ পৃথক করা যায় না। এই মিশ্রণকে পরিস্রাবণ ও বাষ্পীভবন পদ্ধতিতে পৃথক করা হয়।

বালি পানিতে অদ্রবণীয়। তাই গ্লুকোজ ও বালির মিশ্রণকে বিকারে নিয়ে পানি মিশ্রিত করে গ্লাস রড দিয়ে নেড়ে বালির সাথে মিশ্রিত গ্লুকোজকে সম্পূর্ণরূপে পানিতে দ্রবীভূত করা হয়। অতঃপর, অপর একটি বিকারে ফিল্টারপেপার সজ্জিত ফানেলে গ্লুকোজ ও বালির মিশ্রণকে পৃথক করা হয়। ফিল্টার পেপারে থাকা বালি আলাদা করে নেওয়া হয়। পরিশ্রুত দ্রবণকে বাষ্পীভবন করা হলে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায় এবং পরিস্রুতরূপে পাত্রে কঠিন গ্লুকোজের কেলাস অবশেষরূপে পাওয়া যায়। এভাবে পরিস্রাবণ ও বাষ্পীভবন পদ্ধতিতে গ্লুকোজ ও বালির মিশ্রণকে পৃথক করা হয়। এ ক্ষেত্রে-

অতএব ক-পাত্রের উপাদানগুলো ও খ-পাত্রের উপাদানগুলো। পৃথিকীকরণে পৃথক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একই পদ্ধতি ব্যবহার সম্ভব নয়।

প্রশ্ন২ : নিচের চিত্র দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. নিঃসরণ কী?

খ. একই পদার্থের গলনাংক ও স্ফুটনাংক ভিন্ন কেন?

গ. উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের পরিবর্তন- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উৎপন্ন সাদা ধোঁয়া A প্রান্তের কাছাকাছি উৎপন্ন হওয়ার | যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক. সরু ছিদ্রপথে কোনো গ্যাসের অণুসমূহের উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে।

খ. তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে একই পদার্থের গলনাংক ও স্ফুটনাংক ভিন্ন হয়। যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, তাকে ঐ পদার্থটির গলনাংক বলে। আর, যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়, তাকে ঐ পদার্থটির স্ফুটনাংক বলে। তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থ প্রথমে তরলে পরিণত হয়, আরও তাপ প্রয়োগে গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়। যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় সে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় না। আরও বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন।

গ. উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

যে পরিবর্তনে পদার্থের অণুসমূহের উপাদান ও অণুর গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে এবং পদার্থসমূহ নিজেদের ধর্ম হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট অন্য পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। প্রতিটি রাসায়নিক বিক্রিয়াতেই রাসায়নিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উদ্দীপকে এসিড (HCl), ক্ষারক (NH3)-এর সাথে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের (NHCl) সাদা ধোঁয়া সৃষ্টি করেছে।

NH3 + HCl = NH4Cl (সাদা ধোঁয়া)

এখানে NH3 ও HCl অণুসমূহ নিজেদের ধর্ম হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট NH4Cl যৌগে পরিণত হয়েছে। তাই উক্ত বিক্রিয়ায় যে পরিবর্তন হয়েছে, তা একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

ঘ. উৎপন্ন সাদা ধোঁয়া A প্রান্তের কাছাকাছি উৎপন্ন হয়েছে। এর যৌক্তিক কারণ ব্যাপনের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়। ব্যাপনের হার বস্তুর ভর ও ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল। যে বস্তুর ভর ও ঘনত্ব যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম।

HCl এর আণবিক ভর = 1+35.5 = 36.5

এবং NH3 এর আণবিক ভর = 14+1×3 =17

যেহেতু HCl এর আণবিক ভর NH3 এর চেয়ে বেশি, তাই HCl এর ব্যাপনের হার কম হবে। HCl এর ব্যাপন NH3 এর চেয়ে কম হওয়ায় HCl কম দূরত্ব অতিক্রম করেছে।

অপরদিকে, NH3 এর ব্যাপন বেশি হওয়ায় বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। তাই কঠিন সাদা বলয় HCl এর কাছে, কিন্তু NH3 থেকে দূরে উৎপন্ন হয়েছে।

প্রশ্ন৩ : নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

(i) মোম + O2(g)   → A + B + শক্তি

(ii) H2(g) + O2(g)   → B + শক্তি

ক. স্ফুটনাঙ্ক কী?

খ. আয়োডিনকে তাপ দিলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় কেন?

গ. 0°C তাপমাত্রায় B যৌগের ভৌত অবস্থার কিরূপ পরিবর্তন ঘটে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. (i) নং-এ ভৌত ও রাসায়নিক কিন্তু (ii) নং-এ শুধু রাসায়নিক পরিবর্তন হয়-বিশ্লেষণ কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক. স্বাভাবিক চাপে (latm) যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয় সেই তাপমাত্রাকে সেই পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।

খ. আয়োডিন একটি উর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ হওয়ায় এটিকে তাপ দিলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। যে সকল কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় এবং শীতল করলে সরাসরি কঠিন হয় তাদেরকে উদ্বায়ী পদার্থ বলে। আয়োডিন এমনই একটি উদ্বায়ী পদার্থ। এজন্য আয়োডিনকে তাপ দিলে এটি কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয় এবং শীতলীকরণে গ্যাসীয় অবস্থা থেকে কঠিনে পরিণত হয়।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত B যৌগটি হলো পানি যেটি সাধারণত তরল অবস্থায় থাকে। 0°C তাপমাত্রায় পানি বরফে অর্থাৎ কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। তাপ কমানো হলে পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তি হ্রাস পায়, ফলে অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব হাস পায়। এর ফলে আন্তঃকনা আকর্ষণশক্তি বৃদ্ধি পায়।

পদার্থ যে সকল ছোট ছোট কণার সমন্বয়ে গঠিত। তারা যেকোনো তাপমাত্রায় নড়াচড়া বা চলাফেরা করতে পারে। ছোট ছোট কণাগুলোর নড়াচড়া বা চলাফেরার ফলে পদার্থ এক ধরনের গতিশক্তি লাভ করে। তাপ অপসারণের ফলে ছোট ছোট কণাগুলোর চলাচলের গতি হ্রাস পায়।

আবার, আন্তঃকণা আকর্ষণশক্তির প্রভাবে বস্তুর ক্ষুদ্রতম কণাগুলো একে অপরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। এ শক্তি যখন বেশি হয় তখন বস্তুর ভৌত অবস্থা কঠিন হয়। এজন্য উদ্দীপকে 0°C তাপমাত্রায় পানির অনুসমূহের আন্তঃকণা আকর্ষণশক্তি সর্বাধিক হয়। ফলে, 0°C তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়।

এরূপে 0°C তাপমাত্রায় ই যৌগের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

ঘ. যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের শুধু বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় কিন্তু তা কোনো নতুন পদার্থে পরিণত হয় না, তাকে ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন বলে। আবার, যে পরিবর্তনে বস্তুর রাসায়নিক গঠনের পরিবর্তন হয় তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।

উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়ার্টিতে মোমবাতির দহন ঘটে। একটি মোমবাতি জ্বলার সময় উত্তাপে মোমের কিছু অংশ গলে যায়। এক্ষেত্রে, ভৌত পরিবর্তন সংঘটিত হয়। কিন্তু, অধিকাংশ মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয়বাষ্প তৈরি করে। শেষোক্ত দুইটি বস্তু মোম ও অক্সিজেন থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।

সুতরাং মোমবাতির দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন। অর্থাৎ মোমবাতির দহনে ভৌত ও রাসায়নিক উভয় পরিবর্তন সংঘটিত হয়। আবার, উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়ার্টিতে হাইড্রোজেন (H2) এবং অক্সিজেন (O2) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পদার্থ পানি (H2O) উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে, বস্তুর অণুর গঠনের পরিবর্তন হয়ে সম্পূর্ণ নতুন অণুর সৃষ্টি হয় এবং রাসায়নিক সংযুতির পরিবর্তন হয়।

সুতরাং, এক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাসায়নিক পরিবর্তন হয়।

প্রশ্ন: নিচের লেখচিত্রটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ঘটনা১ : পাকা কাঁঠালের গন্ধ ঘরের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়া।

ঘটনা২ : হাসপাতালের ব্যবহারের জন্য অধিক চাপে অক্সিজেন গ্যাস সিলিন্ডারের ভরে রাখ।

ক. মোম কী ধরনের যৌগ?

খ. ব্যাপন স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয় কেন?

গ. উদ্দীপকের উল্লেখিত ঘটনা দুটির হার বস্তুর ভর ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল-ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনদ্বয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো বিশ্লেষণ কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক. মোম এক ধরনের হাইড্রোকার্বন তথা জৈব যৌগ।

খ. কোনো গ্যাসপাত্রে অণুসমূহ যখন সম্পূর্ণরূপে চাপমুক্ত হয়, তখন তা ব্যাপনে রূপান্তরিত হয়। এজন্য, ব্যাপন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে থাকে। গ্যাসের অণুসমূহ ছিদ্রপথে বের হওয়ার সময় যদি চাপ কাজ করে তবে গ্যাসীয় বস্তু সমভাবে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিব্যপ্ত হতে পারে। কেন না ছিদ্রপথ অণুর স্বতঃস্ফুর্ত গতিকে বাধা দেয়। ছিদ্র যত বড় হতে থাকে, স্বতঃস্ফূর্ততা তত বৃদ্ধি পেতে থাকে। যখন সম্পূর্ণ চাপমুক্ত হয় তখন ব্যাপনে রূপান্তরিত হয়।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনাদ্বয় দ্বারা যথাক্রমে ব্যাপন এবং নিঃসরণকে বোঝানো হয়েছে। ব্যাপন ও নিঃসরণ হার বস্তুর ভর ও ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল। কোনো বস্তুর ভর এবং ঘনত্ব যত বেশি হবে ব্যাপন ও নিঃসরণের হার তত হ্রাস পাবে। অনুরূপভাবে বস্তুর ভর এবং ঘনত্ব যত কম হবে ব্যাপন ও নিঃসরণের হার তত বেশি হবে। গ্যাসের ব্যাপন সময় এর আণবিক ভর অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। যে গ্যাসের আণবিক ভর বেশি তার ব্যাপন সময় বেশি।

সুতরাং, বলা যায় যে, উদ্দীপকের ঘটনাদ্বয় বস্তুর ভর ও ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনাদ্বয় তথা ব্যাপন এবং নিঃসরণের ক্ষতিকর দিকগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-

* ব্যাপনের ক্ষতিকর দিক :

i. কল-কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাসের ব্যাপনে পরিবেশের ক্ষতি হয়।

ii. পরিবেশে CO2-এর ব্যাপনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।

iii.খোলা অবস্থায় রাখা ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

* নিঃসরণের ক্ষতিকর দিক :

i. গ্যাসীয় পাত্রের ছিদ্র দিয়ে দ্রুত বিষাক্ত বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হতে থাকে।

ii. অতি দ্রুত গ্যাসের নির্গমনে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

রসায়ন নোট PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল লিঙ্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published.