জীববিজ্ঞান (Biology)-দ্বিতীয় অধ্যায়

Sharing is caring!

দ্বিতীয় অধ্যায় জীবকোষ ও টিস্যু (Cell and Tissue of Organism)

  • কোষ (Cell) : বৈষম্য ভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ব্যতিরেকেই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে সক্ষম তাকে কোষ বলে। অর্থাৎ জীবের জৈবিক কার্যাবলী সুষ্ঠভাবে সম্পাদনের জন্য সূক্ষ্ম পর্দা দিয়ে আবৃত জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে। বৃটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭৩০) ১৬৬৫ সালে কোষ আবিষ্কার করেন।

নিউক্লিয়াসের সংগঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের যথা : আদি কোষ ও প্রকৃত কোষ।

  • আদি কোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell): যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না, নিউক্লিয়বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে তাকে আদিকোষ বলে। এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোসোম উপস্থিত থাকে। নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের কোষ।
  • প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell): যে সকল কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত, অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দ্বারা নিউক্লিয়বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত থাকে, তাকে প্রকৃত কোষ বালে। এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। শৈবাল থেকে শুরু করে সপুষ্পক উদ্ভিদ এবং অ্যামিবা থেকে সর্বোন্নত প্রাণিদেহেও এ ধরনের কোষ থাকে।

কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই প্রকার। যথা: দেহকোষ ও জননকোষ।

  • দেহকোষ (Somatic cell) : বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশ গ্রহণ করে। মাইটোটিক ও অ্যামাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে কোষ বিভাজিত হয়। বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়।
  • জননকোষ (Gametic cell): যৌন জনন ও জনুক্রম দেখা যায় এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। পুং জননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ একত্রে মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট বলে।
  • কোষপ্রাচীর (cell wall): জড় ও শক্ত যে প্রাচীর দিয়ে উদ্ভিদকোষ পরিবেষ্টিত থাকে তাকে কোষপ্রাচীর বলে। কোষপ্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিন, লিগনিন, সুবেরিন প্রভৃতি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদানের গঠিত। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন নামক কার্বোহাইড্রেট এবং ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত। সর্বপ্রথম রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে কোষপ্রাচীর প্রত্যক্ষ করেন। কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রাণিকোষে কোষ প্রাচীর নেই। কোষপ্রাচীরের মাঝে মাঝে ছিদ্র থাকে, যাকে কুপ বলে। প্লাজমোডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) হলো পাশাপাশি কোষ সমূহের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী অঙ্গাণু। কোষপ্রাচীরের কাজ হলো কোষকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা। কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করা। কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখা। পার্শ্ববর্তী কোষের সাথে প্লাজমোডেজমাটা সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা। উদ্ভিদ কোষের ভেতরে ও বাইরের তরল (পানি ও খনিজ) পদার্থের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা।

এসএসসি সকল বিষয় নোট PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

  • প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm) : কোষের ভেতরে যে অর্ধস্বচ্ছ, থকথকে জেলির ন্যায় জটিল সজীব বস্তু থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে। কোষঝিল্লি দিয়ে ঘেরা সবকিছুই প্রোটোপ্লাজম, এমনকী কোষঝিল্লিও প্রোটোপ্লাজমের অংশ। কোষঝিল্লি দ্বারা ঘেরা সমূদয় বস্তুই প্রোটোপ্লাজম। এতে জীবনের সব গুণাবলী বিদ্যমান বলে একে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়। কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস প্রোটোপ্লাজমের অংশ।
  • কোষ ঝিল্লী (Plasmalemma): প্রোটোপ্লাজমের বাইরের যে দ্বিস্তরবিশিষ্ট পর্দা থাকে তাকে কোষঝিল্লী বা প্লাজমালেমা বলে। এটি একটি স্থিতিস্থাপক পর্দা। কোষঝিল্লির ভাঁজকে মাইক্রোভিলাস বলে। এটি প্রধানত লিপিড এবং প্রোটিন দিয়ে তৈরি। কাজ: অভিস্রবণের মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রন করে এবং পাশাপাশি কোষগুলোকে পরস্পর থেকে আলাদা করে রাখে। সাইটোপ্লাজম: প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে দিলে যে জেলি সদৃশ বস্তুটি থেকে যায় সেটিই সাইটোপ্লাজম।
  • সাইটোপ্লাজম(Cytoplasm) : প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকাটিকে সরিয়ে নিলে যে জেলির মত বস্তুটি থেকে যায় সেটিই সাইটোপ্লাজম। এই সাইটোপ্লাজমের মধ্যে অনক ধরনের অঙ্গাণুগুলো থাকে যাকে সাইটোপ্লজমীয় অঙ্গাণু বলা হয়। সাইটোপ্লাজমের প্রধান দুইটি অংশ। যথা- এক্টোপ্লাজম ও এন্ডোপ্লাজম। বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু ধারণ করা এর প্রধান কাজ।
  • সেন্ট্রোসোম (Centrosome): প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে যে দুটি ফাপা নলাকার বা দন্ডাকার অঙ্গাণু দেখা যায় তাদেরকে সেন্ট্রিওল বলে সেন্ট্রোস্ফিয়ারসহ সেন্ট্রিওলই হলো সেন্ট্রোসোম। সেন্ট্রোজোমের তরল অংশকে সেন্ট্রোস্ফিয়ার বলে। যা প্রাণিকোষের অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্রাণিকোষে নিউক্লিয়াসের বাইরে সেন্ট্রোসোম অবস্থান করে। কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার-রে তৈরি করা, স্পিন্ডল যন্ত্রের মেরু নির্দেশ করা এবং কোষ বিভাজনে সাহায্য করা এর কাজ।
  • মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria): এটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা। ভেতরের স্তরটি ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের ক্রিস্টি (cristae) বলে। ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে, একে অক্সিসোম (oxisomes)বলে। অক্সিসোমে উৎসেচকগুলো (Enzymes) সাজানো থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়নের ভেতরে থাকে ম্যাট্রিক্স । জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। এ জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তির ঘর বলা হয়। ১৮৯৮ সালে বেনডা (Benda) মাইটোকন্ড্রিয়া আবিষ্কার করেন।
  • গলজি বস্তু (Golgi body) : গলজি বস্তু প্রধানত প্রাণিকোষে পাওয়া যায়। গলজি বডি কোষের নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি অবস্থান করে। লাইসোসোম তৈরি, অপ্রোটিন জাতীয় পদার্থ সংশ্লেষণ ও কিছু এনজাইম নির্গমন করা এর কাজ। হরমোন নিঃসরণেও এর ভূমিকা লক্ষ করা যায়। কখনো কখনো এরা প্রোটিন সঞ্চয় করে রাখে।
  • প্লাস্টিড (Plastid) : প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিড তিন ধরনের-ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। এর প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা ও উদ্ভিদ দেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়ণে সাহায্য করা।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে তাই এদের সবুজ দেখায়। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করা এর প্রধান কাজ। এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জক থাকে। ম্যাট্রিক্স, স্ট্রোমা ল্যামেলাম, গ্রানাম, গ্রানাম ল্যামেলাম এবং থাইলাকয়েড ইহার প্রধান অংশ।
  • ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): সবুজ রঙ ব্যতিত অন্যান্য রঙ বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই ফূল, ফলসহ অন্যান্য অংশ বিভিন্ন রঙের হয়। উদ্ভিকে আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সহায়তা করাই এর প্রধান কাজ।
  • রাইবোসোম (Ribosome) : রাইবোজোম হলো ঝিল্লিবিহীন একটি কোষীয় অঙ্গাণু যা প্রোটিন তৈরি করে এবং কোষের প্রয়ােজনে বিভিন্ন এনজাইম সরবরাহ করে। প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় প্রকার কোষেই এদের পাওয়া যায়। কোথায় আমিষ সংশ্লেষ হবে তার স্থান নির্ধারণ করা এর কাজ। প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন এই রাইবোজোমে হয়ে থাকে।
  • লাইসোজোম (Lysosome): সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত যে অঙ্গাণু হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের আধার হিসেবে কাজ করে তাই লাইসোজোম। লাইসোজোম জীব কোষকে। ফ্যাগোসাইটিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে।
  • নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকা (Nucleus) : কোষের সব জৈবনিক ক্রিয়া বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে নিউক্লিয়াস। এর আকৃতি গোলাকার, ডিম্বাকার, নলাকার ইত্যাদি। সিভকোষ ও লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। নিউক্লিয়াসের প্রধান অংশগুলো হলো: নিউক্লিয়ার ঝিল্লি, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বা ক্রোমাটিন জালিকা।
  • ক্রোমোসোম (Chromosome) : কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন তন্তু মোটা এবং খাটো হয়ে সুস্পষ্ট হলে তখন তাকে ক্রোমোজোম বলে। Strasburger ১৮৭৫ সালে ক্রোমোসোম আবিষ্কার করেন। ক্রোমোজোমের যে স্থানটি নিউক্লিওলাসের সাথে যুক্ত থাকে তাকে স্যাটেলাইট বলে। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়। ক্রোমোজোম বংশগতির ধারক ও বাহক বলে ক্রোমোজোম কে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়। প্রতিটি প্রজাতির ক্রোমোজোম নির্দিষ্ট।
  • টিস্যু : একই গঠনবিশিষ্ট একগুচ্ছ কোষ একত্রিত হয়ে যদি একই কাজ করে এবং তাদের উৎপত্তিও যদি অভিন্ন হয় তখন তাদের টিস্যু বা কলা বলে। টিস্যু দুই ধরনের যথা : ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যু। ভাজক টিস্যু বিভাজনে সক্ষম কিন্তু স্থায়ী টিস্যু বিভাজিত হতে পারে না। স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার, যথা : সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু ও নিঃস্রাবী টিস্যু (ক্ষরণকারী)।
  • সরল টিস্যু : যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন তাকে সরল টিস্যু বলে। কোষের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা : ১. প্যারেনকাইমা, ২. কোলেনকাইমা ৩. ক্লেরেনকাইমা।
  • জটিল টিস্যু : বিভিন্ন প্রকারের কোষ সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু গঠিত হয় তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। এ টিস্যু দুই ধরনের, যথা : জাইলেম ও ফ্লোয়েম । জাইলেম ও ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে।
  • প্রাণী টিস্যুর প্রকাভেদ : প্রাণিটিস্যু তার গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত পদার্থের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত চার ধরনের হয়। যথা : ১. আবরণী টিস্যু, ২. যােজক টিস্যু, ৩. পেশি টিস্যু, ৪. স্নায়ু টিস্যু। |
  • টিস্যতত্ত্ব : টিস্যু নিয়ে আলােচনাকে টিস্যুতত্ত্ব বা Histology বলে।
  • অঙ্গ ও তন্ত্র : এক বা একাধিক টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত এবং নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে সক্ষম প্রাণিদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ (Organ) বলে। আবার পরিপাক, শ্বসন, বেচন, প্রজনন ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রাণিদেহে কতগুলাে অঙ্গের সমন্বয়ে বিভিন্ন তন্ত্র গঠিত হয়।
  • অণুবীক্ষণ যন্ত্র : যে যন্ত্রের সাহায্যে দ্র বস্তু বড় করে দেখা যায় তাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে। এ যন্ত্র দুই ধরনের। যথা : সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্র।

এসএসসি সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন ॥ ১ ॥ কোষ কাকে বলে?

উত্তর : কোষ হলো জীবদেহের গঠনমূলক এবং জৈবনিক ক্রিয়ামূলক একক।

প্রশ্ন প্লাস্টিডের কাজগুলো কী কী?

উত্তর : প্লাস্টিডের কাজগুলো হলো : উদ্ভিদের খাদ্য সংশ্লেষণ করা, বর্ণ গঠন করা এবং খাদ্য সঞ্চয় করা।

প্রশ্ন টিস্যু অঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক দেখাও।

উত্তর : উৎপত্তিগত দিক থেকে এক এবং একই রকম কাজ করে এমন সম বা অসম আকৃতির কোষের সমষ্টিকে টিস্যু বলে। অপরদিকে যখন কয়েক ধরনের টিস্যু এক সাথে একটি সাধারণ কাজ করে সেই টিস্যু সমষ্টিকে অঙ্গ বলে।

প্রশ্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির গুরুত্ব কী?

উত্তর : উন্নত প্রাণীর ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্র এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতন্ত্র সম্মিলিতভাবে সকল অঙ্গের অর্থাৎ সকল তন্ত্রের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে দেহকে সচল ও কার্যক্ষম রাখে।

প্রশ্ন ৫॥ কোষের শক্তিঘর কাকে বলে?

উত্তর : কোষ অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলে।

প্রশ্ন রক্তের কাজ কী?

উত্তর : রক্তের কাজগুলো হলো:

  • রক্ত সারা দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে।
  • লোহিত কণিকার দ্বারা ফুসফুস থেকে কোষে কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে।
  • রক্তের শ্বেতকণিকা রোগজীবাণু ধ্বংস করে দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
  • রক্তরসের মাধ্যমে কার্বন ডাইঅক্সাইড, দেহের বর্জ্য পদার্থ, খাদ্যরস, হরমোন ইত্যাদি দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে। ।
  • কেটে গেলে রক্তপাত বন্ধে সহায়তা করে।

প্রশ্ন ॥৭ চিত্রসহ মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন বর্ণনা কর।

উত্তর : মাইটোকন্ড্রিয়াম দুটি একক পর্দাবেষ্টিত, গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা দন্ডাকার কোষ অঙ্গাণু। ভিতরের একক পর্দাটি আঙুলের মতো অসংখ্য ভাঁজ বিশিষ্ট। এই ভাঁজগুলোকে ক্রিস্টি বলে। ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে; একে অক্সিসোম বলে। অক্সিসোমে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়নের ভেতরে থাকে ম্যাট্রিক্স ।

প্রশ্ন বিভিন্ন প্রকার সরল কলার গঠন কাজের তুলনামূলক আলোচনা কর।

উত্তর : কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদের সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যথা : ১. প্যারেনকাইমা, ২. কোলেনকাইমা ও ৩. স্কেলেরেনকাইমা। প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্কেলেরেনকাইমা টিস্যুর গঠন ও কাজ এর তুলনামূলক আলোচনা নিচে ছকে উল্লেখ করা হলো :

প্যারেনকাইমাকোলেনকাইমাস্কেলেরেনকাইমা
১. এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত১. এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত।১. এ টিস্যুর কোষগুলো মৃত।
২. এ টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে।২. আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।২. আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না।
৩. কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। তাই নমনীয়।৩. কোষপ্রাচীর অসমবাবে স্থুল এবং সেলুলোজ ও পেকটিন দ্বারা গঠিত তাই ততটা নমনীয় না।৩. কোষপ্রাচীর সমভাবে পুরু এবং লিগনিনযুক্ত তাই শক্ত।
৪. পরিণত কোষে প্রোটোপ্লাজম থাকে।৪. পরিণত কোষে প্রোটোপ্লাজম থাকে।৪. পরিণত কোষে প্রোটোপ্লাজম থাকে না।
৫. খাদ্যপ্রস্তুত, খাদ্য সঞ্চয় ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন এর প্রধান কাজ।৫. উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা, ক্লোরোপ্লাস্ট থাকলে খাদ্য প্রস্তুত করা এই টিস্যুর প্রধান কাজ।৫. অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করা এই টিস্যুর প্রধান কাজ। এরা তন্তু ও স্কেলেরাইড হিসেবে থাকে।

প্রশ্ন ॥ ৯॥ উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের পার্থক্যগুলো উল্লেখ কর।

উত্তর : উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের মধ্যে পার্থক্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

উদ্ভিদকোষপ্রাণিকোষ
১. প্লাজমা আবরণীর বাইরে সেলুলোজের তৈরি জড় কোষপ্রাচীর থাকে।১. প্লাজমা আবরণী থাকে, কোষপ্রাচীর থাকে না।
২. সাধারণত প্লাস্টিড থাক।২. প্লাস্টিড থাকে না।
৩. বড় গহ্বর থাকে।৩. গহ্বর থাকে না, থাকলেও আকারে অত্যন্ত ছোট হয়।
৪. উদ্ভিদকোষে সেন্ট্রোজোম থাকে না।৪. প্রাণিকোষে সেন্ট্রোজোম থাকে।
৫. উদ্ভিকোষে শর্করা থাকে।৫. প্রাণিকোষে শর্করা গ্লাইকোজেনরূপে মজুদ থাকে।

প্রশ্ন ॥ ১০॥প্রকৃত কোষ এবং আদি কোষের পার্থক্যগুলো লেখ।

উত্তর : আদিকোষ ও প্রকৃত কোষের পার্থক্যগুলো হলো:

আদিকোষপ্রকৃতকোষ
১. নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয় অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস থাকে না।১. নিউক্লিয়াস সুগঠিত, নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার পর্দা এবং নিউক্লিওলাস থাকে।
২. রাইবোসোম ছাড়া পর্দা ঘেরা অন্য কোনো অঙ্গাণু থাকে না।২. সকল প্রকার কোষ অঙ্গাণু থাকে।
৩. এটি সাধারণত অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।৩. এটি সাধারণত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।

এসএসসি গণিত সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

প্রশ্ন ॥ ১১॥ জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর পার্থক্যগুলো লেখ।

উত্তর : জাইলেম  ও ফ্লোয়েমের পার্থক্যগুলো হলো:

জাইলেমফ্লোয়েম
১. এর প্রধান উপাদান-ট্রাকিড ও ভেসেল-এরা মৃত।১. এর প্রধান উপাদান-সিভনল ও সঙ্গীকোষ-এরা সজীব।
২. এর মাধ্যমে মূলরোম দ্বারা শোষিত পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছায়।২. এর মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন খাদ্যরস সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. এর মাধ্যমে শুধু ঊর্ধ্বমুখী সংবহন হয়।৩. এর মাধ্যমে নিম্নমূখী অথবা উভয়মুখী সংবহন হয়।

প্রশ্ন ১২ বিভিন্ন প্রকার প্রাণিকলার গঠন কাজ আলোচনা কর।

উত্তর : প্রাণী টিস্যুকে তার গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত পদার্থের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা : ১. আবরণী কলা, ২. যোজক কলা, ৩ পেশি কলা ও ৪. স্নায়ু কলা।

. আবরণীকলা : আবরণী কলার কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। সাধারণ আবরণী কলা তিন ধরনের হয়।

ক. স্কোয়ামাস আবরণী কলা : এ টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপ্টা এবং এর নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। দেহের সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে রক্ষা করা এর প্রধান কাজ। এছাড়া এর মাধ্যমে তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের আদান-প্রদান ঘটে।

খ. কিউবয়ডাল আবরণী কলা : এ টিস্যুর কোষগুলো কিউব আকৃতির। পরিশোষণ ও আবরণ তৈরি করা এর প্রধান কাজ।

গ. কলামনার আবরণী কলা : এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের মতো সরু ও লম্বা। রস নিঃসরণ, শোষণ এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে রক্ষা করা এর কাজ। কোষস্তরের ভিত্তিতে আবরণী কলাকে দু-ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা : সাধারণ আবরণী কলা এবং স্তরীভূত স্ট্রাটিফাইড আবরণী কলা। সাধারণ আবরণী কলার ভিত্তি পর্দার উপর এ স্তরের কোষ সজ্জিত থাকে। স্তরীভূত বা ট্র্যাটিফাইড আবরণী কলা- এ ধরনের আবরণী কলার ভিত্তি পর্দার ওপর একাধিক স্তরের কোষ সজ্জিত থাকে। মেরুদন্ডী প্রাণীদের ত্বক গঠন করা এর কাজ। এছাড়া আবরণী কলার কোষগুলো বিভিন্ন কাজে নানাভাবে রূপান্তরিত হয়ে বিভিন্ন কাজ করে। যেমন : সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু- মেরুদন্ডী প্রাণীদের শ্বাসনালির প্রাচীরে থাকে। জননকোষের আবরণী কলা শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কোষ উৎপন্ন করে।

. যোজক কলা : যোজক কলাতে মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষ সংখ্যা কম। এরা তিন ধরনের হয়। যথা :

ক. ফাইব্রাস যোজক কলা : দেহের দৃঢ়তা প্রদান করা, দেহের বিভিন্ন অংশকে স্বস্থানে রাখতে সহায়তা করা এর কাজ।

খ. স্কেলিটাল যোজক : গঠনের ভিত্তিতে এগুলো দুধরনের- কোমলাস্থি ও অস্থি। কোমলাস্থি নমনীয় স্কেলিটাল কলা। দেহের আকৃতি এবং দৃঢ়তা প্রদান করাই কোমলাস্থির প্রধান কাজ। অস্থি: এগুলো কঠিন ধাত্র দ্বারা গঠিত এবং অনমনীয় কঠিন। অস্থির কাজদেহের কাঠামো গঠন করা, দেহের ভেতরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো যেমন : মস্তিষ্ক, হৃৎপিন্ড, ফুসফুস ইত্যাদিকে আঘাতের হাত থেকে রক্ষা করা, দেহের ভার বহন করা।

গ. তরল যোজক কলা : তরল যোজক কলার মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন | ধরনের জৈবপদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এ টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা ও রোগ প্রতিরোধ করা।

. পেশি কলা : এদের মাতৃকা প্রায় নেই বললেই চলে। পেশি কোষগুলো সরু, লম্বা ও তন্তুময়। তন্তুগুলো ডোরাকাটা অথবা ডোরাবিহীন হয়। ডোরাকাটাকে ডোরাকাটা পেশি এবং ডোরাবিহীনকে মসৃণ পেশি বলে। অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশিটিস্যু তিন রকমের- ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি এবং হৃদপেশি। এই পেশি কোষগুলোর সংকোচন, প্রসারণের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন, চলন ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে। ঐচ্ছিক পেশির কাজ প্রাণীর ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। অনৈচ্ছিক পেশিগুলো প্রাণীর ইচ্ছানির্ভর নয়। হৃদপেশি একমাত্র হৃৎপিরে। প্রাচীরে অবস্থান করে। হৃৎপিন্ডের সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে প্রাণিদেহে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করাই হৃদপেশির কাজ।

৪. স্নায়ুকলা : স্নায়ুকলা অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন কোষের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত-

i. কোষদেহ, ii. অ্যাক্সন ও iii. ডেনড্রাইট। নিউরনগুলো একটির সাথে অপরটির অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট সংযুক্ত হয়ে স্নায়ুকলা গঠন করে। এটি বাইরের বা দেহাভ্যন্তরীণ পরিবেশ থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে পরিবহন করে এবং তাতে প্রাণী সাড়া দেয়। বিভিন্ন উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্নায়ুটিস্যু মস্তিষ্কে স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে। প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গের শারীরবৃত্তীয় কাজের সমন্বয় সাধন ও নিয়ন্ত্রণ স্নায়ু কলার মাধ্যমেই ঘটে থাকে।

এসএসসি সকল বিষয় নোট PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর :

১। নিম্নের কোনটি প্রাণী কোষে বিদ্যামান?

ক. ক্রোমোপ্লাস্ট  খ. ক্লোরোপ্লাস্ট গ. কোষপ্রাচীর ঘ. সেন্ট্রোসোম     

 উত্তর:  সেন্ট্রোসোম।

২। কেন্দ্রিকা অনুপস্থিত থাকে কোন কোষে?

ক. ট্রাকিড খ. ভেসেল গ. সঙ্গীকোষ  ঘ. পরিণত সীভকোষ  

উত্তর : পরিণত সীভকোষ  ।

৩. লাইসোসোমের কাজ কোনটি?

ক. খাদ্য তৈরি         খ. শক্তি উৎপাদন          গ. জীবাণুভক্ষণ              ঘ. আমিষ সংশ্লেষণ

উত্তর : গ. জীবাণুভক্ষণ

৪. অ্যামিবা একটি প্রাণিকোষ কারণ এর-

i. কেন্দ্রিকার গঠন সুসম্পূর্ণ

ii. বর্ণ গঠনকারী অঙ্গ আছে

iii. কোষ ঝিল্লি দেখা যায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক.  i ও ii          খ. i ও iii              গ ii ও iii            ঘ i, ii ও iii

উত্তর : খ. i ও iii  

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :

রোহিত গ্রামের বাড়িতে যাবার সময় দেখল একজন লোক পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছে।

৫. উদ্দীপকের সংগৃহীত অংশটিতে কোন ধরনের টিস্যু বিদ্যমান?

ক. প্যারেনকাইমা।          খ. কোলেনকাইমা         গ. ক্লোরেনকাইমা          ঘ. স্কেলেরেনকাইমা

উত্তর: ঘ. স্কেলেরেনকাইমা

৬. উদ্দীপকের সংগৃহীত অংশের টিস্যুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে

i. কোষপ্রাচীর লিগনিনযুক্ত

ii. কোষপ্রাচীরের পুরুত্ব অসমান

iii. কোষে প্রোটোপ্লাজম অনুপস্থিত।

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii      খ. i ও iii             গ. i ও iii            ঘ i, ii ও iii

উত্তর : খ. i ও iii      

৭. পরিণত অবস্থায় কোনটিতে নিউক্লিয়াস থাকে না?

ক. সঙ্গীকোষ      খ. সিভকোষ       গ. ভেসেল         ঘ. ট্রাকিড

উত্তর: খ. সিভকোষ

৮. রক্তরসে জৈব ও অজৈব পদার্থের শতকরা পরিমাণ কত?

ক. ৮-৯%     খ. ১০-১২%      গ. ১৫-২০%          ঘ. ২৫-৩০%

উত্তর : ক. ৮-৯%    

৯. নিউরণ থেকে নিউরনে উদ্দীপনা বহন করে কোনটি?

ক. অ্যাক্সন     খ. কোষদেহ       গ. সিনাপস    ঘ. ডেনড্রোন

উত্তর: গ. সিনাপস

১০. কোনটি প্লাস্টিড নয়?

ক. ক্লোরোপ্লাস্ট       খ. টনোপ্লাস্ট    গ. ক্রোমোপ্লাস্ট     ঘ. লিউকোপ্লাস্ট

উত্তর: খ. টনোপ্লাস্ট

১১। রবার্টহুক কত সালে কোষ আবিষ্কার করেন?

ক. ১৯৫৬ সালে খ. ১৯৬৫ সালে গ. ১৬৬৫ সালে ঘ. ১৭৬৫ সালে  

উত্তর : গ. ১৬৬৫ সালে।

১২। প্রাণীদের শ্বাসনালির প্রাচীরে কোন ধরনের আবরণী টিস্যু দেখা যায়?

ক. সিলিয়াযুক্ত খ. ফ্লাজেলাযুক্ত গ. ক্ষণপদযুক্ত   ঘ. গ্রন্থিযুক্ত

উত্তর : ক. সিলিয়াযুক্ত।

১৩। সিস্টার্নি থাকে কোনটিতে?

ক. সেন্ট্রোসোম    খ. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম   গ. গলজি ‘বস্তু   ঘ. লাইসোসোম  

উত্তর : খ. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম।

১৪। নিচের কোনটি জীবকোষে আমিষ সংশ্লেষণের সাথে জড়িত?

ক. রাইবোজোম খ. গলজি বস্তু  গ. লাইসোজোম    ঘ. কোষগহবর

উত্তর : ক. রাইবোজোম ।

১৫। সরল টিস্যু কত প্রকার?

ক. ৫ খ. গ. ৩ ঘ. ২

উত্তর : গ. ৩ ।

১৬। প্রাণী কোষে পাওয়া যায়-

ক. ক্রোমোপ্লাস্ট   খ. কোষপ্রাচীর  গ. কোষ গহ্বর  ঘ. সেন্ট্রিওল 

উত্তর : ঘ. সেন্ট্রিওল।

এসএসসি ভূগোল সাজেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন

১৭। ক্রিষ্টি কোনটির অংশ?

ক. ক্লোরোপ্লাস্ট খ. নিউক্লিয়াস গ. মাইটোকন্ড্রিয়া ঘ. রাইবোসোম

উত্তর : গ. মাইট্রোকন্ড্রিয়া।

১৮। পাতায় মোসোফিল কলা কোন ধরনের টিস্যু?

ক. প্যারেনকাইমা খ. কোলেনকাইমা গ. স্কেলেরেনকাইমা ঘ. জাইলেম

উত্তর : ক. প্যারেনকাইমা ।

১৯। কোন কলায় ল্যাকিউনি উপস্থিত?

ক. অস্থি খ. তরুনাস্থি গ. তরল যোজক ঘ. জনন কোষ 

উত্তর : খ. তরুনাস্থি।

২০। কোষ ঝিল্লির রয়েছে-

i.দ্বিস্তর          ii. কার্বহাইড্রেট ও প্রোটিন         iii. মাইক্রোভিল্লি

নিচের কোনটি সঠিক ?

ক. i ও ii         খ. i ও iii   গ. ii ও  iii   ঘ. i,ii ও iii 

উত্তর : ক. ii ও iii

২১। প্যারেনকাইমা টিস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-

i.পাতলা প্রাচীরযুক্ত         ii. আন্তঃকোষীয়ফাঁক থাকে         iii. স্টোনসেল থাকে

নিচের কোনটি সঠিক ?

ক. i ও ii        খ. i ও iii   গ. ii ও  iii   ঘ. i,ii ও iii 

উত্তর : ক. i ও ii ।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর পেতে এখানে ক্লিক করুন

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন-১: নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. প্লাজমালেমা কী?

খ. প্লাস্টিডকে বর্ণঠনকারী অঙ্গ বলা হয় কেন?

গ. জীবজগতের জন্য N চিহ্নিত অংশটি গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. M চিহ্নিত অংশটির অনুপস্থিতিতে জীবদেহে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিবে তা বিশ্লেষণ কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

. কোষের প্রোটোপ্লাজমের বাইরে যে দ্বিস্তরবিশিষ্ট পর্দা থাকে তাই প্লাজমালেমা।

. প্লাস্টিডগুলোর মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্রোমোপ্লাস্টে বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ যেমন : ক্লোরোফিল, জ্যান্থোফিল, ক্যারোটিন, ফাইকো-এরিথ্রিন, ফাইকো সায়ানিন ইত্যাদি বর্ণ কণিকা থাকে যেগুলোর কারণে পাতা, ফুল, সবুজ, ফল, হলুদ, কমলা, লাল বা। নীল হয়ে থাকে। যেহেতু প্লাস্টিডের কারণেই উদ্ভিদের এ ধরনের বর্ণ বিচিত্রতা দেখা যায়, সে কারণে প্লাস্টিডকে বর্ণ গঠনকারী অঙ্গ বলা হয়।

গ. N চিহ্নিত অংশটির নাম ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি একটি কোষ অঙ্গাণু এবং সবুজ রঞ্জক পদার্থ ক্লোরোফিল ধারণ করে, তাই একে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার দ্বারা শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। একমাত্র সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়ে খাদ্যে আবদ্ধ হয়। এ কাজটি ক্লোরোপ্লাস্ট দ্বারা সম্পূর্ণ হয়। এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুর CO2 শোষিত হয় এবং O2 উৎপন্ন হয়। ক্লোরোপ্লাস্ট প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর CO2 শোষণ করে এবং সকল জীবের সনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় 02 সরবরাহ করে জীবজগতকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্ট এর সাহায্যে প্রস্তুতকৃত খাদ্য শর্করা উদ্ভিদে সঞ্চিত থাকে। যা প্রাণিকুলের খাদ্যের একমাত্র উৎস। এ জন্য উদ্ভিদকোষের ক্লোরোপ্লাস্ট জীবজগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ অঙ্গাণু।

এসএসসি সকল বিষয় নোট PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন

. উদ্দীপকের চিত্রের M অংশটি একটি প্রাণিকোষে থাকে। M চিহ্নিত অংশটি কোষ অঙ্গাণু- সেন্ট্রিওল যার অনুপস্থিতিতে প্রাণীদেহে কোষ বিভাজনে সমস্যা দেখা দিবে। সেন্ট্রিওল প্রাণিকোষ বিভাজনের সময় এস্টার-রে গঠন করে যা বিস্তৃত হয়ে মাকুতন্ত্র গঠন করে। মাকুতন্ত্র ক্রোমোসোমের প্রান্তীয় গমনে সহায়তা করে। কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় এবং তন্তুর সংকোচনে ক্রোমোসোমগুলো বিপরীত মেরুর দিকে চলে যায়। শেষে দুটি অপত্যকোষ সৃষ্টি হয় যার ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার সমান থাকে। যদি কোষে সেন্ট্রিওল না থাকত তাহলে কোষে মাকুতন্ত্র সৃষ্টি হতো এবং ক্রোমোসোমগুলোর বিপরীত মেরুর দিকে যাওয়া বিঘ্নিত হতো। ফলে কোষটিতে ক্রোমোসোম সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে একটি অস্বাভাবিক কোষের সৃষ্টি হতো এবং কোনো জীবের প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকত না। এছাড়া কোনো বিভাজিত কোষের সেন্ট্রিওল নষ্ট হয়ে গেলে, সে কোষ থেকে সৃষ্ট অস্বাভাবিক কোষটির অস্বাভাবিক বিভাজনের ফলে টিউমার অথবা অনেক সময় ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং বলা যায় সেন্ট্রিওল প্রাণীকোষে একটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ অঙ্গাণু।

প্রশ্ন-২ নিচের চিত্রদ্বয় দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. পেশি টিস্যু কী?

খ. স্কেলিটাল টিস্যু কীভাবে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে?

গ. চিত্রের Q চিহ্নিত অংশটির ঐরূপ অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. চিত্র A ও B-এর মধ্যে একটি পরিবহন কাজ ছাড়াও অন্যান্য জৈবিক কাজে কীভাবে ভূমিকা রাখে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

. ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে তৈরি সংকোচন প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের টিস্যুকে পেশি টিস্যু বলে।

. দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু বলে। মানুষের মস্তিষ্ককে আবৃত করে রাখে অন্তঃকঙ্কাল করোটিকা। করোটিকা এক ধরনের স্কেলিটাল টিস্যু যা ৮টি শক্ত অস্থি দ্বারা গঠিত। অস্থিগুলো ঘন সন্নিবেশিত ও দৃঢ় সংলগ্ন হয়ে মস্তিষ্ককে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

. চিত্রের Q চিহ্নিত অংশটি সঙ্গীকোষসহ একটি সিভকোষের প্রস্থচ্ছেদের চিত্র। প্রতিটি সিভকোষের সাথে একটি করে সঙ্গীকোষ থাকে। সঙ্গীকোষটি প্যারেনকাইমা জাতীয়। এর নিউক্লিয়াসের আকার বেশ বড়। সঙ্গীকোষ প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ ও পাতলা প্রাচীর যুক্ত। অপরদিকে পরিণত সিভকোষে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না। ধারণা করা হয়, সঙ্গীকোষের নিউক্লিয়াস সিভকোষের কার্যাবলি কিছু পরিমাণে হলেও নিয়ন্ত্রণ করে। সম্ভবত এটাই প্রতিটি সিভকোষের সাথে একটি করে সঙ্গীকোষের অবস্থানের কারণ।

. উদ্দীপকের চিত্র A উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ— ভাসকুলার বান্ডল এর ফ্লোয়েম অংশের সিভনলের চিত্র এবং চিত্র B মানব তরল যোজকটিস্যু রক্তের কণিকা। এ দুই ধরনের টিস্যু দেহের পরিবহনতন্ত্রের অংশ হলেও B অর্থাৎ রক্তকণিকা পরিবহন ছাড়াও অন্যান্য জৈবিক কাজে ভূমিকা রাখে। উদ্ভিদে ফ্লোয়েমের কাজ হচ্ছে প্রস্তুতকৃত খাদ্যকে পাতা থেকে দেহের বিভিন্ন টিস্যু ও কোষে পরিবহন করা। কিন্তু রক্তের রক্ত কণিকাগুলো পরিবহন ছাড়া বিভিন্ন জৈবিক কাজ করে। লোহিত। রক্তকণিকা ফুসফুস থেকে অক্সিজেনকে বিভিন্ন টিস্যুতে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে CO2 কে ফুসফুসে বহন করে এনে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা করে। শ্বেত কণিকাগুলো দেহের জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রক্তের তরল অংশ রক্তরস বিভিন্ন জৈব ও অজৈব খাদ্যরস, বর্জ্যপদার্থ, পানি, হরমোন ইত্যাদি দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বহন করে নিয়ে যায়। এছাড়া দেহের কোথাও কেটে ছিড়ে গেলে রক্তের অনুচক্রিকা রক্তরসকে জমাট বাঁধিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। উপরিউক্ত ব্যাখ্যা থেকে দেখা যায় যে, চিত্রের A ও B অর্থাৎ সিভনল ও রক্তকণিকার মধ্যে রক্তকণিকা পরিবহন ছাড়াও অন্যান্য জৈবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন -৩ : নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. টিস্যু কী?

খ. অ্যামিবা কোন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব? কেন?

গ. R-এর গঠন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

ঘ. R-এর অনুপস্থিতিতে জীবকুলে কী ঘটবে বিশ্লেষণ কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

. টিস্যু হলো একই গঠনবিশিষ্ট একগুচ্ছ কোষ যারা একত্রিত হয়ে একই কাজ করে এবং তাদের উৎপত্তি অভিন্ন হয়।

. অ্যামিবা এককোষী এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট জীব। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো অ্যামিবা এর মধ্যে থাকার কারণে এদের প্রোটিস্টা (Protista) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

. উদ্দীপকে R একটি প্লাস্টিডের ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট চিত্র। চিত্রের প্লাস্টিডটি ক্লোরোফিল ধারণ করে তাই একে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্ট দুটি একক পর্দা বহিঃঝিল্লি ও অন্তঃঝিল্লি দ্বারা বেষ্টিত। এর মধ্যে তরল ম্যাট্রিক্স থাকে, একে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমায় অসংখ্য চাকতির মত বস্তু স্তরে স্তরে সাজানো থাকে এদের বাঁধিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। উপরিউক্ত ব্যাখ্যা থেকে দেখা যায় যে, চিত্রের A ও B অর্থাৎ সিভনল ও রক্তকণিকার মধ্যে রক্তকণিকা পরিবহন ছাড়াও অন্যান্য জৈবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রানা বলে এবং এক একটি চাকতিকে থাইলাকয়েড বা গ্রানাম চক্র বলে। গ্রানাম চক্র সূক্ষ্ম নালিকা দিয়ে যুক্ত থাকে। গ্রানাম চক্রের সংযোগকারী এসব নালিকার নাম স্ট্রোমা ল্যামেলাস।

. উদ্দীপকের R একটি প্লাস্টিডের অতি অণুবীক্ষণীক চিত্র। আমরা জানি, উদ্ভিদে তিন ধরনের প্লাস্টিড থাকে যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট এর কাজ হচ্ছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে প্রস্তুতকৃত খাদ্যের মধ্যে শক্তি আবদ্ধ করা। এছাড়া এ প্রক্রিয়ায় CO2 গ্রহণ করে এবং বায়ুমন্ডলে O2 ত্যাগ করে। ফলে বায়ুমন্ডলে O2 ও CO2 এর অনুপাত রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লোরোপ্লাস্ট বিশেষ ভূমিকা রাখে যা জীবকুলের শ্বসনের জন্য অপরিহার্য। ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলকে নানা বর্ণে রঙিন করে পতঙ্গ ও অন্যান্য জীবকে আকৃষ্ট করে পরাগায়নে সাহায্য করে। ফলে উদ্ভিদের ফল হয়। ফল উদ্ভিদের বংশ বিস্তারে এবং জীবকুলের খাদ্যের যোগানে সাহায্য করে। লিউকোপ্লাস্ট উদ্ভিদে খাদ্য সঞ্চয়ে সহায়তা করে। এই খাদ্য। পরবর্তীতে বিভিন্ন জীব খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। উপযুক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় উদ্দীপকের R অর্থাৎ ক্লোরোপ্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষে না থাকলে সালোকসংশ্লেষণ হতো। ফলে জীবকুল খাদ্য পেত না এবং পরিবেশে O2 ও CO2 এর ভারসাম্য রক্ষা হতো না, এর ফলে জীবকুল ধ্বংস হয়ে যেত।

প্রশ্ন-৪ : নিচের চিত্রটি দেখ এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

ক. জাইগোট কী?

খ. মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তিঘর বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. P-চিত্রের উপাদানটির গঠন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

ঘ. ‘A’ চিহ্নিত অংশটি পুরুষানুক্রমে বংশের বৈশিষ্ট্য। বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্লেষণ কর।

৪নং প্রশ্নের সমাধান

ক. জীবে শুক্রাণু ও ডিম্বানুর মিলনের ফলে যে কোষ উৎপন্ন হয়, সেটি জাইগোট।

খ. জীবের জৈবিক কাজ সম্পাদনের জন্য শক্তির প্রয়োজন। শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয় কোষ অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতর ঘটে। জীবের শ্বসনের দ্বিতীয় ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক এখানে থাকে। ক্রেবস চক্রেই সর্বাধিক শক্তি ATP উৎপন্ন হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।

গ. P চিত্রের উপাদানটি হলো নিউক্লিয়াস। এর বিভিন্ন অংশের গঠন বৈশিষ্ট্য নিচে বর্ণনা করা হলো :

  • নিউক্লিয়ার ঝিল্লি : নিউক্লিয়াসকে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লি তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লি বা কেন্দ্রিকা ঝিল্লি বলে। এটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট ঝিল্লি। এ ঝিল্লি লিপিড ও প্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত। এ ঝিল্লিতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে একে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে।
  • নিউক্লিওপ্লাজম : কেন্দ্রিকা ঝিল্লির অভ্যন্তরে জেলির ন্যায় বস্তু বা রসকে কেন্দ্রিকারস বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে।
  • নিউক্লিওলাস : কেন্দ্রিকারসের মধ্যে ক্রোমোসোমের সাথে লাগানো গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাণু বলে। ক্রোমোসোমের রঙগ্রাহী অংশের সাথে এরা লেগে থাকে। এরা লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
  • ক্রোমাটিন জালিকা : কোষের বিশ্রামকালে নিউক্লিয়াসে কুন্ডলী। পাকানো সূক্ষ্ম সুতার ন্যায় অংশই ক্রোমাটিন জালিকা। কোষ। বিভাজনের সময় এটা মোটা ও খাটো হয় তাই তখন তাকে আলাদা আলাদা ক্রোমোসোম হিসেবে দেখা যায়।

. উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘A’ চিহ্নিত অংশটি হলো ক্রোমোসোম। ক্রোমোসোমের প্রধান উপাদান ডিএনএ যা জিনের রাসায়নিক রূপ। জীবের সকল অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন। ক্রোমোসোমের গায়ে সন্নিবেশিত থাকে অসংখ্য জিন বা বংশগতির একক। ক্রোমোসোম জিনকে সরাসরি বহন করে পিতা মাতা থেকে তাদের পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। অর্থাৎ ক্রোমোসোমের কাজ হলো মাতাপিতা হতে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে) সন্তান সন্ততিতে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোসোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এ কারণে ক্রোমোসোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তিও বলা হয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় ক্রোমোসোম পুরুষানুক্রমে বংশের বৈশিষ্ট্য বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল লিঙ্ক

2 thoughts on “জীববিজ্ঞান (Biology)-দ্বিতীয় অধ্যায়”

Leave a Comment